০৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
কাতারের হাতে ইরানি যুদ্ধবিমান চালকদের আটকের দাবি, সরাসরি অস্বীকার দোহার কূটনীতি নয়, রাজনৈতিক উসকানি তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করলো ঢাকা আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন মানচিত্র সীমান্তে ফের পুশইনের চেষ্টা, চারজনকে ঠেকিয়ে দিল বিজিবি ইউরোপের পোশাকবাজারে ধাক্কা, প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি কমল ১৬ শতাংশ স্বাধীনতার ৭৯ বছরে পাকিস্তানকে ঐক্য ও শৃঙ্খলার বার্তা সশস্ত্র বাহিনীর মাস্তাংয়ে বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বহরে হামলা, আহত ৬ নিরাপত্তাকর্মী পাহালগাম হামলার পর মোদির প্রথম প্রশ্ন—‘কারা করেছে?’ অজিত দোভালের মুখে অপারেশন সিঁদুরের নেপথ্যকথা রাজনীতির ময়দানে ফের বিতর্ক: বিজয়ের মাকে নিয়ে নাইনর নাগেন্দ্রনের মন্তব্যে তীব্র সমালোচনা

ধানের ফলন, জলবায়ুর মূল্য এবং কৃষির নতুন বাস্তবতা

বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের খাদ্যতালিকার কেন্দ্রবিন্দু হলো চাল। এশিয়ার বিস্তীর্ণ সমতলভূমি থেকে শুরু করে পাহাড়ি ধাপচাষের জমি পর্যন্ত ধান শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়, বরং খাদ্যনিরাপত্তা, সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি। কিন্তু ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে মানবসভ্যতার এই প্রধান খাদ্যশস্যের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি জটিল সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বের খাদ্যচাহিদা পূরণে ধান যত গুরুত্বপূর্ণ, এর উৎপাদন পদ্ধতি ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে।

গত কয়েক দশকে কৃষি খাতের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আলোচনায় সাধারণত পশুপালন, বন উজাড় কিংবা শিল্পকারখানার দূষণ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা দেখাচ্ছে, ধানচাষ নিজেও একটি উল্লেখযোগ্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী খাতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে জলাবদ্ধ জমিতে ধান উৎপাদনের প্রচলিত পদ্ধতি এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করে যেখানে অণুজীব বিপুল পরিমাণ মিথেন উৎপাদন করে। মিথেনের উষ্ণায়ন ক্ষমতা কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় এর প্রভাবও ব্যাপক।

এই সমস্যার মূল কারণ শুধু ধানচাষের বিস্তার নয়, বরং উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তনও। বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের চাহিদা বেড়েছে। সেই চাহিদা পূরণে কৃষকরা বেশি সার ব্যবহার করছেন, উচ্চফলনশীল জাত চাষ করছেন এবং জমির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর নানা কৌশল গ্রহণ করছেন। ফলন বেড়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে বেড়েছে পরিবেশগত চাপও।

বিশেষভাবে লক্ষণীয় একটি বিষয় হলো ফসল কাটার পর খড় ও উদ্ভিদাবশেষ জমিতে মিশিয়ে দেওয়ার প্রবণতা। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য এই পদ্ধতি বহু অঞ্চলে উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু জলাবদ্ধ পরিবেশে এই জৈব পদার্থ অণুজীবের খাদ্যে পরিণত হয়ে মিথেন উৎপাদন বাড়ায়। অর্থাৎ কৃষির জন্য উপকারী বলে বিবেচিত একটি ব্যবস্থা কখনও কখনও জলবায়ুর জন্য নতুন সমস্যার উৎস হয়ে দাঁড়াতে পারে।

একইভাবে রাসায়নিক সারের ব্যবহারও দ্বিমুখী বাস্তবতা তৈরি করেছে। নাইট্রোজেনভিত্তিক সার ফলন বাড়াতে কার্যকর হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার নাইট্রাস অক্সাইড নির্গমন বাড়ায়। এই গ্যাসের উষ্ণায়ন ক্ষমতাও অত্যন্ত বেশি। ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির যে কৌশলগুলো গত কয়েক দশক ধরে সফল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, সেগুলোর পরিবেশগত মূল্য এখন নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

