০৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
মসজিদের জন্য মাইক কিনতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের সিন্ধু পানি চুক্তি: আইনের শাসন নাকি উজানের একতরফা ক্ষমতা? অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, অধিনায়ক হিসেবে নতুন দায়িত্বে হৃদয় ভারতে থমকে থাকা মৌসুমী বৃষ্টি, বৃষ্টির ঘাটতি ৩৫ শতাংশ; কৃষিতে সতর্কতা জোরদার রাম মন্দিরের অনুদান কেলেঙ্কারি নিয়ে তোলপাড়, উচ্চ আদালতের বিচারকের তত্ত্বাবধানে তদন্ত দাবি কংগ্রেসের তৃণমূলে শক্তি প্রদর্শন রিতব্রতের, সমর্থন বেড়ে ৬৫ বিধায়ক দাবি; ফ্লোর টেস্টের চ্যালেঞ্জ তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা, বিদ্রোহী এমপিদের আবেদনে অবস্থান ব্যাখ্যার আহ্বান স্পিকারের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ এখন ঢাকার চিড়িয়াখানায়, বিশ্বজুড়ে ভাইরাল বাংলাদেশের অ্যালবিনো মহিষ বিটিএস-মাডোনা-শাকিরা একসঙ্গে, বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতিহাসের প্রথম হাফটাইম শো দৃশ্যম ৩ আগামীকাল অ্যামাজন প্রাইমে, ৩৩০ কোটি রুপির ব্লকবাস্টার এবার ঘরে বসেই দেখুন

সাভারকরের ১০টি ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন আদালতে স্বীকার করলেন প্রপৌত্র

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিতর্কিত ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে পুনের একটি বিশেষ আদালতে দেওয়া সাক্ষ্য। সাভারকরের প্রপৌত্র সত্যকি সাভারকর আদালতে জানিয়েছেন, ব্রিটিশ শাসনামলে সাভারকর তাঁর সাজা কমানোর জন্য মোট ১০টি ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন জমা দিয়েছিলেন।

এই তথ্য উঠে এসেছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি ফৌজদারি মানহানির মামলার শুনানিতে। শুনানির সময় সত্যকি সাভারকর আদালতকে জানান, এসব আবেদন সরকারের নথিপত্রে সংরক্ষিত রয়েছে এবং সেগুলো ব্রিটিশ প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই করা হয়েছিল।

ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন নিয়ে আদালতে আলোচনা

বিশেষ বিচারক অমোল শিন্ডের আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সত্যকি সাভারকর বলেন, সাভারকরকে আন্দামানে পাঠানোর আগেই একটি সাময়িকীতে তাঁকে ‘বীর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। একই সময়ের অন্যান্য বিপ্লবীদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, রাজগুরু, বটুকেশ্বর দত্ত ও আশফাকউল্লাহ খানের মতো বিপ্লবীরা কোনো ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করেননি।

VD Savarkar filed 10 mercy petitions before British, grandnephew tells Pune  court

তবে তিনি স্বীকার করেন, সাভারকর সাজা ঘোষণার প্রথম মাসের মধ্যেই প্রথম আবেদনটি করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ভগত সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত ব্রিটিশ সরকারের কাছে যুদ্ধবন্দির মর্যাদা দাবি করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তবে তিনি মেনে নেন যে ভগত সিং ও দত্ত তাঁদের আদর্শে শেষ পর্যন্ত অটল ছিলেন।

সরকারি নথিতে সংরক্ষিত আবেদন

সত্যকি সাভারকরের ভাষ্য অনুযায়ী, সাভারকরের ১০টি আবেদন সরকারি আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। তাঁর দাবি, আবেদনগুলোর ভাষা ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে না। বরং কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেগুলো অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, সে সময় ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন লেখার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সরকারি রীতি অনুসরণ করা হতো। আদালতে তিনি জানান, প্রতিটি আবেদনের শেষে সাভারকর ‘আপনার বাধ্যগত সেবক’ ধরনের বাক্য ব্যবহার করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

সব আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল

VD Savarkar filed 10 mercy petitions before British, grandnephew tells Pune  court

সাক্ষ্যে সত্যকি সাভারকর দাবি করেন, ব্রিটিশ সরকার সাভারকরের সব আবেদনই প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, মুক্তি পেলে তিনি আবারও বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন। তিনি বলেন, সাজা হ্রাস বা পরিবর্তনের ক্ষমতা সরকারের হাতে ছিল এবং তা নির্ভর করত তৎকালীন নীতির ওপর।

