০২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্মাদনায় শেয়ারবাজারে নতুন বুদ্‌বুদের আশঙ্কা কঙ্গোতে নতুন ইবোলা আতঙ্ক, ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা তালপাতার পাণ্ডুলিপি: একটি জাতির বিস্মৃত জ্ঞানভাণ্ডারের পুনরাবিষ্কার নামের জন্য নয়, দিক পরিবর্তনের জন্য বাজেট দরকার  ইবোলা মোকাবিলায় সময়ের বিরুদ্ধে দৌড়, নতুন ওষুধে আশার আলো দেখছেন বিজ্ঞানীরা স্পেসএক্সের ১০ শতাংশ সম্ভাবনা থেকে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বিস্ময়, ইতিহাস গড়লেন ইলন মাস্ক দুর্নীতির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল নেতাদের ঘরে ঘরে তদন্ত, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ ভারতের দাপুটে জয়, পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে শক্ত বার্তা মিসৌরিতে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ১২ জনের জেওয়ার বিমানবন্দরে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু, লখনউ থেকে প্রথম ফ্লাইটের ঐতিহাসিক অবতরণ

শাকিরার চোখে বিশ্বকাপের সেরা সংগীত: যে গান এক করে কোটি ফুটবলভক্ত

ফিফা বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি বিশেষ সংগীত, যা মাঠের উত্তেজনাকে ছড়িয়ে দেয় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে। কিন্তু কী একটি গানকে স্মরণীয় বিশ্বকাপ সংগীতে পরিণত করে? ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অতীত ও বর্তমানের বিশ্বকাপ সংগীতের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন শিল্পী সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে।

সংগীতের মাধ্যমে সংস্কৃতির সেতুবন্ধন

কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা, যিনি ২০১০ সালের বিশ্বকাপের জনপ্রিয় সংগীত ‘ওয়াকা ওয়াকা (দিস টাইম ফর আফ্রিকা)’ উপহার দিয়েছিলেন, মনে করেন একটি সফল বিশ্বকাপ সংগীতের মূল শক্তি হলো মানুষের আবেগকে এক সুতোয় গাঁথা। ২০২৬ বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সংগীত ‘দাই দাই’-এ আফ্রোবিটস শিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে অংশ নেওয়া শাকিরার মতে, এমন গানে থাকতে হবে শক্তিশালী ছন্দ, প্রাণবন্ত শক্তি এবং সবাই মিলে গাওয়ার মতো আবেদন।

তিনি বলেন, বিশ্বকাপের গান এমন হওয়া উচিত যা মানুষকে নাচতে, একসঙ্গে গাইতে এবং আবেগগতভাবে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করে। কারণ ফুটবলের মতোই সংগীতও ভিন্ন সংস্কৃতি ও পটভূমির মানুষকে কাছাকাছি নিয়ে আসে।

Shakira shows off star-studded line up including Messi, Kane & Haaland for  video for her official World Cup song

দ্রুত মনোযোগ কাড়ার গুরুত্ব

কলম্বিয়ান গায়ক জে বালভিনের মতে, বর্তমান সময়ের সংগীতে প্রথম মুহূর্তেই শ্রোতার মনোযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে কোকা-কোলার অফিসিয়াল গানে অংশ নেওয়া এই শিল্পী বলেন, এখন মানুষের মনোযোগের সময় কমে গেছে। ফলে গানের শুরুটা হতে হবে শক্তিশালী এবং তাতে থাকতে হবে সহজে মনে রাখার মতো আকর্ষণীয় অংশ।

তার ভাষায়, একটি বিশ্বকাপ সংগীতের মধ্যে ফুটবল ম্যাচের আবেগ, উত্থান-পতন এবং তীব্র প্রতিযোগিতার অনুভূতি প্রতিফলিত হওয়া জরুরি।

জয়ের অনুভূতি ও অনুপ্রেরণার বার্তা

কানাডিয়ান-মরোক্কান শিল্পী নোরা ফাতেহি মনে করেন, একটি সফল বিশ্বকাপ সংগীত শ্রোতার মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণার অনুভূতি তৈরি করে। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের ‘সির, সির’ গানে অংশ নেওয়া এই শিল্পীর মতে, গানটি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই যেন জয়ের স্বপ্ন, প্রেরণা এবং এগিয়ে যাওয়ার শক্তি অনুভূত হয়।

তিনি বলেন, এমন সংগীত মানুষের মনে ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করে এবং বড় লক্ষ্য অর্জনের আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে।

When was the last time Shakira performed at a FIFA World Cup opening  ceremony? - Bolavip US

ভাষার সীমা পেরিয়ে ঐক্যের বার্তা

২০১৪ সালের বিশ্বকাপ সংগীত ‘দার উম জেইতো (উই উইল ফাইন্ড আ ওয়ে)’-এর সহ-স্রষ্টা ওয়াইক্লেফ জ্যাঁর মতে, একটি ভালো বিশ্বকাপ সংগীতের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো স্টেডিয়ামজুড়ে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করার ক্ষমতা। তার মতে, শক্তিশালী সুর, ছন্দ এবং সাংস্কৃতিক প্রাণশক্তিই একটি গানকে আলাদা করে তোলে।

তিনি আরও বলেন, অনেক শিল্পীর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন এমন সাংস্কৃতিক শক্তি যা ভাষার বাধা অতিক্রম করতে পারে। বিশ্বকাপের সংগীতে ঐক্য, আশা এবং প্রতিকূলতা জয় করার বার্তা থাকা উচিত, যা বিশ্বের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

