০১:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ঘিরে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভ, প্রাবোও সরকারের নীতিনির্ধারণ নিয়ে ক্ষোভ রক্তক্ষয়ী প্রতিযোগিতার বদলে আস্থার রাজনীতি: পারস্য উপসাগরে রাশিয়ার নতুন নিরাপত্তা ভাবনা ইরানের স্কুলে হামলা: ‘ইচ্ছাকৃত ছিল না’ বলে দাবি ট্রাম্পের মেঘনায় গোসলে নেমে দুই কিশোর বন্ধুর মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ পরিবার নাগবন্ধমের ট্রেলার উন্মোচন ১৯ জুন, মুক্তির আগেই বাড়ছে দর্শকদের আগ্রহ ফিফার আস্থার প্রতীক আলিরেজা ফাগানি: বিতর্ক পেরিয়ে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ রেফারি ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে রেকর্ড, এক বছরে ১.৭৮ লাখ কোটি রুপির মাইলফলক উন্নয়ন থমকে দিচ্ছে ঋণের চড়া সুদ, বিপাকে উন্নয়নশীল দেশগুলো জয়ারাম রমেশের বিস্ফোরক অভিযোগ: বিরোধী শিবির ভাঙতে সক্রিয় অমিত শাহ, ব্যর্থ হবে বিজেপির পরিকল্পনা হরমুজ প্রণালিতে নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্পকে মোদির বার্তা, প্রয়োজনে ভারতকে রক্ষার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের

ফেডের কড়া বার্তায় ওয়াল স্ট্রিটে ধস, একদিনেই ১ শতাংশের বেশি হারাল এসঅ্যান্ডপি ও নাসডাক

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার আপাতত অপরিবর্তিত রাখলেও ভবিষ্যতে হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় বুধবার বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে ওয়াল স্ট্রিট। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের মধ্যেই সুদের হার বাড়াতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর প্রভাবে প্রধান শেয়ার সূচকগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে যায়।

দিনশেষে ডাও জোন্স সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমে ৫১ হাজার ৪৯২ পয়েন্টে নেমে আসে। একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ২১ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ হারায়।

সুদের হার নিয়ে নতুন উদ্বেগ

সাম্প্রতিক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখে। তবে নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে দেখা যায়, নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় আগামী মাসগুলোতে অন্তত একবার সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। তার বক্তব্যের পর বাজারে ধারণা শক্তিশালী হয় যে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এখন অনেকটাই দূরে সরে গেছে।

Wall Street sinks on bets Fed will hike rates in 2026 - The Business Times

সব খাতেই বিক্রির চাপ

বৈঠকের পর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের সব প্রধান শিল্পখাতই নেতিবাচক অবস্থায় লেনদেন শেষ করে। যোগাযোগসেবা খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে প্রায় ৩ শতাংশ পতন দেখা যায়।

আঞ্চলিক ব্যাংকগুলোর শেয়ারও বড় চাপের মুখে পড়ে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, উচ্চ সুদের হার তাদের ঋণ কার্যক্রম ও মুনাফার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই কারণে আবাসন খাতও দুর্বল হয়ে পড়ে, কারণ উচ্চ সুদের হার সাধারণত গৃহঋণের চাহিদা কমিয়ে দেয়।

বাজারে অস্থিরতা বাড়ল

বাজারের ঝুঁকি পরিমাপক অস্থিরতা সূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এর আগে কয়েকদিন ধরে তেলের দাম কমে আসা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের আশায় শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গিয়েছিল। তবে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি ফের জটিল হতে পারে এমন আশঙ্কা এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা সেই ইতিবাচক ধারা থামিয়ে দিয়েছে।

Wall Street sinks on bets Fed will hike rates this year | Honolulu  Star-Advertiser

কোম্পানিভিত্তিক লেনদেনে মিশ্র চিত্র

দিনের লেনদেনে মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ার প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। অন্যদিকে একটি জুতা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নাম পরিবর্তন ও নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করার পর তাদের শেয়ারদর প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠে।

সামগ্রিকভাবে বাজারে পতনশীল শেয়ারের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতা দিনজুড়ে শক্তিশালী ছিল।

আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই ওয়াল স্ট্রিটের গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ঘিরে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভ, প্রাবোও সরকারের নীতিনির্ধারণ নিয়ে ক্ষোভ

ফেডের কড়া বার্তায় ওয়াল স্ট্রিটে ধস, একদিনেই ১ শতাংশের বেশি হারাল এসঅ্যান্ডপি ও নাসডাক

১১:১৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার আপাতত অপরিবর্তিত রাখলেও ভবিষ্যতে হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় বুধবার বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে ওয়াল স্ট্রিট। বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরের মধ্যেই সুদের হার বাড়াতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর প্রভাবে প্রধান শেয়ার সূচকগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে যায়।

দিনশেষে ডাও জোন্স সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমে ৫১ হাজার ৪৯২ পয়েন্টে নেমে আসে। একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ২১ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ হারায়।

সুদের হার নিয়ে নতুন উদ্বেগ

সাম্প্রতিক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রাখে। তবে নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে দেখা যায়, নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় আগামী মাসগুলোতে অন্তত একবার সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। তার বক্তব্যের পর বাজারে ধারণা শক্তিশালী হয় যে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এখন অনেকটাই দূরে সরে গেছে।

Wall Street sinks on bets Fed will hike rates in 2026 - The Business Times

সব খাতেই বিক্রির চাপ

বৈঠকের পর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের সব প্রধান শিল্পখাতই নেতিবাচক অবস্থায় লেনদেন শেষ করে। যোগাযোগসেবা খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে প্রায় ৩ শতাংশ পতন দেখা যায়।

আঞ্চলিক ব্যাংকগুলোর শেয়ারও বড় চাপের মুখে পড়ে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, উচ্চ সুদের হার তাদের ঋণ কার্যক্রম ও মুনাফার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই কারণে আবাসন খাতও দুর্বল হয়ে পড়ে, কারণ উচ্চ সুদের হার সাধারণত গৃহঋণের চাহিদা কমিয়ে দেয়।

বাজারে অস্থিরতা বাড়ল

বাজারের ঝুঁকি পরিমাপক অস্থিরতা সূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এর আগে কয়েকদিন ধরে তেলের দাম কমে আসা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের আশায় শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গিয়েছিল। তবে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি ফের জটিল হতে পারে এমন আশঙ্কা এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা সেই ইতিবাচক ধারা থামিয়ে দিয়েছে।

Wall Street sinks on bets Fed will hike rates this year | Honolulu  Star-Advertiser

কোম্পানিভিত্তিক লেনদেনে মিশ্র চিত্র

দিনের লেনদেনে মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ার প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। অন্যদিকে একটি জুতা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নাম পরিবর্তন ও নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করার পর তাদের শেয়ারদর প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠে।

সামগ্রিকভাবে বাজারে পতনশীল শেয়ারের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতা দিনজুড়ে শক্তিশালী ছিল।

আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই ওয়াল স্ট্রিটের গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।