০৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
শেখ হাসিনার বার্তা: এখনই অবসর নয়, জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার জাপানে ভালুক আতঙ্কে বন্ধ ৯৪ স্কুল, তিন দিন ধরে চলছে ব্যাপক তল্লাশি কিউবা ছাড়ছে ইন্দোনেশিয়ার হোটেল জায়ান্ট, মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পর্যটন খাতে নতুন ধাক্কা হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, দেশে মোট প্রাণহানি ৬৩১ নিথ্যা রমন বনাম কারেন ব্যাস: লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে জমে উঠছে ডেমোক্র্যাটদের লড়াই ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে নতুন করে হামলা, পরে থামল পাল্টাপাল্টি আঘাত; যুদ্ধবিরতি নিয়ে সতর্ক দুই দেশ লালমনিরহাটে তুচ্ছ বিরোধের জেরে মাদ্রাসাছাত্র খুন, অভিযুক্ত পলাতক জলবায়ু পরিবর্তনের তাপে পুড়ছে বাংলাদেশ, বাড়ছে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের ঝুঁকি ধানের ফলন, জলবায়ুর মূল্য এবং কৃষির নতুন বাস্তবতা আরব বিশ্বের কাছে যুদ্ধের মুখ: বিদায় নিচ্ছেন ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র আভিচাই আদরাই

নাটকের আলোয় ঢাকা পড়া দারিদ্র্য: রাজনীতি যখন ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমানের শোরগোলকে বেছে নেয়

গণতান্ত্রিক রাজনীতির একটি পুরোনো বৈশিষ্ট্য হলো, যেসব বিষয় মানুষের জীবনকে দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে, সেগুলো প্রায়ই জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে না। বরং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লড়াই, তদন্ত, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ কিংবা ব্যক্তিকেন্দ্রিক সংঘাতই সংবাদ শিরোনাম দখল করে রাখে। ফলে এমন অনেক সংকট রয়েছে, যা প্রতিদিন লাখো মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করলেও সেগুলো নীরবে আড়ালে থেকে যায়।

দারিদ্র্য তেমনই একটি বাস্তবতা। এটি আকস্মিক নয়, নাটকীয় নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মতোও নয়। কিন্তু এর প্রভাব গভীর, দীর্ঘস্থায়ী এবং প্রজন্মব্যাপী। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান উন্নতির কথা বললেও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা প্রায়ই ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। সংখ্যার পেছনে থাকে এমন পরিবার, যাদের আয় মাসের শেষ পর্যন্ত টিকে না; এমন বাবা-মা, যারা নিজেদের প্রয়োজন বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের জন্য সামান্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন; এমন শিক্ষার্থী, যাদের প্রতিদিনের সংগ্রাম ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে সীমিত করে দেয়।

অবশ্যই অগ্রগতির ইতিবাচক দিক রয়েছে। অর্থনীতি বাড়ছে, কর্মসংস্থানের কিছু উন্নতি হচ্ছে, মূল্যস্ফীতির চাপ কিছু ক্ষেত্রে কমছে, আয়ের বৈষম্যও কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে। এসব অর্জনকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো প্রমাণ করে যে সঠিক নীতি ও স্থিতিশীল পরিবেশ থাকলে উন্নয়ন সম্ভব।

Enabling models of inclusive growth: Addressing the need for financial and social  inclusion

কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিজে নিজে সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে না। একটি দেশের মোট উৎপাদন বাড়তে পারে, অথচ বিপুল জনগোষ্ঠী নিম্নমানের কাজ, অনিশ্চিত আয় এবং দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে আটকে থাকতে পারে। প্রবৃদ্ধির সুফল যদি সমাজের বিস্তৃত অংশে পৌঁছাতে না পারে, তবে উন্নয়ন অসম্পূর্ণই থেকে যায়।