Rice production under climate change | Innovation News Network

তবে সমস্যার চিত্র যতটা উদ্বেগজনক, সমাধানের সম্ভাবনাও ততটাই বাস্তব। গবেষণাগুলো দেখাচ্ছে যে ধানের ফলন কমিয়ে না দিয়েও নির্গমন কিছুটা কমানো সম্ভব। এর মধ্যে অন্যতম হলো সেচ ব্যবস্থার উন্নতি। দীর্ঘ সময় জমি ডুবিয়ে রাখার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময় পরপর জমি শুকিয়ে নেওয়া হলে মিথেন উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। যদিও এতে অন্য কিছু গ্যাসের নির্গমন সামান্য বাড়তে পারে, সামগ্রিকভাবে পরিবেশগত ভারসাম্যের ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ফল দিতে পারে।

সারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের যুক্তি প্রযোজ্য। অধিক সার মানেই অধিক ফলন—এই ধারণা সব সময় সত্য নয়। বহু অঞ্চলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ব্যবহার করা হয়, যা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়িয়ে বরং পরিবেশ দূষণ এবং কৃষকের ব্যয় বৃদ্ধি করে। সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই অপচয় কমানো সম্ভব।

কৃষি নীতিনির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা হলো, একটি সফল পদ্ধতি পৃথিবীর সব অঞ্চলে সমান কার্যকর হবে। বাস্তবে ধানচাষের পরিবেশগত প্রভাব নির্ভর করে স্থানীয় জলবায়ু, মাটির ধরন, সেচব্যবস্থা এবং কৃষি সংস্কৃতির ওপর। যে কৌশল পূর্ব এশিয়ায় কার্যকর, তা দক্ষিণ এশিয়া বা আফ্রিকার জন্য সমান উপযোগী নাও হতে পারে। তাই একক সমাধানের পরিবর্তে অঞ্চলভিত্তিক কৌশল গ্রহণই বেশি বাস্তবসম্মত।

এখানেই ভবিষ্যৎ কৃষি নীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকে একই সঙ্গে দুটি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে—ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং কৃষি থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস কমানো। এই দুই লক্ষ্যকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন তীব্র হলে শেষ পর্যন্ত খাদ্য উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ধানচাষের ক্ষেত্রে বর্তমান গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, উৎপাদনশীলতা ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া সম্ভব, কিন্তু তা সহজ নয়। বিদ্যমান প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার উন্নতির মাধ্যমে নির্গমন কিছুটা কমানো যাবে, তবে আরও বড় পরিবর্তনের জন্য নতুন উদ্ভাবন, উন্নত কৃষি নির্দেশনা এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতির প্রয়োজন হবে।

বিশ্বের খাদ্যব্যবস্থার ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করছে আমরা ধানকে কীভাবে দেখি তার ওপর। শুধু খাদ্য হিসেবে নয়, বরং জলবায়ু নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবেও ধানকে বিবেচনা করার সময় এখন এসে গেছে। কারণ আগামী দিনের কৃষি সফল হবে তখনই, যখন তা মানুষের ক্ষুধা মেটানোর পাশাপাশি পৃথিবীর পরিবেশগত সীমাবদ্ধতাকেও সম্মান করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের হাতে ইরানি যুদ্ধবিমান চালকদের আটকের দাবি, সরাসরি অস্বীকার দোহার

ধানের ফলন, জলবায়ুর মূল্য এবং কৃষির নতুন বাস্তবতা

০৫:২৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের খাদ্যতালিকার কেন্দ্রবিন্দু হলো চাল। এশিয়ার বিস্তীর্ণ সমতলভূমি থেকে শুরু করে পাহাড়ি ধাপচাষের জমি পর্যন্ত ধান শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়, বরং খাদ্যনিরাপত্তা, সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি। কিন্তু ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে মানবসভ্যতার এই প্রধান খাদ্যশস্যের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি জটিল সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বের খাদ্যচাহিদা পূরণে ধান যত গুরুত্বপূর্ণ, এর উৎপাদন পদ্ধতি ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে।

গত কয়েক দশকে কৃষি খাতের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আলোচনায় সাধারণত পশুপালন, বন উজাড় কিংবা শিল্পকারখানার দূষণ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা দেখাচ্ছে, ধানচাষ নিজেও একটি উল্লেখযোগ্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী খাতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে জলাবদ্ধ জমিতে ধান উৎপাদনের প্রচলিত পদ্ধতি এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করে যেখানে অণুজীব বিপুল পরিমাণ মিথেন উৎপাদন করে। মিথেনের উষ্ণায়ন ক্ষমতা কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় এর প্রভাবও ব্যাপক।

এই সমস্যার মূল কারণ শুধু ধানচাষের বিস্তার নয়, বরং উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তনও। বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের চাহিদা বেড়েছে। সেই চাহিদা পূরণে কৃষকরা বেশি সার ব্যবহার করছেন, উচ্চফলনশীল জাত চাষ করছেন এবং জমির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর নানা কৌশল গ্রহণ করছেন। ফলন বেড়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে বেড়েছে পরিবেশগত চাপও।

