যুক্তরাজ্যে সংঘবদ্ধ যৌন নির্যাতন চক্র নিয়ে প্রকাশিত একটি নতুন প্রতিবেদনে বিস্ফোরক সব দাবি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংগঠিত অপরাধচক্রের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক কিশোরী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ও দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে এই অপরাধ অনেক ক্ষেত্রেই অদৃশ্য থেকে গেছে।
দেশজুড়ে বিস্তৃত অভিযোগ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের মোট ১৪৯টি প্রশাসনিক এলাকায় এ ধরনের অপরাধচক্র সক্রিয় ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বহু বছর ধরে অসংখ্য কিশোরী ও তরুণী শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অতীতের বিভিন্ন অনুসন্ধানে যে সংখ্যক ভুক্তভোগীর কথা বলা হয়েছিল, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ যৌন নির্যাতনের বহু ঘটনা কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট হয় না।

ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহতা
প্রতিবেদনের বড় অংশজুড়ে রয়েছে ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য। সেখানে দাবি করা হয়েছে, অনেক কিশোরীকে বিভিন্ন কৌশলে প্রলুব্ধ করে অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হতো। এরপর তারা দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের শিকার হতো।
কিছু সাক্ষ্যে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হতো এবং একাধিক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হতো। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে তারা বারবার সাহায্য চাইলেও যথাযথ সাড়া পাননি।
কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
প্রতিবেদনে পুলিশ, সামাজিক সেবা বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অভিযোগকে গুরুত্ব দেয়নি অথবা যথাসময়ে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এছাড়া রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও সমালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের লেখকরা দাবি করেছেন, বছরের পর বছর ধরে সমস্যাটির প্রকৃত ব্যাপ্তি নিয়ে কার্যকর জাতীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
রাজনীতি ও জনমতের নতুন বিতর্ক
প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য আরও শক্তিশালী সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার দাবি উঠেছে।
প্রতিবেদনে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবহেলা করেছে তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে জনমনে আস্থা সংকটও দেখা দিয়েছে। শিশু সুরক্ষা, বিচারব্যবস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন অনেক নাগরিক।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















