০৮:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬
 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ উন্মাদনা: স্থায়ী শিল্পবিপ্লব নাকি আরেকটি বাজার-ভ্রম? মতিঝিলে গুলি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই, সিসিটিভি ফুটেজে খোঁজ চলছে দুর্বৃত্তদের গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, সংসদে অভিযোগ রুমিন ফারহানার নতুন ৯ম পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন, বেতন-ভাতায় বড় সুবিধা পাবেন চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীরা শূন্যরেখায় ৪০ ঘণ্টা আটকা ১১ জন, অনিশ্চয়তায় নারী-শিশুসহ পুশইনের শিকার পরিবার লেবাননে ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ সাতক্ষীরায়, শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার ময়মনসিংহে বেইলি সেতু ধসে বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ, নদীতে পড়ল বালুবাহী ট্রাক নওগাঁয় জমি বিরোধে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪ মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ, খাদ্যপণ্যের দামই প্রধান কারণ জলবায়ুর ‘প্রলয়ঙ্কর’ পূর্বাভাস থেকে সরে এলেন বিজ্ঞানীরা, তবু কমছে না উষ্ণতার ঝুঁকি

নামহীন শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, দায়বদ্ধতার নতুন ভাষা

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় সাধারণত শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নির্ধারিত থাকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে। তারা পরীক্ষা দেবে, ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করবে, প্রয়োজনে পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করবে, তারপর প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে। কিন্তু সম্প্রতি সিবিএসইর অনলাইন মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা দেখিয়ে দিয়েছে যে নতুন প্রজন্ম এই প্রচলিত কাঠামোকে আর প্রশ্নহীনভাবে মেনে নিতে রাজি নয়। তিনজন তরুণ—বেদান্ত শ্রীবাস্তব, নিসর্গ অধিকারী এবং সার্থক সিদ্ধান্ত—একটি প্রশাসনিক ত্রুটিকে কেন্দ্র করে শুধু অভিযোগই তোলেননি; তাঁরা এমন একটি বাস্তবতা সামনে এনেছেন, যেখানে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক অস্বচ্ছতা এবং নাগরিক জবাবদিহির প্রশ্ন একসঙ্গে জড়িয়ে আছে।

এই ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, প্রাথমিকভাবে তাঁদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার বদলে তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তোলার কারণে এক শিক্ষার্থীকে দেশবিরোধী বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে, তাঁর পরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে, এমনকি ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়েও বিদ্রূপ করা হয়েছে। অর্থাৎ, সমস্যার সত্যতা যাচাইয়ের আগে প্রশ্নকারীকে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। এটি শুধু একটি অনলাইন প্রতিক্রিয়া নয়; এটি আমাদের জনপরিসরের একটি গভীর প্রবণতার প্রতিফলন, যেখানে সমালোচনাকে প্রায়ই শত্রুতা হিসেবে দেখা হয়।

তবে শেষ পর্যন্ত যখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থার ত্রুটি স্বীকার করেছে, তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সামনে এসেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য মানে তার ভুলকে আড়াল করা নয়। বরং প্রকৃত দায়বদ্ধতা হলো সমস্যাকে চিহ্নিত করা এবং সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা। এই তিন তরুণের উদ্যোগ সেই কাজটিই করেছে।

Does A.I. Really Encourage Cheating in Schools? | The New Yorker

ঘটনাটি প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশ্নও নতুন করে সামনে এনেছে। শিক্ষা ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরকে সাধারণত অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু প্রযুক্তি নিজে কখনও সমাধান নয়; সেটি কেবল একটি মাধ্যম। যদি ব্যবহারকারীরা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না পান, যদি নজরদারি দুর্বল হয়, অথবা যদি জবাবদিহির কাঠামো অনুপস্থিত থাকে, তবে প্রযুক্তি পুরোনো সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। অনলাইন মূল্যায়ন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ঠিক সেই আশঙ্কাই প্রকাশ পেয়েছে।

নিসর্গ অধিকারীর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ তিনি দেখিয়েছেন যে প্রযুক্তিগত দক্ষতা কেবল কর্মসংস্থানের উপায় নয়; এটি জনস্বার্থ রক্ষারও একটি মাধ্যম হতে পারে। বহু তরুণ আজ প্রোগ্রামিং, সাইবার নিরাপত্তা বা তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠছে। কিন্তু তাঁদের একটি অংশ সেই দক্ষতাকে সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত করছে। তথ্য নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল অধিকারের মতো বিষয়গুলো এখন আর কেবল বিশেষজ্ঞদের আলোচনার বিষয় নয়; এগুলো নাগরিক অধিকারের অংশ হয়ে উঠছে।

