১০:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
নেতা চলে গেলে কেন তার সঙ্গে পুরো দলও চলে যায়? সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের ২৫ বছর: নিরাপত্তার নামে আমেরিকার দীর্ঘ অতিরিক্ত-প্রতিক্রিয়ার হিসাব ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক খরা মোকাবিলার জরুরি পরিকল্পনা প্রকাশে ব্রিটিশ সরকারের ‘নিরাপত্তা’ যুক্তি, বাড়ছে উদ্বেগ ইউরোভিশন ২০২৭: রাজধানী সোফিয়াকে হারিয়ে আয়োজক হচ্ছে কৃষ্ণসাগরের শহর বুর্গাস পরমাণু বোমার আগের হিরোশিমা-নাগাসাকি ফিরিয়ে আনছে মাইনক্রাফটের কর্মশালা সাইনসবুরির দোকানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল শনাক্তকরণ, বন্ধ হলো মুখ স্ক্যান ব্যবস্থা ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’-খ্যাত অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়েরে ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন ভ্রমণে হালকা ব্যাগ? না, বরং বেশি করে সঙ্গে নিন! আফগান নারীদের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু অধিকার রক্ষা নয়, ভবিষ্যৎ আফগানিস্তানকে বাঁচিয়ে রাখা

কক্সবাজারে ভয়াবহ লোডশেডিং, গরমে অতিষ্ঠ পর্যটকরা আগেভাগেই ফিরছেন

ঈদ-পরবর্তী ছুটিতে পর্যটকে মুখর কক্সবাজার। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত নগরীর হোটেল-মোটেলগুলোতে এখন হাজার হাজার পর্যটকের ভিড়। তবে এই আনন্দমুখর পরিবেশের মাঝেই বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং। তীব্র গরম আর ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক পর্যটক নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

পর্যটকদের ভোগান্তি চরমে

পর্যটকদের অভিযোগ, দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় হোটেলগুলোতে স্বাভাবিকভাবে থাকা-খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ফ্যান বন্ধ থাকায় অসহনীয় গরমে থাকতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর লিফটে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে, যা আতঙ্ক তৈরি করছে পরিবার ও শিশুদের মধ্যে।

ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের অনেকেই জানিয়েছেন, ভ্রমণের আনন্দের বদলে তাদের সময় কাটছে ভোগান্তির মধ্যে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিকভাবে বিশ্রাম নেওয়াও সম্ভব হয়নি। ফলে অনেক পর্যটক আগেভাগেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ভয়াবহ লোডশেডিং, তীব্র গরমে বাধ্য হয়ে কক্সবাজার ছা...

হোটেল ব্যবসায়ীদের বাড়তি চাপ

লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন হোটেল ও রিসোর্ট মালিকরা। অতিথিদের সেবা সচল রাখতে বাধ্য হয়ে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে ডিজেল ও জ্বালানি ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ না থাকলে অতিথিদের অসন্তোষ বাড়ছে, পাশাপাশি বুকিং বাতিল ও আগাম চেকআউটের ঘটনাও বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন কয়েক দশ হাজার টাকা অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অর্জিত আয়ের বড় অংশই জেনারেটর চালাতে খরচ হয়ে যাচ্ছে।

তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে পর্যটন খাত বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেশি

তীব্র গরমের কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন শিশু ও বয়স্ক পর্যটকেরা। দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় হোটেল কক্ষগুলোতে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাইরে সময় কাটানোর চেষ্টা করলেও গরমের তীব্রতায় সেটিও কঠিন হয়ে পড়ছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কক্সবাজার দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় এখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

ভয়াবহ লোডশেডিং, কোনো ভাবেই কক্সবাজারে রাখা যাচ্ছে...

