খুলনায় একটি নারকেল গাছ থেকে পড়ে যাওয়া রহস্যময় এক প্রাণীকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রথমে অনেকেই প্রাণীটিকে কাঠবিড়ালি বলে মনে করলেও পরে ধারণা করা হচ্ছে এটি বিরল কোনো বন্যপ্রাণী, যার মধ্যে সুগার গ্লাইডার বা গন্ধগোকুল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রাণীটিকে বর্তমানে নিরাপদে রেখে পরিচর্যা করা হচ্ছে এবং বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
উদ্ধার ও পরিচর্যার গল্প
খুলনার ফটো সাংবাদিক এম এম মিন্টুর বাসার একটি নারকেল গাছ থেকে প্রাণীটি নিচে পড়ে যায়। সেই সময় একটি বিড়াল প্রাণীটির ওপর আক্রমণের চেষ্টা করলে মিন্টুর স্ত্রী লাভলি বেগম দ্রুত সেটিকে উদ্ধার করেন। এরপর প্রাণীটিকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে যত্ন নেওয়া শুরু করেন।
বর্তমানে প্রাণীটি সুস্থ আছে বলে জানা গেছে। এটি পানি পান করছে এবং আম, কাঁঠাল, কলাসহ বিভিন্ন ফলমূল খাচ্ছে। ভাতও খাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। প্রাণীটিকে পুনর্বাসনের জন্য বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

এলাকাজুড়ে কৌতূহল
অদ্ভুত দেখতে প্রাণীটির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেটিকে দেখতে আশপাশের মানুষজন ভিড় করছেন। স্থানীয়দের অনেকেই এর প্রকৃত পরিচয় জানতে আগ্রহী। প্রাণীটির ছবি ও বর্ণনা দেখে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে।
সুগার গ্লাইডার নাকি গন্ধগোকুল?
প্রাণীবিদদের মতে, সুগার গ্লাইডার একটি ছোট আকৃতির নিশাচর প্রাণী, যা সাধারণত অস্ট্রেলিয়া, নিউ গিনি ও ইন্দোনেশিয়ার অঞ্চলে দেখা যায়। তাদের শরীরের দুই পাশের বিশেষ চামড়ার পর্দার সাহায্যে এক গাছ থেকে অন্য গাছে ভেসে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তারা মূলত গাছের রস, মধু, পরাগ ও ছোট পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে।

অন্যদিকে গন্ধগোকুল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাওয়া যায়। দেখতে কিছুটা বিড়ালের মতো হলেও এটি বিড়ালজাতীয় প্রাণী নয়। শরীর থেকে বিশেষ ধরনের সুগন্ধ ছড়ানোর কারণে প্রাণীটি বেশ পরিচিত। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি গাছখাটাশ, তালখাটাশ, পোলাও প্রাণীসহ নানা নামে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণের অপেক্ষা
খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাণীটির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে সরাসরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। উদ্ধারকৃত প্রাণীটি গন্ধগোকুলও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রাণী এ অঞ্চলে এখন প্রায় বিলুপ্তপ্রায় অবস্থায় রয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাণীটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের পর বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সঠিক পরিচয় জানা যাবে। ততদিন পর্যন্ত প্রাণীটি নিরাপদ আশ্রয়েই থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