সার্থক সিদ্ধান্তের অভিজ্ঞতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রকাশ্য নথি বিশ্লেষণ করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এটি এমন এক নাগরিক চর্চার উদাহরণ, যেখানে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং যুক্তিনির্ভর সমালোচনা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। বয়স এখানে প্রধান বিষয় নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো অনুসন্ধিৎসা এবং সত্য যাচাইয়ের মানসিকতা।

এই তিন তরুণের গল্পকে কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের কাহিনি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর মধ্যে একটি বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। এমন একটি প্রজন্ম উঠে আসছে, যারা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাকে অস্বীকার করে না, কিন্তু অন্ধ আনুগত্যও প্রদর্শন করে না। তারা প্রশ্ন করে, তথ্য খোঁজে, প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং প্রয়োজন হলে জনসমক্ষে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে।

More questions on CBSE evaluation

অনেক সময় প্রবীণ প্রজন্ম নতুনদের এই প্রবণতাকে অস্থিরতা বা অবাধ্যতা হিসেবে দেখে। কিন্তু গণতান্ত্রিক সমাজে প্রশ্ন তোলার ক্ষমতা কোনো দুর্বলতা নয়; এটি একটি শক্তি। প্রতিষ্ঠানগুলো তখনই আরও কার্যকর হয়, যখন নাগরিকরা তাদের কাজকে পরীক্ষা করে এবং ভুল ধরিয়ে দিতে পারে।

সিবিএসইর মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক একদিন হয়তো সংবাদ শিরোনাম থেকে হারিয়ে যাবে। কিন্তু এই ঘটনা একটি দীর্ঘমেয়াদি সত্যকে সামনে এনেছে। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের ভারত শুধু নতুন সফটওয়্যার বা নতুন অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে না। সেটি নির্ভর করবে এমন নাগরিকদের ওপর, যারা তথ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, যুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ক্ষমতার সামনে প্রশ্ন তুলতে ভয় পায় না।

এই তিন তরুণ সেই পরিবর্তনের প্রতীক। তাঁদের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো কোনো ত্রুটি শনাক্ত করা নয়; বরং দেখিয়ে দেওয়া যে দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের বয়সসীমা নেই। প্রশ্ন করার সাহস, তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস এবং জনস্বার্থে কথা বলার ইচ্ছাই গণতান্ত্রিক সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আর সেই অর্থে, এই ঘটনাটি কেবল একটি মূল্যায়ন ব্যবস্থার ব্যর্থতার গল্প নয়; এটি জবাবদিহি দাবি করা এক নতুন প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের গল্প

জনপ্রিয় সংবাদ

 কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ উন্মাদনা: স্থায়ী শিল্পবিপ্লব নাকি আরেকটি বাজার-ভ্রম?

নামহীন শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, দায়বদ্ধতার নতুন ভাষা

০৬:৪৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় সাধারণত শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নির্ধারিত থাকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে। তারা পরীক্ষা দেবে, ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করবে, প্রয়োজনে পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করবে, তারপর প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে। কিন্তু সম্প্রতি সিবিএসইর অনলাইন মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা দেখিয়ে দিয়েছে যে নতুন প্রজন্ম এই প্রচলিত কাঠামোকে আর প্রশ্নহীনভাবে মেনে নিতে রাজি নয়। তিনজন তরুণ—বেদান্ত শ্রীবাস্তব, নিসর্গ অধিকারী এবং সার্থক সিদ্ধান্ত—একটি প্রশাসনিক ত্রুটিকে কেন্দ্র করে শুধু অভিযোগই তোলেননি; তাঁরা এমন একটি বাস্তবতা সামনে এনেছেন, যেখানে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক অস্বচ্ছতা এবং নাগরিক জবাবদিহির প্রশ্ন একসঙ্গে জড়িয়ে আছে।

এই ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, প্রাথমিকভাবে তাঁদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার বদলে তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তোলার কারণে এক শিক্ষার্থীকে দেশবিরোধী বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে, তাঁর পরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে, এমনকি ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়েও বিদ্রূপ করা হয়েছে। অর্থাৎ, সমস্যার সত্যতা যাচাইয়ের আগে প্রশ্নকারীকে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। এটি শুধু একটি অনলাইন প্রতিক্রিয়া নয়; এটি আমাদের জনপরিসরের একটি গভীর প্রবণতার প্রতিফলন, যেখানে সমালোচনাকে প্রায়ই শত্রুতা হিসেবে দেখা হয়।