সমস্যার মূল কারণ খুঁজতে গেলে অনেকেই দ্রুত দোষারোপের পথ বেছে নেন। বর্তমান সরকার, পূর্ববর্তী সরকার, সংসদ, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী—সবাইকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়। বাস্তবতাও হলো, ব্যর্থতার দায় সাধারণত একক কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়। কিন্তু শুধু দোষারোপ করলে সমস্যার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, সমাধান নয়।

দারিদ্র্য হ্রাসের মতো জটিল লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, যা প্রায়ই নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাজনৈতিক নেতৃত্ব সাধারণত এমন উদ্যোগে বেশি আগ্রহী হয়, যার ফল দ্রুত দৃশ্যমান এবং ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে। বিপরীতে শিক্ষা সংস্কার, কৃষির আধুনিকীকরণ, গবেষণায় বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন বা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপের ফল পেতে বছর, কখনও দশকও লেগে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনেক সময় স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক লাভের কাছে পরাজিত হয়।

আজকের রাজনৈতিক পরিবেশে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট। জনআলোচনার বড় অংশ আবর্তিত হয় ব্যক্তি, দলীয় কৌশল এবং ক্ষমতার সমীকরণকে ঘিরে। এসব বিষয় গণতন্ত্রের জন্য অপ্রয়োজনীয় নয়। জবাবদিহি, বিতর্ক এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা একটি সুস্থ ব্যবস্থার অংশ। কিন্তু যখন শাসনব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক নাটকে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন উন্নয়নের মৌলিক প্রশ্নগুলো পেছনে সরে যায়।

The Future of Democracy | The New Yorker

একজন কৃষকের উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া, একটি গ্রামের বারবার জলবায়ু দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতার ঘাটতি কিংবা একটি পরিবারের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে আর্থিক বিপর্যয়ে পড়া—এসব ঘটনা কখনও বড় রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করে না। অথচ ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে ঠিক এই বিষয়গুলোই।

এখানে আশাবাদের জায়গাও রয়েছে। অধিকাংশ দেশের মতো আমাদের সমাজও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করতে সক্ষম। সমস্যা হলো, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়ন এক জিনিস নয়। একটি উন্নত, স্থিতিশীল ও সুযোগসমৃদ্ধ সমাজ গঠনের স্বপ্ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন সেটি সরকার পরিবর্তনের পরও টিকে থাকে এবং নীতিনির্ধারণের ধারাবাহিক অংশে পরিণত হয়।

বাস্তব অগ্রগতির জন্য কয়েকটি ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়ন, কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা, উচ্চমূল্য সংযোজনকারী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অধিক উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এসবই অপরিহার্য। এগুলোর কোনোটিই আকর্ষণীয় রাজনৈতিক স্লোগান নয়। এগুলো থেকে তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তা অর্জনও কঠিন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে ওঠে ঠিক এমন নীতির ওপরই।

Pathways to a new political order | The Daily Star

ইতিহাস দেখায়, যে দেশগুলো সফলভাবে দারিদ্র্য কমিয়েছে, তারা কোনো একক নেতা, কোনো একক কর্মসূচি বা কোনো নাটকীয় রাজনৈতিক ঘটনার ওপর নির্ভর করেনি। তারা ধারাবাহিকভাবে প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করেছে, নীতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করেছে। উন্নয়ন আসলে একবারের সাফল্য নয়; এটি একই লক্ষ্যে বারবার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার প্রক্রিয়া।

রাজনৈতিক বিতর্ক আসবে, যাবে। নতুন বিতর্ক পুরোনো বিতর্ককে সরিয়ে দেবে। এটাই রাজনীতির স্বাভাবিক চরিত্র। কিন্তু দারিদ্র্য ততক্ষণ অপেক্ষা করে না। এটি প্রতিদিনের জীবনে উপস্থিত থাকে—শ্রেণিকক্ষে, হাসপাতালের করিডরে, বন্যাকবলিত এলাকায়, কর্মহীন মানুষের ঘরে এবং সেই সব ডাইনিং টেবিলে, যেখানে পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

