ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে আপাতত হামলা বন্ধের ঘোষণার পর এশিয়ার শেয়ারবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। মঙ্গলবার বিভিন্ন দেশের শেয়ারসূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। একই সঙ্গে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও বিনিয়োগকারীদের ভাবিয়ে তুলছে।
তেলবাজারে কিছুটা স্বস্তি
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমে আসায় আন্তর্জাতিক তেলের দাম আগের উচ্চ অবস্থান থেকে কিছুটা নেমে এসেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার ঝুঁকি রয়ে গেছে।
শেয়ারবাজারে পুনরুদ্ধার
সোমবার বড় পতনের পর দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজার মঙ্গলবার শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। দেশটির প্রধান সূচক ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। জাপানের শেয়ারবাজারও আগের দিনের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে। একই সময়ে জাপানের বাইরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ারসূচকও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষ করে প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের শেয়ারে নতুন করে ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা গেছে। সাম্প্রতিক দরপতনকে অনেক বিনিয়োগকারী কেনার সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
চীনের রপ্তানিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি
সাম্প্রতিক বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে চীনের রপ্তানি ও আমদানি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য বাধা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কচাপ সত্ত্বেও নতুন বাজার খুঁজে নেওয়ার ক্ষেত্রে চীনের সক্ষমতার প্রতিফলন এতে দেখা যাচ্ছে।
তবে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এখনো তুলনামূলক দুর্বল। ফলে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি গতি নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সুদের হার নিয়ে নতুন উদ্বেগ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছে। অনেক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় সুদের হার আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের পর বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে যে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের শেষ দিকে আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে। একই ধরনের প্রত্যাশা ইউরোপেও দেখা যাচ্ছে।
এর প্রভাব পড়ছে বন্ডবাজারে। সরকারি বন্ডের মুনাফা বাড়ায় শেয়ারবাজারের উচ্চ মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মুদ্রাবাজার ও স্বর্ণ
শক্তিশালী অর্থনৈতিক তথ্যের কারণে ডলারের অবস্থান তুলনামূলক দৃঢ় রয়েছে। অন্যদিকে ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ড সাম্প্রতিক নিম্নমুখী প্রবণতা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে।
স্বর্ণের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও সম্প্রতি এটি কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে গিয়েছিল। বিনিয়োগকারীরা এখন মূল্যস্ফীতি ও সুদের হারসংক্রান্ত নতুন তথ্যের দিকে নজর রাখছেন।

সামনের চ্যালেঞ্জ
বাজারে স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি ফিরলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং প্রযুক্তি খাতের মূল্যায়ন—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ বৈশ্বিক বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