বিশেষভাবে লক্ষণীয় একটি বিষয় হলো ফসল কাটার পর খড় ও উদ্ভিদাবশেষ জমিতে মিশিয়ে দেওয়ার প্রবণতা। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য এই পদ্ধতি বহু অঞ্চলে উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু জলাবদ্ধ পরিবেশে এই জৈব পদার্থ অণুজীবের খাদ্যে পরিণত হয়ে মিথেন উৎপাদন বাড়ায়। অর্থাৎ কৃষির জন্য উপকারী বলে বিবেচিত একটি ব্যবস্থা কখনও কখনও জলবায়ুর জন্য নতুন সমস্যার উৎস হয়ে দাঁড়াতে পারে।

একইভাবে রাসায়নিক সারের ব্যবহারও দ্বিমুখী বাস্তবতা তৈরি করেছে। নাইট্রোজেনভিত্তিক সার ফলন বাড়াতে কার্যকর হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার নাইট্রাস অক্সাইড নির্গমন বাড়ায়। এই গ্যাসের উষ্ণায়ন ক্ষমতাও অত্যন্ত বেশি। ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির যে কৌশলগুলো গত কয়েক দশক ধরে সফল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, সেগুলোর পরিবেশগত মূল্য এখন নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

Rice production under climate change | Innovation News Network

তবে সমস্যার চিত্র যতটা উদ্বেগজনক, সমাধানের সম্ভাবনাও ততটাই বাস্তব। গবেষণাগুলো দেখাচ্ছে যে ধানের ফলন কমিয়ে না দিয়েও নির্গমন কিছুটা কমানো সম্ভব। এর মধ্যে অন্যতম হলো সেচ ব্যবস্থার উন্নতি। দীর্ঘ সময় জমি ডুবিয়ে রাখার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময় পরপর জমি শুকিয়ে নেওয়া হলে মিথেন উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। যদিও এতে অন্য কিছু গ্যাসের নির্গমন সামান্য বাড়তে পারে, সামগ্রিকভাবে পরিবেশগত ভারসাম্যের ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ফল দিতে পারে।

সারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের যুক্তি প্রযোজ্য। অধিক সার মানেই অধিক ফলন—এই ধারণা সব সময় সত্য নয়। বহু অঞ্চলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ব্যবহার করা হয়, যা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়িয়ে বরং পরিবেশ দূষণ এবং কৃষকের ব্যয় বৃদ্ধি করে। সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই অপচয় কমানো সম্ভব।

কৃষি নীতিনির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা হলো, একটি সফল পদ্ধতি পৃথিবীর সব অঞ্চলে সমান কার্যকর হবে। বাস্তবে ধানচাষের পরিবেশগত প্রভাব নির্ভর করে স্থানীয় জলবায়ু, মাটির ধরন, সেচব্যবস্থা এবং কৃষি সংস্কৃতির ওপর। যে কৌশল পূর্ব এশিয়ায় কার্যকর, তা দক্ষিণ এশিয়া বা আফ্রিকার জন্য সমান উপযোগী নাও হতে পারে। তাই একক সমাধানের পরিবর্তে অঞ্চলভিত্তিক কৌশল গ্রহণই বেশি বাস্তবসম্মত।

এখানেই ভবিষ্যৎ কৃষি নীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকে একই সঙ্গে দুটি লক্ষ্য অর্জন করতে হবে—ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং কৃষি থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস কমানো। এই দুই লক্ষ্যকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন তীব্র হলে শেষ পর্যন্ত খাদ্য উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ধানচাষের ক্ষেত্রে বর্তমান গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, উৎপাদনশীলতা ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া সম্ভব, কিন্তু তা সহজ নয়। বিদ্যমান প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার উন্নতির মাধ্যমে নির্গমন কিছুটা কমানো যাবে, তবে আরও বড় পরিবর্তনের জন্য নতুন উদ্ভাবন, উন্নত কৃষি নির্দেশনা এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতির প্রয়োজন হবে।

বিশ্বের খাদ্যব্যবস্থার ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করছে আমরা ধানকে কীভাবে দেখি তার ওপর। শুধু খাদ্য হিসেবে নয়, বরং জলবায়ু নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবেও ধানকে বিবেচনা করার সময় এখন এসে গেছে। কারণ আগামী দিনের কৃষি সফল হবে তখনই, যখন তা মানুষের ক্ষুধা মেটানোর পাশাপাশি পৃথিবীর পরিবেশগত সীমাবদ্ধতাকেও সম্মান করবে।