যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন একটি সমঝোতা কাঠামো তৈরি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। নতুন চুক্তিকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হলেও এর কার্যকারিতা এবং স্থায়িত্ব নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
চুক্তির পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে নিজের বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, এই সমঝোতার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি আবার স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা যাবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
পারমাণবিক ইস্যুতে অনিশ্চয়তা
তবে চুক্তির সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়, অর্থাৎ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। উভয় পক্ষ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে পৃথক আলোচনা চালাবে বলে জানা গেছে। ফলে ইরান ভবিষ্যতে কী পরিমাণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করবে বা তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা কতটা সীমিত হবে, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মিলছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অনিশ্চয়তাই চুক্তির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। কারণ মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিষয়টি ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধের লক্ষ্য কতটা পূরণ হলো?
কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্য সামনে রেখে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল, তার অনেকগুলোই এখনো অর্জিত হয়নি। শুরুতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস, পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বন্ধ এবং দেশটির নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কথা বলা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।
মাসের পর মাস চলা সংঘাতে হাজারো ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্যও। কিন্তু এসব চাপের মধ্যেও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অবস্থান থেকে সরে আসেনি।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
নতুন সমঝোতা ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজার ও বিশ্বনেতাদের মধ্যে সতর্ক আশাবাদ দেখা গেছে। অনেকের মতে, এই কাঠামো ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করবে আগামী দুই মাসের আলোচনার ওপর।
একই সময়ে উদ্বেগও রয়েছে। কারণ শান্তি প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা কিছু পক্ষ চুক্তি নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। ফলে আলোচনার পথে নতুন বাধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সামনের পথ কতটা কঠিন?
চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরি হলেও স্থায়ী সমাধানের নিশ্চয়তা এখনো নেই। ভবিষ্যৎ আলোচনায় যদি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ঐকমত্য না হয়, তাহলে আবারও উত্তেজনা বাড়তে পারে। এমনকি প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপে ফেরার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
ফলে আপাতত এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাব্য সূচনা বলা গেলেও, সংকটের মূল কারণ এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। আগামী কয়েক সপ্তাহই নির্ধারণ করবে এই কূটনৈতিক অগ্রগতি সত্যিকারের শান্তিতে রূপ নেবে, নাকি আবারও নতুন সংঘাতের দিকে গড়াবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















