ভারতে টানা ১৫ মাস ধরে মূল্যস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নিচে থাকলেও মে মাসে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, সবজি ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে মে মাসে মূল্যস্ফীতি আবার ৪ শতাংশের ঘরে পৌঁছেছে।
এপ্রিল মাসে ভোক্তা মূল্যসূচকভিত্তিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তবে মে মাসে তা বেড়ে ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব
গ্রীষ্মকালজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপের কারণে সবজির দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। গত বছরের তুলনায় খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি অনেকটাই নিম্নমুখী ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেই সুবিধা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরমের কারণে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। এর ফলে সবজিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে নতুন গতি এসেছে।

জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় নতুন চাপ তৈরি করেছে
মে মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিক্রেতারা কয়েক দফা জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। এপ্রিল মাসে পরিবহন খাতে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় শূন্যের কাছাকাছি থাকলেও মে মাসে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পণ্যের সরবরাহ ও বিতরণ খরচ বাড়িয়ে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামে প্রতিফলিত হয়। ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
পাইকারি মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব
এপ্রিল মাসে পাইকারি মূল্যস্ফীতি সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে ব্যয় বৃদ্ধি ধীরে ধীরে খুচরা বাজারেও প্রভাব ফেলবে।

সাধারণত পাইকারি পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। তাই আগামী মাসগুলোতেও মূল্যস্ফীতির ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনীতি এখনো স্থিতিশীল
মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে নীতিনির্ধারকেরা মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য দ্বিতীয় ধাপের প্রভাব নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে যে চলতি বছরের বর্ষা গত ১১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল হতে পারে। এমন পরিস্থিতি কৃষি উৎপাদনকে প্রভাবিত করলে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















