০৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
এআই উন্মাদনায় ছোট কোম্পানির উত্থান, কিন্তু সামনে কি কঠিন বাস্তবতা? ইতিহাসের মর্যাদা নয়, আজকের আচরণই আন্তর্জাতিক বৈধতার মাপকাঠি ভোটাধিকার কাগজে থাকলেই কি যথেষ্ট? আদালত, নির্বাচন ও নাগরিক আস্থার সংকট ফিফার অ্যালবামে বাংলাদেশের সঞ্জয়, শাকিরা-বার্না বয়ের পাশে নতুন গৌরব এল নিনো ও উষ্ণ সমুদ্রের প্রভাবে জাপানে শক্তিশালী টাইফুনের আশঙ্কা কক্সবাজারে ভয়াবহ লোডশেডিং, গরমে অতিষ্ঠ পর্যটকরা আগেভাগেই ফিরছেন তাপপ্রবাহ অব্যাহত পাঁচ বিভাগে, বৃষ্টির আভাস দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর গাজায় ভোরের হামলায় নিহত ৯, একই পরিবারের ৫ সদস্যের মৃত্যু লেবাননে হামলা চলছেই, তবু যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল-লেবানন বাগেরহাটের মাজারের কুমির ফেরত চেয়ে খাদেমদের বিক্ষোভ

সংস্কৃতি চর্চায় বাধা নয়, নিশ্চিত হোক সবার স্বাধীন অধিকার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার ঘটনা নতুন করে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর চাপের মুখে আয়োজন বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি শুধু একটি অনুষ্ঠান বাতিলের ঘটনা নয়, বরং নাগরিকদের সাংস্কৃতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

ঈদের ছুটিতে স্থানীয় একটি চলচ্চিত্র সংগঠন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। কিন্তু একটি সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর বিরোধিতা শুরু করে এবং প্রকাশ্যে প্রদর্শনী বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। পরে আয়োজকেরা নিরাপত্তা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কায় অনুষ্ঠান স্থগিত করতে বাধ্য হন।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ওঠা অভিযোগ। আয়োজকেরা দাবি করেছেন, তারা সহায়তার জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কার্যকর কোনো সহযোগিতা পাননি। এমনকি পরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অন্য একটি স্থানে প্রদর্শনীর চেষ্টা করা হলেও সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাংলা চলচ্চিত্রের সৃষ্টি লগ্ন থেকে ক্রমবিকাশের ধারা : মনোজিৎকুমার দাস

যে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের কথা ছিল, সেটি দেশের প্রচলিত আইন ও নিয়ম মেনে অনুমোদন পেয়েছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রদর্শিত হয়েছে। ফলে এর প্রদর্শনী ঠেকানোর চেষ্টা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ বলেই মনে হচ্ছে।

ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার আছে, বাধা দেওয়ার নয়

গণতান্ত্রিক সমাজে যেকোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়ে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। কেউ কোনো অনুষ্ঠান বা শিল্পকর্মের সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন। তবে সেই মত প্রকাশের পথ হতে হবে শান্তিপূর্ণ ও আইনি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অন্যের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অধিকার নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাউল গানের আসর কিংবা ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার দৃশ্যমান পদক্ষেপের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর ফলে কিছু গোষ্ঠী নিজেদের ক্ষমতাবান মনে করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সুরক্ষা জরুরি

বাংলাদেশের সমাজ বহু শতাব্দী ধরে সহনশীলতা, বৈচিত্র্য ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত কিংবা অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সেই ঐতিহ্যেরই অংশ। কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ বা হুমকির কারণে এসব আয়োজন বন্ধ হয়ে গেলে সমাজের গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাংলার সংস্কৃতির উৎসগুলো

এ ধরনের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একটি আধুনিক রাষ্ট্রে নাগরিকদের সাংস্কৃতিক চর্চা, সৃজনশীলতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

অবাধ সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে

সরকার ও প্রশাসনের উচিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও সক্রিয় ও দৃঢ় ভূমিকা নেওয়া। কোনো গোষ্ঠীর চাপ বা ভয়ভীতির কারণে সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ হওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেখানে সব মত, বিশ্বাস ও চিন্তার মানুষ নিরাপদে এবং স্বাধীনভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক শক্তি তার বৈচিত্র্য ও সহনশীলতায়। সেই ভিত্তি অক্ষুণ্ন রাখতে হলে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই উন্মাদনায় ছোট কোম্পানির উত্থান, কিন্তু সামনে কি কঠিন বাস্তবতা?

সংস্কৃতি চর্চায় বাধা নয়, নিশ্চিত হোক সবার স্বাধীন অধিকার

০১:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী স্থগিত হওয়ার ঘটনা নতুন করে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর চাপের মুখে আয়োজন বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি শুধু একটি অনুষ্ঠান বাতিলের ঘটনা নয়, বরং নাগরিকদের সাংস্কৃতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

ঈদের ছুটিতে স্থানীয় একটি চলচ্চিত্র সংগঠন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। কিন্তু একটি সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর বিরোধিতা শুরু করে এবং প্রকাশ্যে প্রদর্শনী বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। পরে আয়োজকেরা নিরাপত্তা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কায় অনুষ্ঠান স্থগিত করতে বাধ্য হন।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ওঠা অভিযোগ। আয়োজকেরা দাবি করেছেন, তারা সহায়তার জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কার্যকর কোনো সহযোগিতা পাননি। এমনকি পরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অন্য একটি স্থানে প্রদর্শনীর চেষ্টা করা হলেও সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাংলা চলচ্চিত্রের সৃষ্টি লগ্ন থেকে ক্রমবিকাশের ধারা : মনোজিৎকুমার দাস

যে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের কথা ছিল, সেটি দেশের প্রচলিত আইন ও নিয়ম মেনে অনুমোদন পেয়েছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রদর্শিত হয়েছে। ফলে এর প্রদর্শনী ঠেকানোর চেষ্টা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ বলেই মনে হচ্ছে।

ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার আছে, বাধা দেওয়ার নয়

গণতান্ত্রিক সমাজে যেকোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়ে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। কেউ কোনো অনুষ্ঠান বা শিল্পকর্মের সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন। তবে সেই মত প্রকাশের পথ হতে হবে শান্তিপূর্ণ ও আইনি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অন্যের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অধিকার নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাউল গানের আসর কিংবা ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার দৃশ্যমান পদক্ষেপের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর ফলে কিছু গোষ্ঠী নিজেদের ক্ষমতাবান মনে করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সুরক্ষা জরুরি

বাংলাদেশের সমাজ বহু শতাব্দী ধরে সহনশীলতা, বৈচিত্র্য ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য বহন করে আসছে। চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত কিংবা অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সেই ঐতিহ্যেরই অংশ। কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ বা হুমকির কারণে এসব আয়োজন বন্ধ হয়ে গেলে সমাজের গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাংলার সংস্কৃতির উৎসগুলো

এ ধরনের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একটি আধুনিক রাষ্ট্রে নাগরিকদের সাংস্কৃতিক চর্চা, সৃজনশীলতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

অবাধ সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে

সরকার ও প্রশাসনের উচিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও সক্রিয় ও দৃঢ় ভূমিকা নেওয়া। কোনো গোষ্ঠীর চাপ বা ভয়ভীতির কারণে সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ হওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেখানে সব মত, বিশ্বাস ও চিন্তার মানুষ নিরাপদে এবং স্বাধীনভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক শক্তি তার বৈচিত্র্য ও সহনশীলতায়। সেই ভিত্তি অক্ষুণ্ন রাখতে হলে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।