চীনের হুয়াংইয়ান দাও লেগুনের সিগ্রাস বা সামুদ্রিক ঘাসের বিস্তীর্ণ এলাকায় ৫০টিরও বেশি বিপন্ন সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপের সন্ধান পেয়েছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা। এই প্রজাতিটি চীনে প্রথম শ্রেণির জাতীয় সুরক্ষাপ্রাপ্ত বন্যপ্রাণী হিসেবে স্বীকৃত। গবেষকদের মতে, এ আবিষ্কার হুয়াংইয়ান দাও জাতীয় প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকার পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের ইতিবাচক ফলাফলকে সামনে নিয়ে এসেছে।
চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেসের অধীন সাউথ চায়না সি ইনস্টিটিউট অব ওশানোলজির একটি বৈজ্ঞানিক অভিযাত্রী দল এই কচ্ছপগুলোর সন্ধান পায়। দলটি হুয়াংইয়ান দাওয়ের গঠন, বিবর্তন এবং পরিবেশগত স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করছে।
সিগ্রাসের বিস্তার, কচ্ছপের নিরাপদ আবাস
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হুয়াংইয়ান দাওয়ের নরম তলদেশবিশিষ্ট সামুদ্রিক অঞ্চলে সিগ্রাসের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সিগ্রাস সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রধান খাদ্য উৎস হিসেবে কাজ করছে।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, লেগুন এলাকাটি এখন একটি পরিণত প্রবালপ্রাচীর-সিগ্রাস বাস্তুতন্ত্রে রূপ নিয়েছে। ফলে সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপের পাশাপাশি গিবারুলাস গিবারুলাস (হাম্পব্যাকড কঞ্চ) প্রজাতির মতো মূল্যবান সামুদ্রিক প্রাণীর জন্যও এটি উচ্চমানের আবাসস্থল হয়ে উঠেছে।
নতুন বালুচর, ভবিষ্যতে হতে পারে ডিম পাড়ার স্থান
অভিযান চলাকালে বিজ্ঞানীরা সিগ্রাস অঞ্চলের কাছে একটি গড়ে ওঠা বালুচরেরও সন্ধান পান। জোয়ার-ভাটার প্রভাবে নিম্ন জোয়ারের সময় বালুচরটির কিছু অংশ দৃশ্যমান হয়।
গবেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে এই বালুচর পুরোপুরি জেগে উঠতে পারে এবং সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ ও হকসবিল কচ্ছপের ডিম পাড়ার নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে হুয়াংইয়ান দাও অঞ্চলটি এসব কচ্ছপের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনচক্রভিত্তিক আবাসস্থলে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করবে।
সংরক্ষণ উদ্যোগের সুফল
২০১২ সাল থেকে হুয়াংইয়ান দাও সংলগ্ন জলসীমায় অবৈধ মাছ ধরা রোধে চীনের কোস্ট গার্ড নজরদারি জোরদার করেছে। গবেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণীদের টিকে থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
চীনের সামরিক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বেসামরিক পর্যায়ের যৌথ সংরক্ষণ প্রচেষ্টার ফলে দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন দ্বীপ ও প্রবালপ্রাচীর এলাকায় সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ, হকসবিল কচ্ছপ এবং ডুগং বা সি কাউয়ের মতো বিরল প্রাণীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ কর্মসূচির কার্যকারিতার ইঙ্গিত দেয় বলে গবেষকরা মনে করছেন।
ড্রোনে ধরা পড়ল বিরল দৃশ্য
সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপের সংখ্যা নিরূপণ ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য গবেষণা দলটি ড্রোনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। কম বিরক্তিকর ও আধুনিক জরিপ পদ্ধতির মাধ্যমে তারা একসঙ্গে দলবদ্ধভাবে সাঁতার কাটতে থাকা কচ্ছপগুলোর বিরল ভিডিওচিত্র ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ নয়, বরং দক্ষিণ চীন সাগরের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের অগ্রগতিরও একটি উল্লেখযোগ্য প্রমাণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















