লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ রোববার সকালে নিজ জেলা সাতক্ষীরায় পৌঁছেছে। কফিনবন্দী মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড়ে শোকের আবহ নেমে আসে পুরো এলাকাজুড়ে।
নিহতরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রামের ৪৩ বছর বয়সী শফিকুল ইসলাম এবং আশাশুনি উপজেলার কাদাকাঠি গ্রামের ২২ বছর বয়সী নাহিদুল ইসলাম। রোববার সকাল প্রায় ১০টার দিকে তাদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
শোকে ভারী দুই গ্রাম
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্থানীয় বাসিন্দারা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন। পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, জীবিকার উন্নতির আশায় মাত্র কয়েক মাস আগে তারা লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির জন্য কঠোর পরিশ্রম করছিলেন তারা।

বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে মরদেহ দুটি রোববার ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। সেখানে নিহতদের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
মরদেহ দেশে আনতে দূতাবাসের উদ্যোগ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস মরদেহ দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। লেবাননের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে পুলিশ প্রতিবেদন, প্রত্যাবাসন অনুমতিপত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, লেবাননে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
১১ মে হামলায় নিহত

গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম নিহত হন। পরবর্তীতে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
আর্থিক সহায়তার ঘোষণা
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক খালেদুর রহমান শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
তিনি জানান, বিমানবন্দরে নিহতদের পরিবারকে জরুরি সহায়তা হিসেবে ৩৫ হাজার ও ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া পরবর্তীতে প্রতিটি পরিবারকে ১০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বীমা করপোরেশন থেকেও প্রতিটি পরিবার অতিরিক্ত ৩ লাখ টাকা করে পাবে।
বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর অবশেষে দুই প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরেছে। তবে স্বজনদের কাছে তাদের এই ফিরে আসা শুধুই এক অপূরণীয় শোকের স্মৃতি হয়ে রইল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















