গাজা উপত্যকায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যও রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরের আগে প্রায় একই সময়ে কয়েকটি আবাসিক ভবনে এই হামলা চালানো হয়।
একাধিক অ্যাপার্টমেন্টে হামলা
চিকিৎসক ও উদ্ধারকর্মীরা জানান, গাজার বিভিন্ন এলাকায় চারটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার ফলে ভবনগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
একটি হামলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বাবা-মাও ছিলেন। উদ্ধারকাজ চলাকালে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত আবাসিক ভবন
হামলার পর প্রকাশিত বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা যায়, একটি বহুতল ভবনের বড় অংশ ধসে পড়েছে। ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে গেছে এবং বিস্ফোরণের ধাক্কায় ধ্বংসাবশেষ সড়ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করে নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করেন। হামলার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি সংঘাত
দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও গাজায় হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সংঘাত চলাকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সদস্যদের হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হলেও এখনো স্থায়ী সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নতুন এই হামলা আবারও গাজার মানবিক সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে।
গাজার বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসা সেবার সংকট দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহলেও সংঘাত বন্ধে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















