জার্মানির ডানপন্থী বিরোধী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)-এর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখার অনুমতি দিয়েছে দেশটির একটি উচ্চ আদালত। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দলটি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে এলেও আদালতের এই সিদ্ধান্ত জার্মান রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
বাভারিয়ার প্রশাসনিক আপিল আদালত এএফডির আঞ্চলিক শাখার করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে। এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার বাভারিয়া কার্যালয় দলটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যেতে পারবে। আদালত জানিয়েছে, নজরদারির বিরুদ্ধে এএফডির উত্থাপিত যুক্তিগুলো গ্রহণযোগ্য নয় এবং পূর্ববর্তী আদালতের রায়গুলোতেই বিষয়টির আইনি ভিত্তি যথেষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালে বাভারিয়ায় এএফডির শাখাকে নজরদারির আওতায় আনা হয়। পরবর্তী সময়ে নিম্ন আদালতগুলোও দলটির আপত্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। সর্বশেষ রায়ের মাধ্যমে সেই অবস্থানই বহাল থাকল।
![]()
কেন নজরদারিতে এএফডি?
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অভিবাসন, মুসলিম সম্প্রদায় এবং জার্মানির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ঘিরে দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বক্তব্য সাংবিধানিক সীমার বাইরে যেতে পারে। এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এএফডি দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অভিবাসননীতি সমর্থন করে আসছে। পাশাপাশি ইউক্রেনকে জার্মানির সহায়তা এবং রাশিয়াবিরোধী নিষেধাজ্ঞারও বিরোধিতা করে দলটি।
রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এএফডি গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়। তারা ভোটের প্রায় ২০ শতাংশ অর্জন করে এবং পার্লামেন্টে ১৫২টি আসন জিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয়। তবে অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সঙ্গে জোট গঠনে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে নির্বাচনী সাফল্য সত্ত্বেও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া থেকে দলটি বাইরে থেকে যায়।
বিভিন্ন রাজ্যে কড়া অবস্থান

জার্মানির একাধিক অঙ্গরাজ্যে এএফডির বিভিন্ন শাখাকে ইতোমধ্যে চরম ডানপন্থী প্রবণতার অভিযোগে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। কিছু রাজ্যে দলটির আঞ্চলিক ইউনিটকে নিশ্চিত ডানপন্থী উগ্রপন্থী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, আবার কোথাও সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
যদি জাতীয় পর্যায়ে দলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিশ্চিত ডানপন্থী উগ্রপন্থী’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তাহলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আরও বিস্তৃত নজরদারির ক্ষমতা পাবে। সেক্ষেত্রে যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ এবং গোপন তথ্য সংগ্রহের মতো পদক্ষেপও নেওয়া সম্ভব হবে।
জনপ্রিয়তা বাড়লেও চাপ অব্যাহত
সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, এএফডি বর্তমানে জার্মানির সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। একই জরিপে দেশের বর্তমান চ্যান্সেলরের কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষও প্রকাশ পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি দলটির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি চাপও সমানভাবে বাড়ছে।
জার্মানির রাজনৈতিক অঙ্গনে এএফডিকে ঘিরে এই টানাপোড়েন আগামী মাসগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















