এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবে এ বছর স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই কৃষি উৎপাদন সুরক্ষায় আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিলে খাদ্যশস্য উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারতের কৃষি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পানি ব্যবস্থাপনা, বীজ সরবরাহ এবং ফসল পরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সমন্বিত কৌশল প্রণয়নে কাজ করছে। লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য ক্ষতি কমিয়ে কৃষকদের সহায়তা করা এবং খাদ্য উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা।
বর্ষা নিয়ে উদ্বেগ
আবহাওয়াবিষয়ক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি গড়ের প্রায় ৯০ শতাংশ বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে, যা সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাত কমিয়ে দিতে পারে।
এই পরিস্থিতি কৃষি খাতে উদ্বেগ তৈরি করলেও সরকার বলছে, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ দেশের জলাধারগুলোতে পানির মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।
![]()
জলাধারে পর্যাপ্ত পানি
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জলাধারগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি পানি সংরক্ষিত আছে। এই অতিরিক্ত পানি খরিফ মৌসুমে সেচের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের ধারণা, বৃষ্টিপাত প্রত্যাশার চেয়ে কম হলেও সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা এবং মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণের কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণ করা গেলে ফসলকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
কৃষকদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা
কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন, অঞ্চলভিত্তিক ও ফসলভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষকদের সময়মতো পরামর্শ প্রদান, প্রয়োজনীয় বীজ সরবরাহ, বিকল্প ফসলের ব্যবস্থা, দেরিতে বপনের উপযোগী পরিকল্পনা এবং খরা-সহনশীল জাতের ফসল চাষে উৎসাহ দেওয়া।

তিনি বলেন, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে বর্ষা মৌসুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় আগাম পদক্ষেপকে কৃষি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















