০৮:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
ইউরোপকে এক করার অদৃশ্য কারিগর কারা? লেবার ও ব্যবসা: অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে সম্পর্ক মেরামতের নতুন সুযোগ শান্তির কথা বলাই এখন রাশিয়ায় অপরাধ, নির্বাচনের দৌড় থেকে বাদ উদারপন্থী ইয়াব্লোকো বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার আশঙ্কা: জার্মানিকে নতুন ধরনের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে হবে শুকিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের প্রধান নদী, জ্বালানি ও শিল্পে বাড়ছে বিপদের শঙ্কা ব্যর্থতার দীর্ঘ ইতিহাস পেরিয়ে সমুদ্রশক্তি বাড়াচ্ছে ব্রাজিল রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন শুল্ক অস্ত্র হাতে ট্রাম্প, চাপে পড়তে পারে মস্কোর জ্বালানি অর্থনীতি পাঁচ বছরে আফগানিস্তান: যুদ্ধ কমেছে, কিন্তু সংকুচিত হয়েছে মানুষের জীবন বিশেষজ্ঞের ভিড়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার প্রজ্ঞাবান মানুষ আমেরিকার বিজ্ঞানব্যবস্থায় বড় সংস্কারের ডাক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নতুন পথের খোঁজ

অগ্রণী ব্যাংকের ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার হিসাব নেই, গ্রেপ্তার দুই

চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও হওয়ার ঘটনায় ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিপুল অঙ্কের এই টাকা কীভাবে ভল্ট থেকে বেরিয়ে গেল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং অর্থের কোনো অংশ উদ্ধার করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় এখন তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও নগদ অর্থের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল হোসেন, বয়স ৪১ বছর। অপরজন ২৫ বছর বয়সী মো. জাফরুল্লাহ তানভীর।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা মামলার ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে সরাসরি আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

হিসাব মেলাতে গিয়ে ধরা পড়ে বড় ঘাটতি

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শাখার নগদ অর্থ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন কামরুল হোসেন। প্রতিদিনের মতো গত ৯ আগস্ট ব্যাংকের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর দিনের নগদ লেনদেনের হিসাব এবং ভল্টে থাকা টাকার পরিমাণ মিলিয়ে দেখা হচ্ছিল।

এ সময় হিসাবের সঙ্গে ভল্টে থাকা নগদ অর্থের বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে হিসাবপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়।

পরে ভল্টের রেকর্ড, নগদ লেনদেনের হিসাব এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, মোট ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি রয়েছে।

এত বড় অঙ্কের টাকা কোথায় গেল, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে মামলায় কামরুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

সহযোগীদের নিয়ে টাকা সরানোর অভিযোগ

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কামরুল হোসেন একা নয়, জাফরুল্লাহ তানভীর এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির সহযোগিতায় ভল্ট থেকে ওই টাকা সরিয়ে নেন।

তবে অভিযোগের পুরো বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ যাচাই করছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জব্দ করা হয়েছে মুঠোফোন ও পেনড্রাইভ

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক মো. ইকবাল হোসেন জানান, ব্যাংকের গ্রাহকদের জমা করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তাদের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন জব্দ করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে একটি ৬৪ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার পেনড্রাইভও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পেনড্রাইভে হোয়াটসঅ্যাপে আদান-প্রদান করা বিভিন্ন যোগাযোগের তথ্য এবং পর্দার ধারণ করা কিছু ভিডিও রয়েছে। এসব তথ্য তদন্তে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, জব্দ করা মুঠোফোন ও পেনড্রাইভের তথ্য থেকে টাকা সরানোর ঘটনায় কারা কীভাবে যুক্ত ছিল, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

আদালতের নির্দেশে কারাগারে দুই আসামি

গ্রেপ্তারের পর কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভল্ট থেকে যে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা নিখোঁজ হয়েছে, তার পুরোটাই বিভিন্ন গ্রাহকের জমা করা অর্থ। ফলে বিষয়টি শুধু ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অনিয়মের অভিযোগ নয়, এর সঙ্গে গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে।

পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, ভল্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে কীভাবে এত বড় অঙ্কের অর্থ সরানো সম্ভব হলো। একই সঙ্গে হিসাবের গরমিল কখন থেকে তৈরি হয়েছে, কারা অর্থ সরানোর সঙ্গে জড়িত এবং নিখোঁজ অর্থ কোথায় রাখা হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।

ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হতে পারে। পাশাপাশি নিখোঁজ অর্থ উদ্ধারের বিষয়েও তদন্ত চলছে।

৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার মতো বড় অঙ্কের অর্থ ভল্ট থেকে উধাও হওয়ার ঘটনায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপকে এক করার অদৃশ্য কারিগর কারা?

অগ্রণী ব্যাংকের ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার হিসাব নেই, গ্রেপ্তার দুই

০৫:২০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও হওয়ার ঘটনায় ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিপুল অঙ্কের এই টাকা কীভাবে ভল্ট থেকে বেরিয়ে গেল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং অর্থের কোনো অংশ উদ্ধার করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় এখন তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও নগদ অর্থের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল হোসেন, বয়স ৪১ বছর। অপরজন ২৫ বছর বয়সী মো. জাফরুল্লাহ তানভীর।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা মামলার ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে সরাসরি আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

হিসাব মেলাতে গিয়ে ধরা পড়ে বড় ঘাটতি

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শাখার নগদ অর্থ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন কামরুল হোসেন। প্রতিদিনের মতো গত ৯ আগস্ট ব্যাংকের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর দিনের নগদ লেনদেনের হিসাব এবং ভল্টে থাকা টাকার পরিমাণ মিলিয়ে দেখা হচ্ছিল।

এ সময় হিসাবের সঙ্গে ভল্টে থাকা নগদ অর্থের বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে হিসাবপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হয়।

পরে ভল্টের রেকর্ড, নগদ লেনদেনের হিসাব এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, মোট ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি রয়েছে।

এত বড় অঙ্কের টাকা কোথায় গেল, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে মামলায় কামরুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

সহযোগীদের নিয়ে টাকা সরানোর অভিযোগ

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কামরুল হোসেন একা নয়, জাফরুল্লাহ তানভীর এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির সহযোগিতায় ভল্ট থেকে ওই টাকা সরিয়ে নেন।

তবে অভিযোগের পুরো বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। পুলিশ গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ যাচাই করছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জব্দ করা হয়েছে মুঠোফোন ও পেনড্রাইভ

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক মো. ইকবাল হোসেন জানান, ব্যাংকের গ্রাহকদের জমা করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তাদের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন জব্দ করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে একটি ৬৪ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার পেনড্রাইভও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই পেনড্রাইভে হোয়াটসঅ্যাপে আদান-প্রদান করা বিভিন্ন যোগাযোগের তথ্য এবং পর্দার ধারণ করা কিছু ভিডিও রয়েছে। এসব তথ্য তদন্তে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, জব্দ করা মুঠোফোন ও পেনড্রাইভের তথ্য থেকে টাকা সরানোর ঘটনায় কারা কীভাবে যুক্ত ছিল, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

আদালতের নির্দেশে কারাগারে দুই আসামি

গ্রেপ্তারের পর কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভল্ট থেকে যে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা নিখোঁজ হয়েছে, তার পুরোটাই বিভিন্ন গ্রাহকের জমা করা অর্থ। ফলে বিষয়টি শুধু ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অনিয়মের অভিযোগ নয়, এর সঙ্গে গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে।

পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, ভল্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে কীভাবে এত বড় অঙ্কের অর্থ সরানো সম্ভব হলো। একই সঙ্গে হিসাবের গরমিল কখন থেকে তৈরি হয়েছে, কারা অর্থ সরানোর সঙ্গে জড়িত এবং নিখোঁজ অর্থ কোথায় রাখা হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।

ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হতে পারে। পাশাপাশি নিখোঁজ অর্থ উদ্ধারের বিষয়েও তদন্ত চলছে।

৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার মতো বড় অঙ্কের অর্থ ভল্ট থেকে উধাও হওয়ার ঘটনায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।