যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সদ্য ঘোষিত সমঝোতাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা এখনো পূর্ণাঙ্গ কোনো পারমাণবিক চুক্তি নয়; বরং এটি একটি যুদ্ধবিরতি এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ তৈরি করার উদ্যোগ।
নতুন সমঝোতার মূল বিষয়
নতুন সমঝোতার আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এখনো ইউরেনিয়াম মজুত, সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম, পারমাণবিক স্থাপনার ভবিষ্যৎ কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
২০১৫ সালের চুক্তির ছায়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করে আসছেন। তাঁর দাবি ছিল, সেই চুক্তি ইরানকে দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্রের পথ থেকে পুরোপুরি সরাতে পারেনি। এখন নতুন সমঝোতার মাধ্যমে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে তাঁর উদ্যোগ আগের চুক্তির চেয়ে বেশি কার্যকর এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
কঠিন আলোচনা সামনে
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামনে থাকা আলোচনা অত্যন্ত জটিল। ২০১৫ সালের চুক্তি চূড়ান্ত করতে প্রায় ১৮ মাস সময় লেগেছিল এবং এতে শতাধিক পৃষ্ঠাজুড়ে প্রযুক্তিগত শর্ত ও নজরদারি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এবার পরিস্থিতি আরও কঠিন, কারণ ইরানের কাছে আগের তুলনায় অনেক বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে এবং তা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো জরুরি।
ইরানের শক্ত অবস্থান

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানও আগের মতো দুর্বল অবস্থানে নেই। দেশটি হরমুজ প্রণালির ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় আঘাত হানার সক্ষমতাও তেহরান দেখিয়েছে। ফলে আলোচনার টেবিলে উভয় পক্ষই নিজ নিজ শক্তি নিয়ে উপস্থিত হচ্ছে।
চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে
নতুন সমঝোতায় এখনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা মানবাধিকার ইস্যু স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এসব প্রশ্নের সমাধান না হলে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ইরানের বর্তমান ইউরেনিয়াম মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সামনের ৬০ দিনকে তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই সময়ের আলোচনায় যদি দুই দেশ বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করতে পারে, তাহলে নতুন চুক্তি অতীতের উদ্যোগগুলোর চেয়ে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হতে পারে। তবে আপাতত সমঝোতা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সবচেয়ে কঠিন কাজটি এখনো বাকি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















