২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়েছেন ইরাকের মিডফিল্ডার জিদান ইকবাল। পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে মাঠে নেমে তিনি একটি অনন্য রেকর্ডের মালিক হয়েছেন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফক্সবরোতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে ইরাকের হয়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন জিদান। ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে তার নামা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করে। যদিও ম্যাচে ইরাক ৪-১ গোলে পরাজিত হয়, তবু জিদানের উপস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।
নরওয়ের দাপুটে জয়
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখায় নরওয়ে। দলের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড জোড়া গোল করে ইরাকের বিপক্ষে বড় জয় নিশ্চিত করেন। তবে ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় আসে জিদান ইকবালের ঐতিহাসিক অর্জন।

পাকিস্তান, ইরাক ও ইংল্যান্ড—তিন পরিচয়ের গল্প
জিদান ইকবালের পারিবারিক শিকড় দুই দেশে বিস্তৃত। তার বাবা পাকিস্তানি এবং মা ইরাকি। অন্যদিকে তিনি বড় হয়েছেন ইংল্যান্ডে। এই বহুমাত্রিক পরিচয়ই তার ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মিডফিল্ডার জিদান এক সাক্ষাৎকারে জানান, বিশ্বকাপে প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি নিজেও বিস্মিত হন। খবরটি জানার পরপরই তিনি তার বাবাকে জানান।
তিনি বলেন, বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণের পথে এগোলেও এমন একটি ঐতিহাসিক পরিচয়ের কথা আগে কখনও ভাবেননি। তার ভাষায়, বাবাই তার জীবনের সবচেয়ে সম্মানিত মানুষ এবং ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
দুই দেশের প্রতি সমান সম্মান

জিদান ইকবাল জানিয়েছেন, তিনি পাকিস্তান ও ইরাক—উভয় দেশের ঐতিহ্য ও পারিবারিক উত্তরাধিকারকে সমানভাবে সম্মান করেন। সে কারণেই মাঠে নামার সময় তার বুটে দুই দেশের পতাকা ব্যবহার করেন।
তার বাম পাশে থাকে ইরাকের পতাকা এবং ডান পাশে পাকিস্তানের পতাকা। তিনি মনে করেন, এটি দুই দিকের পারিবারিক শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি প্রতীকী উপায়।
জিদানের মতে, মানুষ প্রায়ই জানতে চায় তিনি কোন দেশের সঙ্গে বেশি সংযুক্ত অনুভব করেন। কিন্তু তার কাছে দুটো পরিচয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এই দ্বৈত ঐতিহ্যকে গর্বের সঙ্গে বহন করেন এবং এটিকে নিজের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখেন।
বিশ্বমঞ্চে তার এই উপস্থিতি শুধু ইরাকি ফুটবলের জন্য নয়, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রীড়াবিদদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















