০১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
কানাডা ভাঙনের পথে? আলবার্টায় স্বাধীনতার গণভোট ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা চুক্তি হয়েছে, কিন্তু আসল পরীক্ষা এখনই: ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন সমঝোতা কতটা সফল হবে? গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও প্রাণহানি হাজার ছাড়াল, উদ্বেগ বাড়ছে তেলবাজারে স্বস্তি: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অন্তর্বর্তী চুক্তির পর কমল অপরিশোধিত তেলের দাম মালয়েশিয়া-চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে কী হতে যাচ্ছে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ঘিরে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভ, প্রাবোও সরকারের নীতিনির্ধারণ নিয়ে ক্ষোভ রক্তক্ষয়ী প্রতিযোগিতার বদলে আস্থার রাজনীতি: পারস্য উপসাগরে রাশিয়ার নতুন নিরাপত্তা ভাবনা ইরানের স্কুলে হামলা: ‘ইচ্ছাকৃত ছিল না’ বলে দাবি ট্রাম্পের মেঘনায় গোসলে নেমে দুই কিশোর বন্ধুর মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ পরিবার নাগবন্ধমের ট্রেলার উন্মোচন ১৯ জুন, মুক্তির আগেই বাড়ছে দর্শকদের আগ্রহ

জয়ারাম রমেশের বিস্ফোরক অভিযোগ: বিরোধী শিবির ভাঙতে সক্রিয় অমিত শাহ, ব্যর্থ হবে বিজেপির পরিকল্পনা

ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা জয়ারাম রমেশের মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিরোধী দলগুলোর শক্তি কমিয়ে দিতে এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের দলে টানতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক কৌশল সফল হবে না বলেও দাবি করেছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জয়ারাম রমেশ বলেন, গত কয়েক বছরে বিরোধী দলগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, যেসব নেতা ও জনপ্রতিনিধি বিজেপিবিরোধী অবস্থান নিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই অনেককে এখন দলবদলে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

বিরোধী দল ভাঙার অভিযোগ

Congress' Jairam Ramesh writes to CBI chief, seeks probe into Amit Shah's  Conrad Sangma government 'most-corrupt' remark

জয়ারাম রমেশের অভিযোগ, বিরোধী শিবিরকে দুর্বল করতে নানা ধরনের প্রলোভন ও সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। যদিও তিনি এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ করেননি, তবুও তার দাবি, রাজনৈতিকভাবে দলবদল উৎসাহিত করার এই প্রচেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় যে আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নেতারা জনগণের সমর্থন পেয়েছিলেন, এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এর পেছনে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রভাব ও নানা ধরনের সুবিধার ভূমিকা রয়েছে বলে তার ধারণা।

লোকসভা প্রসঙ্গও টানলেন রমেশ

কংগ্রেস নেতা আরও দাবি করেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে লোকসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করাতে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই অমিত শাহ বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, সেই ঘটনার পর বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরানোর প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে।

জয়ারাম রমেশ বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী নেতাদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ধরনের প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। তার ভাষায়, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক অভিযান, যার লক্ষ্য বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করা।

বিজেপির বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগ নতুন করে সামনে

Congress is united, we don't silence anyone: Jairam Ramesh - Rediff.com

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দলবদল এবং জোট পরিবর্তনের ঘটনাগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বিরোধী দলগুলো বারবার অভিযোগ করেছে যে, শাসকদল রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

শাসকদলের বক্তব্য হলো, তাদের নীতি, নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতি আস্থা রেখেই বিভিন্ন দলের নেতারা স্বেচ্ছায় বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। কোনো ধরনের চাপ বা প্রলোভনের প্রশ্ন নেই বলেও তারা দাবি করে থাকে।

রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে

জয়ারাম রমেশের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। সামনে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ও সংসদীয় বিতর্ক থাকায় এই ইস্যু আগামী দিনগুলোতে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক দলবদল, বিরোধী শিবিরের অবস্থান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই জয়ারাম রমেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন, বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করার যে লক্ষ্য নিয়ে এই প্রচেষ্টা চলছে, শেষ পর্যন্ত তা সফল হবে না।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কানাডা ভাঙনের পথে? আলবার্টায় স্বাধীনতার গণভোট ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা

জয়ারাম রমেশের বিস্ফোরক অভিযোগ: বিরোধী শিবির ভাঙতে সক্রিয় অমিত শাহ, ব্যর্থ হবে বিজেপির পরিকল্পনা

১১:৫৫:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা জয়ারাম রমেশের মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিরোধী দলগুলোর শক্তি কমিয়ে দিতে এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের দলে টানতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক কৌশল সফল হবে না বলেও দাবি করেছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জয়ারাম রমেশ বলেন, গত কয়েক বছরে বিরোধী দলগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। তার দাবি, যেসব নেতা ও জনপ্রতিনিধি বিজেপিবিরোধী অবস্থান নিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই অনেককে এখন দলবদলে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

বিরোধী দল ভাঙার অভিযোগ

Congress' Jairam Ramesh writes to CBI chief, seeks probe into Amit Shah's  Conrad Sangma government 'most-corrupt' remark

জয়ারাম রমেশের অভিযোগ, বিরোধী শিবিরকে দুর্বল করতে নানা ধরনের প্রলোভন ও সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। যদিও তিনি এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ করেননি, তবুও তার দাবি, রাজনৈতিকভাবে দলবদল উৎসাহিত করার এই প্রচেষ্টা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় যে আদর্শ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নেতারা জনগণের সমর্থন পেয়েছিলেন, এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এর পেছনে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রভাব ও নানা ধরনের সুবিধার ভূমিকা রয়েছে বলে তার ধারণা।

লোকসভা প্রসঙ্গও টানলেন রমেশ

কংগ্রেস নেতা আরও দাবি করেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে লোকসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করাতে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই অমিত শাহ বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, সেই ঘটনার পর বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরানোর প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে।

জয়ারাম রমেশ বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী নেতাদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ধরনের প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। তার ভাষায়, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক অভিযান, যার লক্ষ্য বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করা।

বিজেপির বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগ নতুন করে সামনে

Congress is united, we don't silence anyone: Jairam Ramesh - Rediff.com

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দলবদল এবং জোট পরিবর্তনের ঘটনাগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বিরোধী দলগুলো বারবার অভিযোগ করেছে যে, শাসকদল রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

শাসকদলের বক্তব্য হলো, তাদের নীতি, নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতি আস্থা রেখেই বিভিন্ন দলের নেতারা স্বেচ্ছায় বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। কোনো ধরনের চাপ বা প্রলোভনের প্রশ্ন নেই বলেও তারা দাবি করে থাকে।

রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে

জয়ারাম রমেশের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। সামনে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ও সংসদীয় বিতর্ক থাকায় এই ইস্যু আগামী দিনগুলোতে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক দলবদল, বিরোধী শিবিরের অবস্থান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই জয়ারাম রমেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন, বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করার যে লক্ষ্য নিয়ে এই প্রচেষ্টা চলছে, শেষ পর্যন্ত তা সফল হবে না।