বিশ্ব নারী ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হচ্ছে ইংল্যান্ডে। এবার প্রথমবারের মতো ১২টি দল নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে এই টুর্নামেন্ট, যা নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। শিরোপার অন্যতম দাবিদার অস্ট্রেলিয়া হলেও ভারত, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোও ট্রফির লড়াইয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ পর্ব শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। আগামী ৫ জুলাই ঐতিহাসিক লর্ডসে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
শিরোপার লড়াইয়ে কারা এগিয়ে
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল অস্ট্রেলিয়া। ছয়বারের চ্যাম্পিয়নরা আবারও অন্যতম ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ধারাবাহিক উন্নতি তাদের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নারী প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ভারতীয় দল এখন বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে অনেক বেশি প্রস্তুত।
স্বাগতিক ইংল্যান্ডও আত্মবিশ্বাসী। নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপে তাদের রেকর্ড ঈর্ষণীয়। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক বৈশ্বিক ফাইনাল খেললেও শিরোপা ছুঁতে পারেনি। এবার তারা সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চায়।
গত আসরের চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নামছে। তবে দলের কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের জন্য এটি শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হওয়ায় তাদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে।
দুই গ্রুপে ১২ দলের লড়াই
গ্রুপ ‘এ’-তে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ভারত, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
গ্রুপ ‘বি’-তে খেলবে ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল নিজেদের গ্রুপের অন্য পাঁচ দলের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলবে। এরপর শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে।

বাংলাদেশের সূচি
বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৪ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ১৭ জুন অস্ট্রেলিয়া, ২০ জুন পাকিস্তান, ২৫ জুন ভারত এবং ২৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।
বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের এটি টানা সপ্তম অংশগ্রহণ। ২০১৪ সালে অভিষেকের পর থেকে দলটি বিশ্বকাপে ২৫টি ম্যাচ খেলেছে এবং জিতেছে মাত্র তিনটিতে। এবার সেই পরিসংখ্যান উন্নত করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে টাইগ্রেসরা।
পুরস্কার অর্থে নতুন রেকর্ড
এবারের আসরে পুরস্কার তহবিলও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। মোট পুরস্কার অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা নারী ক্রিকেটে অন্যতম বড় আর্থিক পুরস্কার।
এ ছাড়া রানার্সআপ, সেমিফাইনালিস্ট এবং গ্রুপ পর্বে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলও উল্লেখযোগ্য অর্থ পাবে। অংশগ্রহণকারী সব দলের জন্যই ন্যূনতম অর্থ পুরস্কার নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইংল্যান্ডের সাত ভেন্যুতে ৩৩ ম্যাচ
পুরো টুর্নামেন্টে ৩৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ইংল্যান্ডের সাতটি ভেন্যুতে। গ্রুপ পর্ব চলবে ১২ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত। সেমিফাইনাল দুটি অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জুন ও ২ জুলাই। এরপর ৫ জুলাই লর্ডসে হবে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল।
খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেমিফাইনাল বা ফাইনাল বাধাগ্রস্ত হলে বিশেষ নিয়মও রাখা হয়েছে। সেমিফাইনাল সম্পন্ন না হলে গ্রুপসেরা দল ফাইনালে উঠবে। আর ফাইনাল পরিত্যক্ত হলে দুই দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে।
নারী ক্রিকেটের প্রসার ও প্রতিযোগিতার মান বৃদ্ধির প্রতিফলন হিসেবে এবারের বিশ্বকাপকে দেখা হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারে, সেটিও থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের বিশেষ নজরে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















