মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিললেও সোনার বাজারে এখনো সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন বিনিয়োগকারীরা। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার খবরে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা কিছুটা কমেছে, তবে মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা বাজারকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্পট সোনার দাম সামান্য বেড়ে ৪ হাজার ৩৩৩ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করে। আগের লেনদেন দিনে সোনার দাম দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হামলা বন্ধের ঘোষণা স্বস্তি তৈরি করলেও বিনিয়োগকারীরা এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত নন। কারণ যুদ্ধবিরতি কতদিন কার্যকর থাকবে এবং অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ইরান জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালায়, তাহলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। ফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি।
মূল্যস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষায় বাজার
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকে। এই তথ্য প্রকাশের পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাজার এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ফলে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা আগের তুলনায় পিছিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুদের হার নিয়ে নতুন হিসাব

বাজারে এখন এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার আরও বাড়তে পারে। উচ্চ সুদের হার সাধারণত সোনার জন্য নেতিবাচক, কারণ এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কমে যায়।
তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেনার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বছরের শেষ দিকে সোনার দাম আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে পারে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজার
সোনার পাশাপাশি রূপার দাম কিছুটা কমেছে। প্লাটিনামের দামও সামান্য হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত—এই তিনটি বিষয় আগামী কয়েক সপ্তাহে সোনার দামের গতিপথ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















