বিশ্ব শাসনব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে একটি নতুন শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে চীন। বুধবার দেশটির স্টেট কাউন্সিল ইনফরমেশন অফিস “More Just and Equitable Global Governance: China’s Principles, Proposals and Actions” শিরোনামের এই নথি প্রকাশ করে।
শ্বেতপত্রে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে চীনের নীতি, প্রস্তাব ও পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বৃহত্তর ঐকমত্য গড়ে তোলা, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আরও ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক শাসন কাঠামো প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় চীনের অবস্থান
শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক শাসন একটি যৌথ উদ্যোগ, যা সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা হলো একটি ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা।

চীন দাবি করেছে, দেশটি সবসময়ই বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, অবদানকারী এবং নির্মাতা হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। নতুন যুগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ নির্মাণের ধারণা সামনে এনেছেন, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিকতাকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেয়।
গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভের গুরুত্ব
শ্বেতপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শি জিনপিং ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’ (জিজিআই) প্রস্তাব করেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা—কেমন ধরনের বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত এবং বিদ্যমান ব্যবস্থাকে কীভাবে সংস্কার ও উন্নত করা যায়।
চীনের দাবি, এই উদ্যোগ ঘোষণার পর দ্রুতই আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে শুরু করে। প্রায় ১৬০টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এ উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে এবং ৬০টিরও বেশি দেশ ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস অব গ্লোবাল গভর্ন্যান্স’-এ যোগ দিয়েছে।
শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মহল জিজিআইকে বহুপাক্ষিকতা রক্ষা, বৈশ্বিক ঐক্য জোরদার এবং আরও ন্যায়ভিত্তিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছে।’

জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর জোর
চীন মনে করে, একটি আরও ন্যায়সঙ্গত বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে জাতিসংঘের কর্তৃত্ব ও মর্যাদা অটুট রাখতে হবে। শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য।
একই সঙ্গে বড় শক্তিগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সব দেশের মধ্যে সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শান্তি ও উন্নয়ন ঘাটতি দূর করতে আন্তর্জাতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সব দেশকে জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আইনসম্মত ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখতে হবে।
পাঁচটি মূল অধ্যায়ে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ
ভূমিকা ও উপসংহার ছাড়াও শ্বেতপত্রে পাঁচটি প্রধান অধ্যায় রয়েছে। এসব অধ্যায়ে বর্তমান বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ, সেগুলোর প্রেক্ষাপটে গ্লোবাল গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েটিভের ভূমিকা, বৈশ্বিক শাসনে চীনের অবদান, ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের দিকনির্দেশনা এবং ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
চীনের মতে, বর্তমান অস্থির আন্তর্জাতিক পরিবেশে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি নতুন বৈশ্বিক শাসন কাঠামো বিশ্বে স্থিতিশীলতা ও ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















