০১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
চীনের কৌশলে তেলের বাজারে স্বস্তি, বড় ধাক্কা থেকেও রক্ষা পেল বিশ্ব কানাডা ভাঙনের পথে? আলবার্টায় স্বাধীনতার গণভোট ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা চুক্তি হয়েছে, কিন্তু আসল পরীক্ষা এখনই: ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন সমঝোতা কতটা সফল হবে? গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও প্রাণহানি হাজার ছাড়াল, উদ্বেগ বাড়ছে তেলবাজারে স্বস্তি: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অন্তর্বর্তী চুক্তির পর কমল অপরিশোধিত তেলের দাম মালয়েশিয়া-চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে কী হতে যাচ্ছে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ঘিরে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ছাত্র বিক্ষোভ, প্রাবোও সরকারের নীতিনির্ধারণ নিয়ে ক্ষোভ রক্তক্ষয়ী প্রতিযোগিতার বদলে আস্থার রাজনীতি: পারস্য উপসাগরে রাশিয়ার নতুন নিরাপত্তা ভাবনা ইরানের স্কুলে হামলা: ‘ইচ্ছাকৃত ছিল না’ বলে দাবি ট্রাম্পের মেঘনায় গোসলে নেমে দুই কিশোর বন্ধুর মৃত্যু, শোকে স্তব্ধ পরিবার

উন্নয়ন থমকে দিচ্ছে ঋণের চড়া সুদ, বিপাকে উন্নয়নশীল দেশগুলো

বিশ্বজুড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণের উচ্চ সুদ ও বাড়তি ধার নেওয়ার খরচ। নতুন এক বৈশ্বিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও জলবায়ু সহনশীলতা খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় সংকট

বিশ্ব সম্প্রদায় ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়। বর্তমানে বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৫ শতাংশ সঠিক পথে রয়েছে বা মাঝারি অগ্রগতি দেখাচ্ছে। বাকি অনেক ক্ষেত্রেই অগ্রগতি থমকে গেছে কিংবা পিছিয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থের উচ্চ মূল্য এখন সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি। ঋণের সুদ পরিশোধে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয়ের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

বাড়ছে ঋণ পরিশোধের চাপ

২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৯৯টি উন্নয়নশীল দেশে সরকারি আয়ের বড় অংশ ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় হয়েছে। এসব দেশে প্রায় ৫৫০ কোটি মানুষের বসবাস। ফলে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য সরকারের হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ কমে গেছে।

ডলারের দাম বেড়ে ৯২ টাকা

২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বৈদেশিক অর্থায়ন পেয়েছে। তবে উন্নয়ন চাহিদার তুলনায় এই অর্থ অনেক কম। একই সময়ে এসব দেশের মোট বিনিয়োগ ছিল প্রায় ১৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বছরে প্রায় ১৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। অর্থাৎ প্রতি বছর প্রায় ৪ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

কমছে বৈদেশিক অর্থায়ন

এক দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও বৈদেশিক অর্থায়ন কমেছে ১৮ শতাংশ। ফলে দেশগুলোকে ক্রমেই নিজেদের সম্পদের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে উন্নত অর্থনীতিগুলো তাদের বিনিয়োগের প্রায় ৩৮ শতাংশ বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১১ শতাংশ।

অনেক নিম্ন আয়ের দেশ এখনো আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারে কার্যকর প্রবেশাধিকার পায়নি। ফলে তাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

বৈদেশিক অর্থের আড়ালে বড় দায়

বিদেশি বিনিয়োগ বা ঋণ শুধু অর্থের প্রবাহ নয়, এর সঙ্গে ভবিষ্যতের দায়ও তৈরি হয়। লাভ, রয়্যালটি ও সুদ হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হয়।

মন্দার মধ্যেও বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৬১ শতাংশ - শেয়ারবাজারনিউজ.কম

২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলো বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতাদের কাছে প্রায় ১ দশমিক ০৭ ট্রিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। ফলে বৈদেশিক অর্থ প্রবাহের বড় অংশ শেষ পর্যন্ত আবার উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে ফিরে গেছে।

বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মোট বৈদেশিক দায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

সংকুচিত হচ্ছে উন্নয়ন ব্যয়ের সুযোগ

গত এক দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধ ১০২ শতাংশ বেড়েছে। অথচ একই সময়ে সরকারি রাজস্ব বেড়েছে মাত্র ৩৯ শতাংশ।

এর ফলে সরকারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা দ্রুত কমছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য বিমোচন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও জলবায়ু অভিযোজন খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংকট তৈরি হচ্ছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৭৩ শতাংশ উন্নয়নশীল দেশের আর্থিক সক্ষমতা আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে।

