মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ভূরঘাটা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আয়শা নামে আড়াই বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বাজারে বেড়াতে গিয়ে প্রাণ হারাল শিশু
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আয়শা ইতালি প্রবাসী আবুল ঘরামির মেয়ে। সে তার দাদা মোতালেব মেম্বারের সঙ্গে ভূরঘাটা বাজারে ঘুরতে এবং মিষ্টি খেতে গিয়েছিল। বাজার এলাকায় অবস্থান করার সময় একটি দ্রুতগতির বাস তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন। শিশুটির অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
-20260606044857.jpg)
বিক্ষোভে বন্ধ হয়ে যায় মহাসড়ক
শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভূরঘাটা এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে।
এর ফলে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক
খবর পেয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সন্ধ্যার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

নিরাপদ সড়কের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তাদের দাবি, সড়কটি দ্রুত ছয় লেনে উন্নীত করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং প্রাণহানি অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হবে।
শিশু আয়শার মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এলাকাবাসী নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
মাদারীপুরের কালকিনিতে বাসচাপায় আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজট এবং নিরাপদ সড়কের দাবি জোরালো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















