১২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ঘিরে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভ, প্রাবোও সরকারের নীতিনির্ধারণ নিয়ে ক্ষোভ রক্তক্ষয়ী প্রতিযোগিতার বদলে আস্থার রাজনীতি: পারস্য উপসাগরে রাশিয়ার নতুন নিরাপত্তা ভাবনা ইরানের স্কুলে হামলা: ‘ইচ্ছাকৃত ছিল না’ বলে দাবি ট্রাম্পের মেঘনায় গোসলে নেমে দুই কিশোর বন্ধুর মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ পরিবার নাগবন্ধমের ট্রেলার উন্মোচন ১৯ জুন, মুক্তির আগেই বাড়ছে দর্শকদের আগ্রহ ফিফার আস্থার প্রতীক আলিরেজা ফাগানি: বিতর্ক পেরিয়ে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ রেফারি ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে রেকর্ড, এক বছরে ১.৭৮ লাখ কোটি রুপির মাইলফলক উন্নয়ন থমকে দিচ্ছে ঋণের চড়া সুদ, বিপাকে উন্নয়নশীল দেশগুলো জয়ারাম রমেশের বিস্ফোরক অভিযোগ: বিরোধী শিবির ভাঙতে সক্রিয় অমিত শাহ, ব্যর্থ হবে বিজেপির পরিকল্পনা হরমুজ প্রণালিতে নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্পকে মোদির বার্তা, প্রয়োজনে ভারতকে রক্ষার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের

ট্রাম্পের সুরে বদল, ইউক্রেনকে ঐক্যবদ্ধ সমর্থন জি-৭ নেতাদের

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহ নিরাপত্তা ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা ইউক্রেনের প্রতি নতুন করে ঐক্যবদ্ধ সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন এবং রাশিয়ার ওপর আরও চাপ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন।

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পর্যায়ে রসিকতার সুরে নিজেকে “বস” বলে উল্লেখ করেন। তবে আলোচনার মূল আকর্ষণ ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাঁর অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

ইউক্রেন ইস্যুতে নতুন বার্তা

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং তাঁর মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছিলেন যে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের প্রতিরোধ রাশিয়ার পরিকল্পনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। জি-৭ নেতাদের যৌথ বিবৃতিতে সেই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে।

I'm the boss', Trump says at G7, as he warms to Ukraine's war aims

ট্রাম্পও এবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে যুদ্ধে রাশিয়া বেশি সেনা হারাচ্ছে। তিনি মস্কোকে সংঘাতের “আক্রমণকারী পক্ষ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর এই মন্তব্যকে ইউক্রেন প্রশ্নে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা বলেছেন, ইউক্রেন বিষয়ে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গিতে বাস্তব পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত বছরের জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেন নিয়ে ঐকমত্যের অভাব থাকলেও এবার নেতারা তুলনামূলকভাবে একক অবস্থান তুলে ধরেছেন।

ইরান চুক্তি নিয়ে সতর্কতা

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক শান্তি সমঝোতাকেও স্বাগত জানানো হয়েছে। জি-৭ নেতারা প্রয়োজনে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছেন।

তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত নয়। তিনি সতর্ক করে দেন, চুক্তির শর্ত মানা না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

I'm the boss', Trump says at G7

অন্যদিকে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা মনে করছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার মতো জটিল বিষয়গুলো সমাধান করা সহজ হবে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল চুক্তি অর্জন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা

জি-৭ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহ নিশ্চিত করতেও নতুন সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যবহৃত এসব খনিজের ক্ষেত্রে চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোই তাদের লক্ষ্য।

এ লক্ষ্যে সদস্য দেশগুলো মজুত ব্যবস্থাপনা সমন্বয় করবে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ভূমিকা বাড়িয়ে একটি নতুন সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও আলোচনা

I'm the boss', Trump says at G7, as he warms to Ukraine's war aims - CNA

সম্মেলনের এক বিশেষ অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তিগত দায়বদ্ধতা এবং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরাও এতে অংশ নেন।

নেতারা মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজকে বদলে দিচ্ছে। তাই এর নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন।

ফ্রান্সের এই সম্মেলন শেষে জি-৭ নেতারা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন, ইরান ইস্যুতে সতর্ক আশাবাদ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন ভারসাম্য তৈরির লক্ষ্য সামনে রেখে যৌথ অবস্থান তুলে ধরেছেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ঘিরে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভ, প্রাবোও সরকারের নীতিনির্ধারণ নিয়ে ক্ষোভ

ট্রাম্পের সুরে বদল, ইউক্রেনকে ঐক্যবদ্ধ সমর্থন জি-৭ নেতাদের

১১:২৮:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহ নিরাপত্তা ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতারা ইউক্রেনের প্রতি নতুন করে ঐক্যবদ্ধ সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন এবং রাশিয়ার ওপর আরও চাপ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন।

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পর্যায়ে রসিকতার সুরে নিজেকে “বস” বলে উল্লেখ করেন। তবে আলোচনার মূল আকর্ষণ ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তাঁর অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

ইউক্রেন ইস্যুতে নতুন বার্তা

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং তাঁর মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছিলেন যে যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের প্রতিরোধ রাশিয়ার পরিকল্পনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। জি-৭ নেতাদের যৌথ বিবৃতিতে সেই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে।

I'm the boss', Trump says at G7, as he warms to Ukraine's war aims

ট্রাম্পও এবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে যুদ্ধে রাশিয়া বেশি সেনা হারাচ্ছে। তিনি মস্কোকে সংঘাতের “আক্রমণকারী পক্ষ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর এই মন্তব্যকে ইউক্রেন প্রশ্নে ওয়াশিংটনের দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা বলেছেন, ইউক্রেন বিষয়ে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গিতে বাস্তব পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গত বছরের জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেন নিয়ে ঐকমত্যের অভাব থাকলেও এবার নেতারা তুলনামূলকভাবে একক অবস্থান তুলে ধরেছেন।

ইরান চুক্তি নিয়ে সতর্কতা

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক শান্তি সমঝোতাকেও স্বাগত জানানো হয়েছে। জি-৭ নেতারা প্রয়োজনে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছেন।

তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত নয়। তিনি সতর্ক করে দেন, চুক্তির শর্ত মানা না হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

I'm the boss', Trump says at G7

অন্যদিকে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা মনে করছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার মতো জটিল বিষয়গুলো সমাধান করা সহজ হবে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল চুক্তি অর্জন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা

জি-৭ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহ নিশ্চিত করতেও নতুন সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যবহৃত এসব খনিজের ক্ষেত্রে চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোই তাদের লক্ষ্য।

এ লক্ষ্যে সদস্য দেশগুলো মজুত ব্যবস্থাপনা সমন্বয় করবে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ভূমিকা বাড়িয়ে একটি নতুন সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও আলোচনা

I'm the boss', Trump says at G7, as he warms to Ukraine's war aims - CNA

সম্মেলনের এক বিশেষ অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তিগত দায়বদ্ধতা এবং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরাও এতে অংশ নেন।

নেতারা মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজকে বদলে দিচ্ছে। তাই এর নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন।

ফ্রান্সের এই সম্মেলন শেষে জি-৭ নেতারা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন, ইরান ইস্যুতে সতর্ক আশাবাদ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন ভারসাম্য তৈরির লক্ষ্য সামনে রেখে যৌথ অবস্থান তুলে ধরেছেন।