চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার তিন দিন পর ৬ শিশুসহ ২৮ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পুশইনের ওই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
তিন দিন শূন্যরেখার কাছে অবস্থান
সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২৮ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি তা প্রতিহত করে। এরপর তারা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করতে থাকে। কয়েকদিন ধরে তারা ভারতীয় অংশে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি।
শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম। তিনি জানান, প্রতিরোধের পর ওই ব্যক্তিরা ভারতের ভেতরে শূন্যরেখা থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করছিলেন।

রাতের আঁধারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়
বিজিবির পর্যবেক্ষণে বর্তমানে সীমান্তের ভারতীয় অংশে ওই ব্যক্তিদের আর দেখা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে।
তবে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি।
কী ঘটেছিল বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তে
গত ৪ জুন ভোররাতে বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তের ২০৩/৫-আর পিলারের কাছ দিয়ে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ জন শিশুকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত বিজিবিকে জানায়।

খবর পেয়ে বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফলে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি এবং তারা সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করতে বাধ্য হয়।
পতাকা বৈঠকেও মেলেনি সমাধান
ঘটনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার ও ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে ওই বৈঠকগুলোতে কোনো সমাধান আসেনি।
প্রাথমিকভাবে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে দীর্ঘ সময় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত তিন দিন পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও এ ধরনের ঘটনা রোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