অতএব, মূল প্রশ্ন কোনো জাতির স্বপ্ন অর্জনযোগ্য কি না, সেটি নয়। প্রশ্ন হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কি এখনো সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ধৈর্য, দূরদর্শিতা এবং অঙ্গীকার ধরে রাখতে সক্ষম? একটি সমাজের প্রকৃত শক্তি মাপা যায় সে কতটা দূরের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে পারে তার মাধ্যমে। আর সেই ভবিষ্যৎ নির্মিত হয় তখনই, যখন বর্তমানের শোরগোলের চেয়ে আগামী প্রজন্মের কল্যাণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনার বার্তা: এখনই অবসর নয়, জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার

নাটকের আলোয় ঢাকা পড়া দারিদ্র্য: রাজনীতি যখন ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমানের শোরগোলকে বেছে নেয়

০৪:০৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

গণতান্ত্রিক রাজনীতির একটি পুরোনো বৈশিষ্ট্য হলো, যেসব বিষয় মানুষের জীবনকে দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে, সেগুলো প্রায়ই জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে না। বরং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লড়াই, তদন্ত, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ কিংবা ব্যক্তিকেন্দ্রিক সংঘাতই সংবাদ শিরোনাম দখল করে রাখে। ফলে এমন অনেক সংকট রয়েছে, যা প্রতিদিন লাখো মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করলেও সেগুলো নীরবে আড়ালে থেকে যায়।

দারিদ্র্য তেমনই একটি বাস্তবতা। এটি আকস্মিক নয়, নাটকীয় নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মতোও নয়। কিন্তু এর প্রভাব গভীর, দীর্ঘস্থায়ী এবং প্রজন্মব্যাপী। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান উন্নতির কথা বললেও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা প্রায়ই ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। সংখ্যার পেছনে থাকে এমন পরিবার, যাদের আয় মাসের শেষ পর্যন্ত টিকে না; এমন বাবা-মা, যারা নিজেদের প্রয়োজন বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের জন্য সামান্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন; এমন শিক্ষার্থী, যাদের প্রতিদিনের সংগ্রাম ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে সীমিত করে দেয়।

অবশ্যই অগ্রগতির ইতিবাচক দিক রয়েছে। অর্থনীতি বাড়ছে, কর্মসংস্থানের কিছু উন্নতি হচ্ছে, মূল্যস্ফীতির চাপ কিছু ক্ষেত্রে কমছে, আয়ের বৈষম্যও কিছুটা হ্রাস পাচ্ছে। এসব অর্জনকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো প্রমাণ করে যে সঠিক নীতি ও স্থিতিশীল পরিবেশ থাকলে উন্নয়ন সম্ভব।

Enabling models of inclusive growth: Addressing the need for financial and social  inclusion

কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিজে নিজে সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে না। একটি দেশের মোট উৎপাদন বাড়তে পারে, অথচ বিপুল জনগোষ্ঠী নিম্নমানের কাজ, অনিশ্চিত আয় এবং দুর্বল সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে আটকে থাকতে পারে। প্রবৃদ্ধির সুফল যদি সমাজের বিস্তৃত অংশে পৌঁছাতে না পারে, তবে উন্নয়ন অসম্পূর্ণই থেকে যায়।

সমস্যার মূল কারণ খুঁজতে গেলে অনেকেই দ্রুত দোষারোপের পথ বেছে নেন। বর্তমান সরকার, পূর্ববর্তী সরকার, সংসদ, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী—সবাইকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়। বাস্তবতাও হলো, ব্যর্থতার দায় সাধারণত একক কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়। কিন্তু শুধু দোষারোপ করলে সমস্যার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, সমাধান নয়।

দারিদ্র্য হ্রাসের মতো জটিল লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, যা প্রায়ই নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাজনৈতিক নেতৃত্ব সাধারণত এমন উদ্যোগে বেশি আগ্রহী হয়, যার ফল দ্রুত দৃশ্যমান এবং ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে। বিপরীতে শিক্ষা সংস্কার, কৃষির আধুনিকীকরণ, গবেষণায় বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন বা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপের ফল পেতে বছর, কখনও দশকও লেগে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনেক সময় স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক লাভের কাছে পরাজিত হয়।

