বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কাবো ভের্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। এবার তার ব্যক্তিগত একটি বিষয়ও আন্তর্জাতিকভাবে নজর কাড়ছে। ছেলের খেলা মাঠে বসে দেখতে না পারার আক্ষেপের কথা প্রকাশের পর তার মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্পেনের বিপক্ষে কাবো ভের্দের ঐতিহাসিক ড্রয়ের পর ভোজিনহা জানান, তার মা বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেননি। প্রয়োজনীয় ভিসা সংক্রান্ত অর্থ জোগাড় করা সম্ভব না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মাকে পাশে পেলে মুহূর্তটি আরও বিশেষ হয়ে উঠত।
ভিসা নিয়ে নতুন তথ্য
এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ভোজিনহার মায়ের নামে কোনো ভিসা আবেদনের তথ্য তাদের কাছে নেই। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের নিকটাত্মীয়দের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে এবং নির্দিষ্ট ভিসা জামানত প্রদানের বাধ্যবাধকতা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভোজিনহার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে তিনি দ্রুত ভিসা-সংক্রান্ত সেবা পেতে পারেন।
পাসপোর্ট প্রক্রিয়াও চলছে
এদিকে জানা গেছে, ভোজিনহার মায়ের বর্তমানে বৈধ পাসপোর্ট নেই। তিনি নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন হলে ভিসা প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপে ভোজিনহার অবিশ্বাস্য উত্থান
৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা দীর্ঘদিন ধরে পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ফুটবলে খেলছেন। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স তাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দিয়েছে।
ম্যাচটিতে তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে স্পেনের আক্রমণভাগকে হতাশ করেন। তার দৃঢ়তায় অনুপ্রাণিত হয়ে কাবো ভের্দে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই মূল্যবান একটি ড্র আদায় করে নেয়। অনেকের মতে, এটি দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি।

দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস
প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের দ্বীপরাষ্ট্র কাবো ভের্দেতে এই ফলাফলকে ঘিরে ব্যাপক উদযাপন শুরু হয়েছে। শুধু দেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরাও ভোজিনহার প্রশংসায় মুগ্ধ হয়েছেন।
বিশ্বকাপে তার নৈপুণ্যের প্রভাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা গেছে। অল্প সময়ের মধ্যে তার অনুসারীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়, যা তার জনপ্রিয়তার নতুন উচ্চতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এখন কাবো ভের্দের সমর্থকদের আশা, পরবর্তী ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষেও দলটি একই ধরনের লড়াকু মানসিকতা দেখাবে। আর ভোজিনহার ব্যক্তিগত আশা, খুব শিগগিরই তার মা গ্যালারিতে বসে ছেলের বিশ্বকাপের লড়াই সরাসরি দেখতে পারবেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















