ইরানের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে টোল ছাড়াই চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, তেহরানকে চুক্তির শর্ত পূরণ করতে হবে, এরপরই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধা বা তহবিল পাওয়ার বিষয় বিবেচনায় আসবে।
সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ভার্চুয়ালি এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি মূলত একটি প্রাথমিক কাঠামোগত চুক্তি, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির পথ তৈরি হবে।
তবে ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো এখনও চূড়ান্তভাবে সমাধান হয়নি। এসব ইস্যু নিয়ে আগামী দিনগুলোতে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা হবে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক ও মার্কিন পরিদর্শকদের আবারও ইরানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংসের বিষয়টিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ওয়াশিংটনের মতে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশ একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার চেষ্টা করবে। এ সময় পারমাণবিক ইস্যুই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ ছিল। তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাবের কারণে এই নৌপথ স্বাভাবিক করা এখন দুই পক্ষের অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ের কাছাকাছি ফিরে আসবে। ইতোমধ্যে নৌযান চলাচলে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে বলেও তারা জানিয়েছেন।
তবে ইরান জানিয়েছে, তারা সরাসরি টোল আরোপ না করলেও সামুদ্রিক সেবার বিপরীতে নির্দিষ্ট ফি নেওয়ার সুযোগ রাখতে চায়। ফলে এ বিষয়ে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
অর্থনৈতিক সুবিধা শর্তসাপেক্ষ
চুক্তি ঘিরে আলোচনায় ইরানের জন্য সম্ভাব্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিলের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, কোনো অর্থ ছাড় বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ইরানের কোনো জব্দকৃত সম্পদ ছাড় করা হয়নি। ভবিষ্যতে অর্থ ছাড়, নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা পুনর্গঠন সহায়তার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা ধাপে ধাপে এবং শর্ত পূরণের ভিত্তিতে হবে।
তাদের দাবি, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ ইরানকে দেওয়া হবে না। বরং নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে ইরানের পুনরায় সম্পৃক্ততা থেকে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সুফল তৈরি হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায় গড়ে উঠতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















