গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সহিংসতা থামেনি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় হামলা, গোলাবর্ষণ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটছে, যা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সাম্প্রতিক হামলায় বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা
গাজার মধ্যাঞ্চল ও গাজা সিটির বিভিন্ন শহর এবং শরণার্থী শিবিরে গত কয়েক দিনে একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় নতুন করে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের মতে, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
দক্ষিণ গাজায় প্রাণহানি
বুধবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় একটি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, বাস্তুচ্যুত মানুষের বসবাস করা একটি উপকূলীয় তাঁবু শিবিরের কাছে অবস্থানরত কয়েকজনকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা এখনো হামাস ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে গাজার ভেতরে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পরিমাণও বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।
সপ্তাহান্তে আরও অভিযান
সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সপ্তাহান্তে চালানো কয়েকটি অভিযানে দুই সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এসব অভিযানের মাধ্যমে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দাবি করা হয়েছে।
যুদ্ধের দীর্ঘ ছায়া

গাজায় চলমান সংঘাতের কারণে মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের এই যুদ্ধ সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সংঘাত দ্রুতই বড় আকার ধারণ করে। এরপর থেকে অঞ্চলটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, প্রাণহানি এবং মানবিক বিপর্যয় অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী শান্তি এখনো অনেক দূরের লক্ষ্য বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















