কৃষকদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ফসলঋণ মওকুফ কর্মসূচি সংশোধন করেছে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ু সরকার। মুখ্যমন্ত্রী C. Joseph Vijay মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন, সমবায় ব্যাংক থেকে নেওয়া ৭৫ হাজার রুপি পর্যন্ত ফসলঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। তবে বিরোধী দল এবং কৃষক সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট নয় বলে সমালোচনা করেছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ মে থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমবায় ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। কৃষকের জমির পরিমাণ বিবেচনা না করেই ৭৫ হাজার রুপি পর্যন্ত ঋণ পুরোপুরি মওকুফ করা হবে। আর যাদের ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার রুপির বেশি, তারা সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার রুপি পর্যন্ত ঋণমওকুফ সুবিধা পাবেন।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এ উদ্যোগে প্রায় ১৪ লাখ ৪৩ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং রাজ্য সরকারের ব্যয় হবে ৫ হাজার ৯৩২ কোটি ২৩ লাখ রুপি।
পূর্বের ঘোষণায় অসন্তোষ
![]()
গত ২৫ মে তামিলনাড়ু সরকার সমবায় ব্যাংক থেকে নেওয়া সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত ফসলঋণ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সে সময় শুধু ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করায় ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। বিভিন্ন কৃষক সংগঠন কর্মসূচিটি পুনর্গঠনের দাবি জানায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন মন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই নতুন করে সংশোধিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
বিরোধীদের সমালোচনা
বিরোধী দল All India Anna Dravida Munnetra Kazhagam-এর সাধারণ সম্পাদক Edappadi K. Palaniswami সরকারের পদক্ষেপকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের সম্পূর্ণ ঋণমওকুফ করা উচিত ছিল। পাশাপাশি বড় কৃষকদের জন্য অন্তত ৫০ শতাংশ ঋণমওকুফের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে Amma Makkal Munnetra Kazhagam-এর প্রতিষ্ঠাতা T. T. V. Dhinakaran অভিযোগ করেছেন, সরকার ঋণমওকুফের ইস্যুতে কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
কৃষকদের ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ
বিশেষ করে কাবেরী বদ্বীপ অঞ্চলের কৃষক সংগঠনগুলো নতুন ঘোষণায় সন্তুষ্ট নয়। তারা কর্মসূচিটিকে ‘অপর্যাপ্ত’ ও ‘বৈষম্যমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
তাদের অভিযোগ, Mettur Reservoir-এ পর্যাপ্ত পানি না থাকায় চলতি বছরে কুরুভাই ধানচাষ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। সামনে আগস্ট-জানুয়ারি মৌসুমেও পানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আংশিক নয়, সমবায় ব্যাংকের সব কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করা দরকার।
তামিলনাড়ুর সব কৃষক সংগঠনের সমন্বয় কমিটির সভাপতি P. R. Pandian বলেছেন, ৭৫ হাজার রুপি পর্যন্ত ঋণের পূর্ণ মওকুফ এবং এর বেশি ঋণের ক্ষেত্রে মাত্র ৩৫ হাজার রুপি মওকুফের সিদ্ধান্ত মোটেও যথেষ্ট নয়। তার ভাষায়, নির্বাচনের আগে কৃষিঋণ মওকুফ ছিল অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি। সরকারের ধারাবাহিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন ঘোষণা কৃষকদের সঙ্গে করা অঙ্গীকারের লঙ্ঘন এবং বিশ্বাসভঙ্গের শামিল।
কৃষক সংগঠনগুলোর মতে, সাম্প্রতিক ফসলহানি ও পানিসংকটের প্রেক্ষাপটে পূর্ণাঙ্গ ঋণমওকুফ ছাড়া কৃষকদের আর্থিক সংকট কাটানো সম্ভব হবে না। ফলে সরকারের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগেই তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও কৃষকদের অসন্তোষ আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















