ইন্দোনেশিয়ার মধ্য সুলাওয়েসি প্রদেশে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত একজন নিহত এবং ৭৬ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ঘরবাড়ি, উপাসনালয়, সড়ক, সেতু ও সরকারি স্থাপনায়। পরবর্তী কম্পনের আতঙ্কে হাজারো মানুষ এখনও ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল পোসো শহরের উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ৫৪ কিলোমিটার দূরে এবং এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। মূল ভূমিকম্পের পর ১১৮টি আফটারশক বা পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৪ দশমিক ৫ এবং সকাল ১১টা ১১ মিনিটে ৫ দশমিক ২ মাত্রার দুটি তুলনামূলক শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি সিগি অঞ্চলে
জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, পালু, পোসো, ডোঙ্গালা, পারিগি মাউতং এবং সিগি—এই চারটি জেলা ও একটি শহর মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সিগি জেলায়।

ভূমিকম্পে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৭৩ জন সামান্য এবং তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অনেক পরিবার এখনও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির পাশে অস্থায়ী আশ্রয় তৈরি করে অবস্থান করছে। অব্যাহত পরাঘাতের কারণে তারা ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো
প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, ভূমিকম্পে ১ হাজার ১১৪টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭০টিরও বেশি বাড়ি সিগি জেলায় অবস্থিত।
এ ছাড়া ৩৩টি উপাসনালয়, দুটি বিদ্যালয়, চারটি সরকারি কার্যালয়, একটি হোটেল, দুটি সেতু এবং পালু-সিগি-পোসো সংযোগকারী একটি প্রাদেশিক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কিছু এলাকায় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ত্রাণ সহায়তা জোরদার
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিএনপিবি তিনটি জরুরি তাঁবু, ৫০টি পারিবারিক তাঁবু, ১৫০টি খাদ্য প্যাকেট, ১৫০টি মাদুর, ১৫০টি কম্বল এবং ১০০টি ভাঁজ করা খাট পাঠিয়েছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন অথবা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

সরকার ও পুলিশের তৎপরতা
মধ্য সুলাওয়েসির গভর্নর আনোয়ার হাফিদ বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের শনাক্ত করা, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া এবং জরুরি সাড়া কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়াই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি আরও জানান, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব সরকারি সংস্থাকে পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ সরবরাহ, আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে মধ্য সুলাওয়েসি পুলিশ বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় টহল জোরদার করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ায় সেখানে নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নেও সহায়তা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















