টানা নয় সপ্তাহের উত্থানের পর বড় ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার। প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান তিনটি সূচকই তীব্র পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ করেছে। শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের পর সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর বাজারে বিক্রির চাপ আরও বেড়ে যায়। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক রেকর্ড গড়া বাজার হঠাৎ করেই নিম্নমুখী হয়ে পড়ে।
কর্মসংস্থান প্রতিবেদনেই বদলে গেল বাজারের চিত্র
মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭২ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি। বেকারত্বের হারও ৪ দশমিক ৩ শতাংশে স্থির রয়েছে।
এই তথ্য একদিকে অর্থনীতির শক্ত অবস্থানকে তুলে ধরলেও অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাকে দুর্বল করেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, চলতি বছর সুদের হার উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে, যা শেয়ারবাজারের জন্য নেতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি চাপ প্রযুক্তি ও চিপ খাতে
দিনের লেনদেনে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। সেমিকন্ডাক্টর খাতের সূচক মহামারিকালীন সময়ের পর সবচেয়ে বড় একদিনের পতন দেখেছে। এতে বাজারমূল্যের বিপুল অংশ মুছে গেছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার শেয়ার ৬ শতাংশের বেশি কমেছে। একই সঙ্গে ইন্টেল, এএমডি, মাইক্রন ও ব্রডকমের মতো বড় চিপ নির্মাতাদের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দাম অত্যন্ত দ্রুত বেড়েছিল। সেই অতিরিক্ত মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতেও এই বিক্রি বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাও বাড়াচ্ছে উদ্বেগ
বাজারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। অঞ্চলটিতে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চলাচল পুরোপুরি পুনরুদ্ধার না হওয়ায় জ্বালানি বাজার নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে তা আবারও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ অবস্থানে থাকার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
প্রধান সূচকগুলোর বড় পতন
দিন শেষে ডাও জোন্স সূচক প্রায় ৭০০ পয়েন্ট হারিয়ে ৫০ হাজার ৮৬৬ পয়েন্টে নেমে আসে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে যায়। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ পতন ঘটিয়ে এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় একদিনের ক্ষতির মুখে পড়ে।
বাজারজুড়ে বিক্রির চাপ এতটাই প্রবল ছিল যে, ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারের তুলনায় পতন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি ছিল।
সামনে কী দেখছেন বিনিয়োগকারীরা
যদিও দিনের পতন বড় ছিল, তবুও অনেক বাজার বিশ্লেষক মনে করছেন প্রযুক্তি খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা এখনো অটুট রয়েছে। তাদের মতে, এটি মূলত অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির পর স্বাভাবিক সংশোধন এবং সুদের হার নিয়ে উদ্বেগের সম্মিলিত প্রভাব।
তবে আগামী কয়েক মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সিদ্ধান্ত, কর্মসংস্থানের অবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শেয়ারবাজারের দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















