যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে পাকিস্তানের রপ্তানিকারকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ কার্যকর হলেও দেশের রপ্তানি খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
রপ্তানিকারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় যে শুল্ক আরোপ করা হয়, তা শেষ পর্যন্ত আমদানিকারকদেরই বহন করতে হয়। ফলে পাকিস্তানি পণ্য মার্কিন বাজারে তুলনামূলকভাবে বেশি দামে পৌঁছালেও এর সরাসরি চাপ রপ্তানিকারকদের ওপর পড়ে না।
আগেই উচ্চ শুল্কের মুখে পাকিস্তানি পণ্য
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, পাকিস্তানের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের ওপর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুল্ক বিদ্যমান। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক যোগ হওয়ায় মোট করের বোঝা আরও বেড়েছে।
তাদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা এখন আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। কারণ উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানির মূল্য, সুদের হার এবং আমদানিনির্ভর কাঁচামালের খরচ পাকিস্তানে অনেক বেশি।

মার্কিন বাজারে দাম বাড়ার আশঙ্কা
রপ্তানিকারকদের মতে, অতিরিক্ত শুল্কের ফলে পাকিস্তানি পণ্যের দাম মার্কিন বাজারে আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে ক্রেতারা বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তবে তারা আশা করছেন, বর্তমান অতিরিক্ত শুল্কের মেয়াদ শেষ হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
তাদের দাবি, যদি এই অতিরিক্ত শুল্ক ভবিষ্যতে আর বহাল না থাকে, তাহলে পাকিস্তানি পণ্য মূল্যগত সুবিধা পেতে পারে এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে পাকিস্তানের সুবিধা
সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের বাণিজ্য ভারসাম্য এখনও পাকিস্তানের পক্ষেই রয়েছে। দেশটিতে পাকিস্তানের রপ্তানি আমদানির তুলনায় অনেক বেশি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের রপ্তানি পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল এর প্রায় অর্ধেক। গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়লেও রপ্তানিও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উৎপাদন ব্যয় বড় চ্যালেঞ্জ
ব্যবসায়ী মহলের মতে, পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা অতিরিক্ত শুল্ক নয়, বরং উৎপাদন ব্যয়ের উচ্চতা। প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, অর্থায়ন এবং কাঁচামালের খরচ বেশি হওয়ায় পাকিস্তানি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।
তারা সতর্ক করে বলেন, যদি দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত শুল্ক বহাল থাকে এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে রপ্তানি খাত চাপের মুখে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















