ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বন্দির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার। এই পরিস্থিতিতে অপরাধের ধরন ও অঞ্চলভিত্তিকভাবে কারাগারকে চার ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী মহানগর ও জেলার বন্দিদের আলাদা রাখা, মাদক মামলার আসামিদের জন্য পৃথক কারাগার এবং রোহিঙ্গা বন্দিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৮৫০ জন হলেও সেখানে বন্দি রয়েছেন ৬ হাজারের বেশি। ফলে বন্দিদের আবাসন, নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি বন্দি
কারা সংশ্লিষ্টদের মতে, মহানগরের বিভিন্ন থানার হাজার হাজার আসামির পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকার বন্দিরাও একই কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া মাদক মামলার বিপুল সংখ্যক আসামি, জলদস্যুতা সংশ্লিষ্ট বন্দি, রোহিঙ্গা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যদেরও এখানে রাখা হয়।
এত বিপুল সংখ্যক এবং ভিন্ন ধরনের বন্দি একই স্থানে থাকায় কারাগার ব্যবস্থাপনা জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পৃথক কারাগার গঠনের প্রস্তাব
কারা প্রশাসনের পরিকল্পনায় মাদক মামলার আসামিদের জন্য আলাদা জোন তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি মহানগর এলাকার বন্দিদের অন্যত্র স্থানান্তর এবং কিশোর বন্দিদের জন্যও পৃথক ব্যবস্থা করার চিন্তা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরোনো কারাগারে শুধু জেলার বন্দিদের রাখা হতে পারে। এতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ কমবে এবং অপরাধমূলক প্রভাব বিস্তারের সুযোগও সীমিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহানগরের বন্দিদের স্থানান্তরের জন্য নতুন কারাগার নির্মাণের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের ভিন্নমত
তবে কারাগার বিভাজনের এই পরিকল্পনা নিয়ে সবাই একমত নন। আইনজীবী নেতারা মনে করছেন, একজন আসামির বিরুদ্ধে একাধিক ধরনের মামলা থাকলে তাকে কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে মামলা পরিচালনা এবং নথি ব্যবস্থাপনার কাজও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তাদের মতে, নতুন কারাগার নির্মাণের মতো ব্যয়বহুল প্রকল্পের পরিবর্তে বিদ্যমান কারাগারের ভেতরেই অপরাধের ধরন অনুযায়ী পৃথক সেল বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা বেশি কার্যকর হতে পারে।
আধুনিকায়নের বিকল্প নেই
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অনেক দেশেই একই কারাগারের মধ্যে আলাদা সেল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বন্দিকে পৃথক রাখা হয়। ফলে শুধু কারাগার ভাগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।
১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত শতবর্ষী চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন বন্দির জন্য নির্ধারিত স্থান নিশ্চিত করাও বর্তমানে সম্ভব হচ্ছে না। অতিরিক্ত বন্দির চাপে কারাবিধির অনেক শর্ত বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং কারা ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কারাগার বিভাজন নিয়ে আলোচনা চললেও সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সংস্কার ও আধুনিকায়নই এখন সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