তবে শেষ পর্যন্ত যখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থার ত্রুটি স্বীকার করেছে, তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সামনে এসেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্য মানে তার ভুলকে আড়াল করা নয়। বরং প্রকৃত দায়বদ্ধতা হলো সমস্যাকে চিহ্নিত করা এবং সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা। এই তিন তরুণের উদ্যোগ সেই কাজটিই করেছে।

Does A.I. Really Encourage Cheating in Schools? | The New Yorker

ঘটনাটি প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশ্নও নতুন করে সামনে এনেছে। শিক্ষা ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরকে সাধারণত অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু প্রযুক্তি নিজে কখনও সমাধান নয়; সেটি কেবল একটি মাধ্যম। যদি ব্যবহারকারীরা পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না পান, যদি নজরদারি দুর্বল হয়, অথবা যদি জবাবদিহির কাঠামো অনুপস্থিত থাকে, তবে প্রযুক্তি পুরোনো সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। অনলাইন মূল্যায়ন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ঠিক সেই আশঙ্কাই প্রকাশ পেয়েছে।

নিসর্গ অধিকারীর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ তিনি দেখিয়েছেন যে প্রযুক্তিগত দক্ষতা কেবল কর্মসংস্থানের উপায় নয়; এটি জনস্বার্থ রক্ষারও একটি মাধ্যম হতে পারে। বহু তরুণ আজ প্রোগ্রামিং, সাইবার নিরাপত্তা বা তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠছে। কিন্তু তাঁদের একটি অংশ সেই দক্ষতাকে সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত করছে। তথ্য নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল অধিকারের মতো বিষয়গুলো এখন আর কেবল বিশেষজ্ঞদের আলোচনার বিষয় নয়; এগুলো নাগরিক অধিকারের অংশ হয়ে উঠছে।

সার্থক সিদ্ধান্তের অভিজ্ঞতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রকাশ্য নথি বিশ্লেষণ করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এটি এমন এক নাগরিক চর্চার উদাহরণ, যেখানে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং যুক্তিনির্ভর সমালোচনা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। বয়স এখানে প্রধান বিষয় নয়; বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো অনুসন্ধিৎসা এবং সত্য যাচাইয়ের মানসিকতা।

এই তিন তরুণের গল্পকে কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের কাহিনি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর মধ্যে একটি বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। এমন একটি প্রজন্ম উঠে আসছে, যারা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাকে অস্বীকার করে না, কিন্তু অন্ধ আনুগত্যও প্রদর্শন করে না। তারা প্রশ্ন করে, তথ্য খোঁজে, প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং প্রয়োজন হলে জনসমক্ষে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে।

More questions on CBSE evaluation

অনেক সময় প্রবীণ প্রজন্ম নতুনদের এই প্রবণতাকে অস্থিরতা বা অবাধ্যতা হিসেবে দেখে। কিন্তু গণতান্ত্রিক সমাজে প্রশ্ন তোলার ক্ষমতা কোনো দুর্বলতা নয়; এটি একটি শক্তি। প্রতিষ্ঠানগুলো তখনই আরও কার্যকর হয়, যখন নাগরিকরা তাদের কাজকে পরীক্ষা করে এবং ভুল ধরিয়ে দিতে পারে।

সিবিএসইর মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক একদিন হয়তো সংবাদ শিরোনাম থেকে হারিয়ে যাবে। কিন্তু এই ঘটনা একটি দীর্ঘমেয়াদি সত্যকে সামনে এনেছে। প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের ভারত শুধু নতুন সফটওয়্যার বা নতুন অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে না। সেটি নির্ভর করবে এমন নাগরিকদের ওপর, যারা তথ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, যুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ক্ষমতার সামনে প্রশ্ন তুলতে ভয় পায় না।

এই তিন তরুণ সেই পরিবর্তনের প্রতীক। তাঁদের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো কোনো ত্রুটি শনাক্ত করা নয়; বরং দেখিয়ে দেওয়া যে দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের বয়সসীমা নেই। প্রশ্ন করার সাহস, তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস এবং জনস্বার্থে কথা বলার ইচ্ছাই গণতান্ত্রিক সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আর সেই অর্থে, এই ঘটনাটি কেবল একটি মূল্যায়ন ব্যবস্থার ব্যর্থতার গল্প নয়; এটি জবাবদিহি দাবি করা এক নতুন প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের গল্প