বদলাচ্ছে সংগীত, একই থাকছে উদ্দেশ্য

বিশ্বকাপের প্রতিটি নতুন আসরের সঙ্গে সংগীতের ধরন ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন এলেও একটি বিষয় অপরিবর্তিত রয়েছে। তা হলো—ছন্দ, আবেগ এবং উদযাপনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীদের একত্রিত করা। শিল্পীদের মতে, একটি সত্যিকারের সফল বিশ্বকাপ সংগীত কেবল একটি গান নয়, বরং বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্মাদনায় শেয়ারবাজারে নতুন বুদ্‌বুদের আশঙ্কা

শাকিরার চোখে বিশ্বকাপের সেরা সংগীত: যে গান এক করে কোটি ফুটবলভক্ত

০২:৫৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি বিশেষ সংগীত, যা মাঠের উত্তেজনাকে ছড়িয়ে দেয় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে। কিন্তু কী একটি গানকে স্মরণীয় বিশ্বকাপ সংগীতে পরিণত করে? ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অতীত ও বর্তমানের বিশ্বকাপ সংগীতের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন শিল্পী সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে।

সংগীতের মাধ্যমে সংস্কৃতির সেতুবন্ধন

কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা, যিনি ২০১০ সালের বিশ্বকাপের জনপ্রিয় সংগীত ‘ওয়াকা ওয়াকা (দিস টাইম ফর আফ্রিকা)’ উপহার দিয়েছিলেন, মনে করেন একটি সফল বিশ্বকাপ সংগীতের মূল শক্তি হলো মানুষের আবেগকে এক সুতোয় গাঁথা। ২০২৬ বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক সংগীত ‘দাই দাই’-এ আফ্রোবিটস শিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে অংশ নেওয়া শাকিরার মতে, এমন গানে থাকতে হবে শক্তিশালী ছন্দ, প্রাণবন্ত শক্তি এবং সবাই মিলে গাওয়ার মতো আবেদন।

তিনি বলেন, বিশ্বকাপের গান এমন হওয়া উচিত যা মানুষকে নাচতে, একসঙ্গে গাইতে এবং আবেগগতভাবে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করে। কারণ ফুটবলের মতোই সংগীতও ভিন্ন সংস্কৃতি ও পটভূমির মানুষকে কাছাকাছি নিয়ে আসে।

Shakira shows off star-studded line up including Messi, Kane & Haaland for  video for her official World Cup song

দ্রুত মনোযোগ কাড়ার গুরুত্ব

কলম্বিয়ান গায়ক জে বালভিনের মতে, বর্তমান সময়ের সংগীতে প্রথম মুহূর্তেই শ্রোতার মনোযোগ ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে কোকা-কোলার অফিসিয়াল গানে অংশ নেওয়া এই শিল্পী বলেন, এখন মানুষের মনোযোগের সময় কমে গেছে। ফলে গানের শুরুটা হতে হবে শক্তিশালী এবং তাতে থাকতে হবে সহজে মনে রাখার মতো আকর্ষণীয় অংশ।

তার ভাষায়, একটি বিশ্বকাপ সংগীতের মধ্যে ফুটবল ম্যাচের আবেগ, উত্থান-পতন এবং তীব্র প্রতিযোগিতার অনুভূতি প্রতিফলিত হওয়া জরুরি।

জয়ের অনুভূতি ও অনুপ্রেরণার বার্তা

কানাডিয়ান-মরোক্কান শিল্পী নোরা ফাতেহি মনে করেন, একটি সফল বিশ্বকাপ সংগীত শ্রোতার মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণার অনুভূতি তৈরি করে। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের ‘সির, সির’ গানে অংশ নেওয়া এই শিল্পীর মতে, গানটি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই যেন জয়ের স্বপ্ন, প্রেরণা এবং এগিয়ে যাওয়ার শক্তি অনুভূত হয়।

তিনি বলেন, এমন সংগীত মানুষের মনে ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করে এবং বড় লক্ষ্য অর্জনের আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে।

When was the last time Shakira performed at a FIFA World Cup opening  ceremony? - Bolavip US

ভাষার সীমা পেরিয়ে ঐক্যের বার্তা

২০১৪ সালের বিশ্বকাপ সংগীত ‘দার উম জেইতো (উই উইল ফাইন্ড আ ওয়ে)’-এর সহ-স্রষ্টা ওয়াইক্লেফ জ্যাঁর মতে, একটি ভালো বিশ্বকাপ সংগীতের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো স্টেডিয়ামজুড়ে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করার ক্ষমতা। তার মতে, শক্তিশালী সুর, ছন্দ এবং সাংস্কৃতিক প্রাণশক্তিই একটি গানকে আলাদা করে তোলে।

তিনি আরও বলেন, অনেক শিল্পীর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তবে তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন এমন সাংস্কৃতিক শক্তি যা ভাষার বাধা অতিক্রম করতে পারে। বিশ্বকাপের সংগীতে ঐক্য, আশা এবং প্রতিকূলতা জয় করার বার্তা থাকা উচিত, যা বিশ্বের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

বদলাচ্ছে সংগীত, একই থাকছে উদ্দেশ্য

বিশ্বকাপের প্রতিটি নতুন আসরের সঙ্গে সংগীতের ধরন ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন এলেও একটি বিষয় অপরিবর্তিত রয়েছে। তা হলো—ছন্দ, আবেগ এবং উদযাপনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীদের একত্রিত করা। শিল্পীদের মতে, একটি সত্যিকারের সফল বিশ্বকাপ সংগীত কেবল একটি গান নয়, বরং বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক।