বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জনের পরও যে চাকরি নিশ্চিত হয় না, তারই বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছেন ভারতের আবিজয় ভুইয়ুরু। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ সম্পন্ন করার পরও দীর্ঘ সময় চাকরি না পেয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাতে হয়েছে তাকে। তবে ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং সঠিক যোগাযোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তিনি জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে।
প্রযুক্তি খাতে বড় স্বপ্ন
ছাত্রজীবন থেকেই বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার স্বপ্ন ছিল আবিজয়ের। ২০১৭ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তথ্যবিজ্ঞান ও পণ্য ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত ছিলেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে এমবিএ শুরু করেন।
তবে সেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজার অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। শুধু ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাওয়া সহজ নয়।
প্রত্যাখ্যানের পর প্রত্যাখ্যান
গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য শুরুতে তিনি প্রচলিত নিয়মে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইতিবাচক সাড়া পাননি। একের পর এক প্রত্যাখ্যান তাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে।
পরে তিনি নিয়োগদাতা ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শতাধিক বার্তা পাঠিয়ে সম্ভাব্য সুযোগ খুঁজতে থাকেন। অনেকেই সাড়া না দিলেও কিছু যোগাযোগ তার জন্য নতুন দরজা খুলে দেয়।
অ্যাপলে সুযোগ, কিন্তু স্থায়ী নয়
এই প্রচেষ্টার ফল হিসেবে তিনি একটি শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে পণ্য ব্যবস্থাপক হিসেবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। সফলভাবে কাজ শেষ করলেও সেটি স্থায়ী চাকরিতে রূপ নেয়নি। ফলে আবারও তাকে নতুন করে চাকরির সন্ধানে নামতে হয়।
হার্ভার্ড শেষ, অনিশ্চয়তা শুরু
২০২৪ সালের মে মাসে হার্ভার্ড থেকে এমবিএ সম্পন্ন করার সময়ও তার হাতে কোনো পূর্ণকালীন চাকরির প্রস্তাব ছিল না। শিক্ষাঋণ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলে।

এ সময় তিনি একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করেন। কিন্তু সেখান থেকেও স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাননি। ফলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
ভিসার চাপের মধ্যে লড়াই
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চাকরি না পেলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ হারানোর আশঙ্কা ছিল তার। এমন পরিস্থিতিতে তিনি একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যুক্ত হন। এই সুযোগ তাকে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি চাকরি খোঁজার জন্য প্রয়োজনীয় সময় এনে দেয়।
তবে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার স্বপ্ন থেকে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও সরে আসেননি।
অবশেষে গুগলে যোগদান
চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসে হার্ভার্ডের এক সাবেক সহপাঠীর মাধ্যমে। ওই সহপাঠী তাকে গুগলের একটি দলে খালি পদ সম্পর্কে জানান এবং সুপারিশ করেন।
এরপর কয়েক ধাপের সাক্ষাৎকার সফলভাবে সম্পন্ন করে তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে গুগলে যোগ দেন। হার্ভার্ড থেকে স্নাতক হওয়ার প্রায় ছয় মাস পর পূরণ হয় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
সংগ্রাম থেকে পাওয়া শিক্ষা
বর্তমানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের ব্যবহৃত বিভিন্ন সেবার উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত রয়েছেন আবিজয়। তার মতে, শুধু নামী প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি নয়, পেশাগত যোগাযোগ, ধৈর্য এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টাও সাফল্যের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তার অভিজ্ঞতা অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তিনি দেখিয়েছেন, সাময়িক ব্যর্থতা কিংবা অনিশ্চয়তা কোনো পথের শেষ নয়। লক্ষ্য অর্জনে অবিচল থাকলে একদিন সাফল্য ধরা দিতেই পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















