২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই নানা বিতর্কে ঘিরে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে যেমন আগ্রহ রয়েছে, তেমনি বাড়ছে অসন্তোষও। বিশেষ করে টিকিটের উচ্চ মূল্য, বর্ধিত দলসংখ্যা এবং বাড়তি বাণিজ্যিক আয়োজন নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে উঠেছে।
টিকিটের দাম নিয়ে তীব্র অসন্তোষ
এবারের বিশ্বকাপে টিকিট বিক্রির নিয়ন্ত্রণ সরাসরি নিজেদের হাতে নিয়েছে ফিফা। নতুন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি এবং পুনরায় বিক্রির সুযোগের কারণে অনেক ম্যাচের টিকিটের দাম সাধারণ সমর্থকদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে আগের বিশ্বকাপের তুলনায় টিকিটের মূল্য কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
শুধু টিকিটই নয়, বিমানভাড়া, হোটেল খরচ এবং স্টেডিয়ামে যাতায়াত ব্যয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সাধারণ ফুটবল সমর্থকদের জন্য বিশ্বকাপ উপভোগ করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাড়ছে বাণিজ্যিকীকরণের অভিযোগ
অনেক সমালোচকের মতে, বিশ্বকাপ এখন ধীরে ধীরে একটি বিশাল বাণিজ্যিক প্রকল্পে পরিণত হচ্ছে। দলসংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে, ম্যাচের সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পাশাপাশি ফাইনালে প্রথমবারের মতো বিশেষ বিনোদনমূলক আয়োজন যুক্ত হওয়ায় ঐতিহ্য হারানোর আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, বিশ্বকাপের আসল শক্তি ছিল বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের উপস্থিতি, তাদের আবেগ এবং স্টেডিয়ামের অনন্য পরিবেশ। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে সেই পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
খালি গ্যালারির শঙ্কা
বিশ্বকাপের আগে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্লাব প্রতিযোগিতায় বড় বড় স্টেডিয়ামে দর্শকসংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। এ কারণে অনেকের আশঙ্কা, টিকিটের বর্তমান মূল্য কাঠামো বজায় থাকলে বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচেও খালি আসন দেখা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতিরিক্ত আয়ের লক্ষ্যে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘমেয়াদে ফুটবলের জনপ্রিয়তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আয় বাড়লেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে
ফিফার প্রত্যাশা, সম্প্রসারিত বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় হবে। সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং প্রিমিয়াম আতিথেয়তা প্যাকেজ থেকে বিপুল অর্থ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, এই আয়ের বিনিময়ে যদি সাধারণ সমর্থকরাই বিশ্বকাপ থেকে দূরে সরে যায়, তাহলে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের মূল আকর্ষণ কতটা অটুট থাকবে?
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা ফিফার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের ফুটবল সেই বিতর্ককে ছাপিয়ে যেতে পারে কি না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