কেন হচ্ছে এত লোডশেডিং

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন ভোরে কলাতলী এলাকার একটি সাবস্টেশনের পাওয়ার ট্রান্সফরমারে ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিকল ট্রান্সফরমারের আওতাধীন ফিডারগুলোকে বিকল্প ব্যবস্থায় সচল রাখা হলেও পুরো চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমানে শহর ও হোটেল-মোটেল এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

কবে স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকল ট্রান্সফরমার মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

তবে ততদিন পর্যন্ত পর্যটক ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষকেই ভোগান্তির মধ্যে থাকতে হতে পারে। ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামার সময় এমন বিদ্যুৎ সংকট কক্সবাজারের পর্যটন খাতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

ভয়াবহ লোডশেডিং, কোনো ভাবেই কক্সবাজারে রাখা যাচ্ছে...

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতা চলে গেলে কেন তার সঙ্গে পুরো দলও চলে যায়?

কক্সবাজারে ভয়াবহ লোডশেডিং, গরমে অতিষ্ঠ পর্যটকরা আগেভাগেই ফিরছেন

০৩:১২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

ঈদ-পরবর্তী ছুটিতে পর্যটকে মুখর কক্সবাজার। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত নগরীর হোটেল-মোটেলগুলোতে এখন হাজার হাজার পর্যটকের ভিড়। তবে এই আনন্দমুখর পরিবেশের মাঝেই বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং। তীব্র গরম আর ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক পর্যটক নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

পর্যটকদের ভোগান্তি চরমে

পর্যটকদের অভিযোগ, দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় হোটেলগুলোতে স্বাভাবিকভাবে থাকা-খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ফ্যান বন্ধ থাকায় অসহনীয় গরমে থাকতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর লিফটে আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে, যা আতঙ্ক তৈরি করছে পরিবার ও শিশুদের মধ্যে।

ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকদের অনেকেই জানিয়েছেন, ভ্রমণের আনন্দের বদলে তাদের সময় কাটছে ভোগান্তির মধ্যে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিকভাবে বিশ্রাম নেওয়াও সম্ভব হয়নি। ফলে অনেক পর্যটক আগেভাগেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ভয়াবহ লোডশেডিং, তীব্র গরমে বাধ্য হয়ে কক্সবাজার ছা...

হোটেল ব্যবসায়ীদের বাড়তি চাপ

লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন হোটেল ও রিসোর্ট মালিকরা। অতিথিদের সেবা সচল রাখতে বাধ্য হয়ে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে ডিজেল ও জ্বালানি ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ না থাকলে অতিথিদের অসন্তোষ বাড়ছে, পাশাপাশি বুকিং বাতিল ও আগাম চেকআউটের ঘটনাও বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন কয়েক দশ হাজার টাকা অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে অর্জিত আয়ের বড় অংশই জেনারেটর চালাতে খরচ হয়ে যাচ্ছে।

তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে পর্যটন খাত বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেশি

তীব্র গরমের কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন শিশু ও বয়স্ক পর্যটকেরা। দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় হোটেল কক্ষগুলোতে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাইরে সময় কাটানোর চেষ্টা করলেও গরমের তীব্রতায় সেটিও কঠিন হয়ে পড়ছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কক্সবাজার দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় এখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

ভয়াবহ লোডশেডিং, কোনো ভাবেই কক্সবাজারে রাখা যাচ্ছে...

কেন হচ্ছে এত লোডশেডিং

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের দিন ভোরে কলাতলী এলাকার একটি সাবস্টেশনের পাওয়ার ট্রান্সফরমারে ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিকল ট্রান্সফরমারের আওতাধীন ফিডারগুলোকে বিকল্প ব্যবস্থায় সচল রাখা হলেও পুরো চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমানে শহর ও হোটেল-মোটেল এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

কবে স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকল ট্রান্সফরমার মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

তবে ততদিন পর্যন্ত পর্যটক ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষকেই ভোগান্তির মধ্যে থাকতে হতে পারে। ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামার সময় এমন বিদ্যুৎ সংকট কক্সবাজারের পর্যটন খাতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

ভয়াবহ লোডশেডিং, কোনো ভাবেই কক্সবাজারে রাখা যাচ্ছে...