খেলাপি ঋণের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন

কী হতে পারে সমাধান

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অর্থের প্রবাহ বাড়ালেই হবে না, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থায়নের খরচও কমাতে হবে। আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন প্রয়োজন, যাতে এসব দেশ কম সুদে এবং সহজ শর্তে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।

অন্যথায় উন্নয়নশীল দেশগুলো একদিকে উন্নয়নের জন্য বেশি অর্থের প্রয়োজন অনুভব করবে, অন্যদিকে সেই অর্থ সংগ্রহে আরও বেশি খরচ বহন করতে বাধ্য হবে। এতে ২০৩০ সালের বৈশ্বিক উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কৌশলে তেলের বাজারে স্বস্তি, বড় ধাক্কা থেকেও রক্ষা পেল বিশ্ব

উন্নয়ন থমকে দিচ্ছে ঋণের চড়া সুদ, বিপাকে উন্নয়নশীল দেশগুলো

১২:০০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বিশ্বজুড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণের উচ্চ সুদ ও বাড়তি ধার নেওয়ার খরচ। নতুন এক বৈশ্বিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও জলবায়ু সহনশীলতা খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় সংকট

বিশ্ব সম্প্রদায় ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়। বর্তমানে বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৫ শতাংশ সঠিক পথে রয়েছে বা মাঝারি অগ্রগতি দেখাচ্ছে। বাকি অনেক ক্ষেত্রেই অগ্রগতি থমকে গেছে কিংবা পিছিয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থের উচ্চ মূল্য এখন সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি। ঋণের সুদ পরিশোধে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় উন্নয়নমূলক খাতে ব্যয়ের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

বাড়ছে ঋণ পরিশোধের চাপ

২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৯৯টি উন্নয়নশীল দেশে সরকারি আয়ের বড় অংশ ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যয় হয়েছে। এসব দেশে প্রায় ৫৫০ কোটি মানুষের বসবাস। ফলে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য সরকারের হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ কমে গেছে।

ডলারের দাম বেড়ে ৯২ টাকা

২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বৈদেশিক অর্থায়ন পেয়েছে। তবে উন্নয়ন চাহিদার তুলনায় এই অর্থ অনেক কম। একই সময়ে এসব দেশের মোট বিনিয়োগ ছিল প্রায় ১৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বছরে প্রায় ১৭ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। অর্থাৎ প্রতি বছর প্রায় ৪ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

কমছে বৈদেশিক অর্থায়ন

এক দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও বৈদেশিক অর্থায়ন কমেছে ১৮ শতাংশ। ফলে দেশগুলোকে ক্রমেই নিজেদের সম্পদের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে উন্নত অর্থনীতিগুলো তাদের বিনিয়োগের প্রায় ৩৮ শতাংশ বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১১ শতাংশ।

অনেক নিম্ন আয়ের দেশ এখনো আন্তর্জাতিক বন্ড বাজারে কার্যকর প্রবেশাধিকার পায়নি। ফলে তাদের জন্য অর্থ সংগ্রহ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

বৈদেশিক অর্থের আড়ালে বড় দায়

বিদেশি বিনিয়োগ বা ঋণ শুধু অর্থের প্রবাহ নয়, এর সঙ্গে ভবিষ্যতের দায়ও তৈরি হয়। লাভ, রয়্যালটি ও সুদ হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হয়।

মন্দার মধ্যেও বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৬১ শতাংশ - শেয়ারবাজারনিউজ.কম

২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলো বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতাদের কাছে প্রায় ১ দশমিক ০৭ ট্রিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। ফলে বৈদেশিক অর্থ প্রবাহের বড় অংশ শেষ পর্যন্ত আবার উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে ফিরে গেছে।

বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মোট বৈদেশিক দায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

সংকুচিত হচ্ছে উন্নয়ন ব্যয়ের সুযোগ

গত এক দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধ ১০২ শতাংশ বেড়েছে। অথচ একই সময়ে সরকারি রাজস্ব বেড়েছে মাত্র ৩৯ শতাংশ।

এর ফলে সরকারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা দ্রুত কমছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য বিমোচন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও জলবায়ু অভিযোজন খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংকট তৈরি হচ্ছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৭৩ শতাংশ উন্নয়নশীল দেশের আর্থিক সক্ষমতা আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে।

খেলাপি ঋণের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন

কী হতে পারে সমাধান

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অর্থের প্রবাহ বাড়ালেই হবে না, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থায়নের খরচও কমাতে হবে। আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন প্রয়োজন, যাতে এসব দেশ কম সুদে এবং সহজ শর্তে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।

অন্যথায় উন্নয়নশীল দেশগুলো একদিকে উন্নয়নের জন্য বেশি অর্থের প্রয়োজন অনুভব করবে, অন্যদিকে সেই অর্থ সংগ্রহে আরও বেশি খরচ বহন করতে বাধ্য হবে। এতে ২০৩০ সালের বৈশ্বিক উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।