বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী হযরত খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের পুকুর থেকে কুমির সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খাদেমরা। তারা দ্রুত কুমিরটি আবার পুকুরে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
খাদেমদের দাবি, একটি দুর্ঘটনার কারণে বহু বছরের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে থাকা কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি করা যেতে পারে, কিন্তু কুমিরকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
কুমির সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনা যেকোনো জায়গাতেই ঘটতে পারে। তবে সে কারণে কুমির সরিয়ে নেওয়া যৌক্তিক নয়। তিনি দাবি করেন, কুমিরটি শুধু মাজারের নয়, বাগেরহাটের মানুষেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ এবং দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র।

গত সপ্তাহে কুমিরের আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যু হওয়ার তিন দিন পর বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় পুকুরের একমাত্র স্বাদুপানির কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে প্রাণীটি খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ফেরানোর দাবি
দর্শনার্থীদের একটি অংশ কুমির সরানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও তারা মনে করেন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কুমিরটি আবার ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা থেকে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ভবিষ্যতে শক্তিশালী বেষ্টনী ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে কুমিরটি আবার পুকুরে রাখা যেতে পারে।

সুস্থ রয়েছে কুমির
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুলনার পুনর্বাসন কেন্দ্রে কুমিরটি সুস্থ আছে এবং স্বাভাবিক আচরণ করছে। প্রাণীটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুমিরটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তা জনসাধারণকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
মাজারের ঐতিহ্য, জননিরাপত্তা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। কুমিরটিকে ফিরিয়ে আনা হবে নাকি অন্য কোথাও স্থায়ীভাবে রাখা হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের আগ্রহও বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















