রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলে বেলারুশের একটি যুব ক্রীড়াদল বহনকারী বাসে ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মস্কো। এ ঘটনায় একজন নারী নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। রাশিয়া এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
বুধবার সংঘটিত হামলার পর ক্রেমলিনের মুখপাত্র জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আহতদের দ্রুত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের সহায়তা দিতে বলা হয়েছে।
বাসে ছিলেন ৪৪ জন যাত্রী
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় বাসটিতে মোট ৪৪ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ২৮ জন ছিল শিশু। ড্রোন আঘাতে বাসটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন যাত্রী আহত হন।

পরে জানা যায়, অন্তত আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ছয়জনই শিশু। চিকিৎসকরা তাদের পর্যবেক্ষণে রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।
শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এ হামলার কঠোর সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে। তার দাবি, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের বিবেচনা না করেই এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এই হামলাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মস্কোর দাবি।
বেলারুশের প্রতিক্রিয়া

বেলারুশের পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির এক শীর্ষ সদস্যও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন। তার মতে, এ ধরনের হামলা অঞ্চলজুড়ে চরমপন্থী কর্মকাণ্ডের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে রাশিয়া ও বেলারুশ একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও আইন অনুযায়ী কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
তদন্ত শুরু দুই দেশে
রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনারও হামলাটিকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার পর রাশিয়া ও বেলারুশ—উভয় দেশেই পৃথক ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হামলাটিকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















