০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা ৮৮০ বাগেরহাট হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, চালক আহত; পুড়ল ৯ মোটরসাইকেল মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যেই পরীক্ষা ফেডপ্রধান ওয়ারশের ‘গানের মাহাত্ম্য গায়কের চেয়েও বড়’: নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে উষা উত্থুপ মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যেই পরীক্ষা হবে ফেডপ্রধান ওয়ারশের নেতৃত্ব গালফের ভারতীয় প্রবাসীরা এখন শুধু রেমিট্যান্স পাঠান না, গড়ছেন বৈশ্বিক সম্পদ পর্দাহীন গারমিন সিরকা: তথ্য দেবে, কিন্তু মনোযোগ কেড়ে নেবে না ড্রোন হামলা বন্ধ না হলে জাওয়িয়া তেল শোধনাগার বন্ধের হুঁশিয়ারি লিবিয়ার তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর: অন্তত তিস্তা চুক্তি তো আশা করতে পারে বাংলাদেশ নিখোঁজ রুশ-ইসরায়েলি ইতিহাসবিদকে নিয়ে নীরব ইসরায়েল, মস্কোর জবাব চাওয়া

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি তেহরানের কৌশলগত বিজয়: ইরানের রাষ্ট্রদূত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তিকে তেহরানের জন্য একটি বড় কৌশলগত অর্জন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালি। তিনি বলেছেন, এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ না হলেও এর মাধ্যমে ইরান গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে।

রাষ্ট্রদূতের মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন কিংবা দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার যে লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ কথা বলেছিল, তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বরং ইরানের পারমাণবিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরানের জনগণের বৈধ ও অখণ্ড অধিকার।

দীর্ঘ যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ

মোহাম্মদ ফাতহালি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত শান্তি চুক্তির পথে যেতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা শুধু বৈশ্বিক অর্থনীতিকেই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছিল।

হরমুজ প্রণালী কি উন্মুক্ত? ধোঁয়াশা ও উত্তেজনার মধ্যে জাহাজ চলাচল

তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর এই পরিস্থিতির বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। ফলে যুদ্ধের পরিবর্তে সমঝোতার পথই শেষ পর্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে চলাচল নিয়ে অবস্থান

ইরানি রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী দেশগুলোর ওপর ইরান কোনো ট্রানজিট ফি আরোপ করতে চায় না। তবে নৌ-চলাচল সহায়তা, সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষা এবং জাহাজের বীমা সংক্রান্ত সেবার জন্য নির্ধারিত ফি নেওয়া হতে পারে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় প্রণালির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জন্য ইসরায়েল দায়ী

ফাতহালি অভিযোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রধান কারণ ইসরায়েল। তিনি বলেন, অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সামরিক কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার জন্য নানা ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও বাস্তবতা ভিন্ন।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকৃত আস্থা তৈরি হবে কেবল তখনই, যখন তাদের প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে এবং চুক্তির শর্তগুলো আন্তরিকভাবে বাস্তবায়িত হবে।

Three Indian sailors killed in US attack on ship off Oman | Almahriah Net

বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা

হরমুজ প্রণালির কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানির ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা মানবিক মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী।

সাম্প্রতিক এক ঘটনায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ফলে তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। এই ধরনের ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

ইরান মনে করছে, সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তি শুধু সংঘাত কমানোর পথই তৈরি করেনি, বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশটির অবস্থানও আরও শক্তিশালী করেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা ৮৮০

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি তেহরানের কৌশলগত বিজয়: ইরানের রাষ্ট্রদূত

১১:৪৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তিকে তেহরানের জন্য একটি বড় কৌশলগত অর্জন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালি। তিনি বলেছেন, এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ না হলেও এর মাধ্যমে ইরান গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে।

রাষ্ট্রদূতের মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন কিংবা দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার যে লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ কথা বলেছিল, তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বরং ইরানের পারমাণবিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরানের জনগণের বৈধ ও অখণ্ড অধিকার।

দীর্ঘ যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ

মোহাম্মদ ফাতহালি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত শান্তি চুক্তির পথে যেতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা শুধু বৈশ্বিক অর্থনীতিকেই নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছিল।

হরমুজ প্রণালী কি উন্মুক্ত? ধোঁয়াশা ও উত্তেজনার মধ্যে জাহাজ চলাচল

তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর এই পরিস্থিতির বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। ফলে যুদ্ধের পরিবর্তে সমঝোতার পথই শেষ পর্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে চলাচল নিয়ে অবস্থান

ইরানি রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী দেশগুলোর ওপর ইরান কোনো ট্রানজিট ফি আরোপ করতে চায় না। তবে নৌ-চলাচল সহায়তা, সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষা এবং জাহাজের বীমা সংক্রান্ত সেবার জন্য নির্ধারিত ফি নেওয়া হতে পারে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় প্রণালির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জন্য ইসরায়েল দায়ী

ফাতহালি অভিযোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রধান কারণ ইসরায়েল। তিনি বলেন, অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সামরিক কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার জন্য নানা ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও বাস্তবতা ভিন্ন।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকৃত আস্থা তৈরি হবে কেবল তখনই, যখন তাদের প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে এবং চুক্তির শর্তগুলো আন্তরিকভাবে বাস্তবায়িত হবে।

Three Indian sailors killed in US attack on ship off Oman | Almahriah Net

বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার নিন্দা

হরমুজ প্রণালির কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানির ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা মানবিক মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী।

সাম্প্রতিক এক ঘটনায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ফলে তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। এই ধরনের ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

ইরান মনে করছে, সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তি শুধু সংঘাত কমানোর পথই তৈরি করেনি, বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশটির অবস্থানও আরও শক্তিশালী করেছে।