তিনি আরও জানান, একটি আবেদনে সাভারকর তাঁর সঙ্গে আন্দামানে পাঠানো অন্যদের মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন এবং নিজেকে কঠোর শাস্তির আওতায় বন্দি রাখার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।

ক্ষমা প্রার্থনা বাধ্যতামূলক ছিল না

সত্যকি সাভারকর আদালতে বলেন, ব্রিটিশ আমলে বন্দিদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করা একটি প্রচলিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছিল। অনেক বন্দিই এমন আবেদন করেছেন। তবে এটি কোনো বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা ছিল না। আবেদন করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বন্দির ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করত।

এই সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে সাভারকরের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে তাঁর ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনগুলোর প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য নিয়েও আবার আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদের জন্য মাইক কিনতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

সাভারকরের ১০টি ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন আদালতে স্বীকার করলেন প্রপৌত্র

০৩:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিতর্কিত ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে পুনের একটি বিশেষ আদালতে দেওয়া সাক্ষ্য। সাভারকরের প্রপৌত্র সত্যকি সাভারকর আদালতে জানিয়েছেন, ব্রিটিশ শাসনামলে সাভারকর তাঁর সাজা কমানোর জন্য মোট ১০টি ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন জমা দিয়েছিলেন।

এই তথ্য উঠে এসেছে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি ফৌজদারি মানহানির মামলার শুনানিতে। শুনানির সময় সত্যকি সাভারকর আদালতকে জানান, এসব আবেদন সরকারের নথিপত্রে সংরক্ষিত রয়েছে এবং সেগুলো ব্রিটিশ প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই করা হয়েছিল।

ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন নিয়ে আদালতে আলোচনা

বিশেষ বিচারক অমোল শিন্ডের আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সত্যকি সাভারকর বলেন, সাভারকরকে আন্দামানে পাঠানোর আগেই একটি সাময়িকীতে তাঁকে ‘বীর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। একই সময়ের অন্যান্য বিপ্লবীদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, রাজগুরু, বটুকেশ্বর দত্ত ও আশফাকউল্লাহ খানের মতো বিপ্লবীরা কোনো ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করেননি।

VD Savarkar filed 10 mercy petitions before British, grandnephew tells Pune  court

তবে তিনি স্বীকার করেন, সাভারকর সাজা ঘোষণার প্রথম মাসের মধ্যেই প্রথম আবেদনটি করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ভগত সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত ব্রিটিশ সরকারের কাছে যুদ্ধবন্দির মর্যাদা দাবি করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তবে তিনি মেনে নেন যে ভগত সিং ও দত্ত তাঁদের আদর্শে শেষ পর্যন্ত অটল ছিলেন।

সরকারি নথিতে সংরক্ষিত আবেদন

সত্যকি সাভারকরের ভাষ্য অনুযায়ী, সাভারকরের ১০টি আবেদন সরকারি আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। তাঁর দাবি, আবেদনগুলোর ভাষা ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে না। বরং কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেগুলো অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল।

তিনি বলেন, সে সময় ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন লেখার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সরকারি রীতি অনুসরণ করা হতো। আদালতে তিনি জানান, প্রতিটি আবেদনের শেষে সাভারকর ‘আপনার বাধ্যগত সেবক’ ধরনের বাক্য ব্যবহার করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

সব আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল

VD Savarkar filed 10 mercy petitions before British, grandnephew tells Pune  court

সাক্ষ্যে সত্যকি সাভারকর দাবি করেন, ব্রিটিশ সরকার সাভারকরের সব আবেদনই প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, মুক্তি পেলে তিনি আবারও বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন। তিনি বলেন, সাজা হ্রাস বা পরিবর্তনের ক্ষমতা সরকারের হাতে ছিল এবং তা নির্ভর করত তৎকালীন নীতির ওপর।

তিনি আরও জানান, একটি আবেদনে সাভারকর তাঁর সঙ্গে আন্দামানে পাঠানো অন্যদের মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন এবং নিজেকে কঠোর শাস্তির আওতায় বন্দি রাখার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।

ক্ষমা প্রার্থনা বাধ্যতামূলক ছিল না

সত্যকি সাভারকর আদালতে বলেন, ব্রিটিশ আমলে বন্দিদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করা একটি প্রচলিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছিল। অনেক বন্দিই এমন আবেদন করেছেন। তবে এটি কোনো বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা ছিল না। আবেদন করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বন্দির ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করত।

এই সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে সাভারকরের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে তাঁর ক্ষমা প্রার্থনার আবেদনগুলোর প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য নিয়েও আবার আলোচনা শুরু হয়েছে।