আজকের রাজনৈতিক পরিবেশে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট। জনআলোচনার বড় অংশ আবর্তিত হয় ব্যক্তি, দলীয় কৌশল এবং ক্ষমতার সমীকরণকে ঘিরে। এসব বিষয় গণতন্ত্রের জন্য অপ্রয়োজনীয় নয়। জবাবদিহি, বিতর্ক এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা একটি সুস্থ ব্যবস্থার অংশ। কিন্তু যখন শাসনব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক নাটকে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন উন্নয়নের মৌলিক প্রশ্নগুলো পেছনে সরে যায়।

The Future of Democracy | The New Yorker

একজন কৃষকের উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া, একটি গ্রামের বারবার জলবায়ু দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতার ঘাটতি কিংবা একটি পরিবারের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে আর্থিক বিপর্যয়ে পড়া—এসব ঘটনা কখনও বড় রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করে না। অথচ ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে ঠিক এই বিষয়গুলোই।

এখানে আশাবাদের জায়গাও রয়েছে। অধিকাংশ দেশের মতো আমাদের সমাজও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করতে সক্ষম। সমস্যা হলো, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়ন এক জিনিস নয়। একটি উন্নত, স্থিতিশীল ও সুযোগসমৃদ্ধ সমাজ গঠনের স্বপ্ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন সেটি সরকার পরিবর্তনের পরও টিকে থাকে এবং নীতিনির্ধারণের ধারাবাহিক অংশে পরিণত হয়।

বাস্তব অগ্রগতির জন্য কয়েকটি ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়ন, কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা, উচ্চমূল্য সংযোজনকারী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অধিক উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এসবই অপরিহার্য। এগুলোর কোনোটিই আকর্ষণীয় রাজনৈতিক স্লোগান নয়। এগুলো থেকে তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তা অর্জনও কঠিন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে ওঠে ঠিক এমন নীতির ওপরই।

Pathways to a new political order | The Daily Star

ইতিহাস দেখায়, যে দেশগুলো সফলভাবে দারিদ্র্য কমিয়েছে, তারা কোনো একক নেতা, কোনো একক কর্মসূচি বা কোনো নাটকীয় রাজনৈতিক ঘটনার ওপর নির্ভর করেনি। তারা ধারাবাহিকভাবে প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করেছে, নীতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে রাখার চেষ্টা করেছে। উন্নয়ন আসলে একবারের সাফল্য নয়; এটি একই লক্ষ্যে বারবার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার প্রক্রিয়া।

রাজনৈতিক বিতর্ক আসবে, যাবে। নতুন বিতর্ক পুরোনো বিতর্ককে সরিয়ে দেবে। এটাই রাজনীতির স্বাভাবিক চরিত্র। কিন্তু দারিদ্র্য ততক্ষণ অপেক্ষা করে না। এটি প্রতিদিনের জীবনে উপস্থিত থাকে—শ্রেণিকক্ষে, হাসপাতালের করিডরে, বন্যাকবলিত এলাকায়, কর্মহীন মানুষের ঘরে এবং সেই সব ডাইনিং টেবিলে, যেখানে পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

অতএব, মূল প্রশ্ন কোনো জাতির স্বপ্ন অর্জনযোগ্য কি না, সেটি নয়। প্রশ্ন হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কি এখনো সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ধৈর্য, দূরদর্শিতা এবং অঙ্গীকার ধরে রাখতে সক্ষম? একটি সমাজের প্রকৃত শক্তি মাপা যায় সে কতটা দূরের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে পারে তার মাধ্যমে। আর সেই ভবিষ্যৎ নির্মিত হয় তখনই, যখন বর্তমানের শোরগোলের চেয়ে আগামী প্রজন্মের কল্যাণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।