নতুন লাইভ-অ্যাকশন ছবি ‘মাস্টার্স অব দ্য ইউনিভার্স’ মুক্তির পর থেকেই প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল বক্স অফিস আয়ের মুখে পড়েছে। ফলে ছবিটির স্ট্রিমিং মুক্তির পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বড় বাজেটের এই ছবির আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে নতুন কৌশল নিতে হতে পারে।
দুর্বল সূচনা, বাড়ছে চাপ
জনপ্রিয় চরিত্র হি-ম্যানকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘মাস্টার্স অব দ্য ইউনিভার্স’ ছবিতে প্রিন্স অ্যাডাম ও হি-ম্যান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিকোলাস গ্যালিটজিন। এছাড়া স্কেলেটর চরিত্রে দেখা গেছে জ্যারেড লেটোকে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ট্রাভিস নাইট।
ছবিটির উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের আয় প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় এটি বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। কারণ নির্মাণ ব্যয়ই ছিল প্রায় ২০ কোটি ডলার, যার সঙ্গে বিপণন ব্যয়ও যুক্ত হয়েছে। এত বড় বিনিয়োগ ফেরত আনতে ছবিটির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য জরুরি।
স্ট্রিমিং মুক্তির পথে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
সাধারণত অ্যামাজনের প্রযোজিত সিনেমাগুলো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কিছুদিন পর সরাসরি তাদের সদস্যভিত্তিক স্ট্রিমিং সেবায় যুক্ত হয়। তবে ‘মাস্টার্স অব দ্য ইউনিভার্স’-এর ক্ষেত্রে সেই পথ অনুসরণ করা নাও হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ছবিটি সরাসরি সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত করার আগে ডিজিটাল ভাড়া ও ক্রয় সুবিধার মাধ্যমে বাজারে আনা হতে পারে। এতে দর্শকরা অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছবি ভাড়া নিতে বা স্থায়ীভাবে কিনতে পারবেন। এই পদ্ধতি অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করে।
‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ থেকে শিক্ষা
একই প্রতিষ্ঠানের আরেক বড় বাজেটের ছবি ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ ভালো ব্যবসা করার পরও প্রথমে অর্থের বিনিময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছাড়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানটির জন্য লাভজনক প্রমাণিত হয়। কারণ প্রেক্ষাগৃহে আয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল বিক্রি থেকেও উল্লেখযোগ্য অর্থ এসেছে।
এই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ‘মাস্টার্স অব দ্য ইউনিভার্স’-এর ক্ষেত্রেও একই কৌশল গ্রহণ করা হতে পারে। বিশেষ করে যখন ছবিটি শুরুতেই প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি।

সিক্যুয়েলের ভবিষ্যৎও নির্ভর করছে আয়ের ওপর
ছবিটির শেষ অংশে ভবিষ্যৎ কাহিনির ইঙ্গিত রাখা হয়েছে, যা সম্ভাব্য সিক্যুয়েলের পরিকল্পনার দিকেই ইঙ্গিত করে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ছবিটির আর্থিক সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সমালোচক ও অনেক দর্শকের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেলেও শুধুমাত্র প্রশংসা দিয়ে বড় বাজেটের ছবি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই অতিরিক্ত ডিজিটাল আয় ভবিষ্যতে নতুন কিস্তি নির্মাণের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
সামনের সপ্তাহগুলো গুরুত্বপূর্ণ
আগামী কয়েক সপ্তাহে একাধিক বড় ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ফলে ‘মাস্টার্স অব দ্য ইউনিভার্স’-এর জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ছবিটির প্রেক্ষাগৃহে আয় কেমন হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ডিজিটাল ও স্ট্রিমিং মুক্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, ছবিটির জন্য দ্রুত আয় বাড়ানোর সব সম্ভাব্য পথ খোলা রাখতেই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আগ্রহী। আর সেই কারণেই প্রচলিত স্ট্রিমিং কৌশলের বদলে অর্থের বিনিময়ে ডিজিটাল মুক্তির পথকে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















