ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। বৈঠকে বিশেষভাবে উঠে আসে হরমুজ প্রণালিতে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে লাখো ভারতীয় নাবিক দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে কাজ করা এসব নাবিকের নিরাপত্তা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাম্প্রতিক সমঝোতা বাস্তবায়নের সময় নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান
বৈঠকে মোদি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং বলেন, এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি ও ট্রাম্প উভয়েই একমত হন যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খোলা রাখা জরুরি।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়। ফলে সেখানে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনা নিয়েও কথা হয়। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তিনি মোদিকে কঠিন কিন্তু দক্ষ আলোচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
দুই দেশ চলতি বছরের শুরুতে একটি বাণিজ্য সমঝোতার বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করলেও কিছু নীতিগত ও কারিগরি বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে চূড়ান্ত স্বাক্ষর এখনও বাকি রয়েছে।
সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক নানা আলোচনা ও জল্পনার মধ্যেও ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দেন যে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, তার প্রশাসনের সময়ে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেই থাকবে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে ভারত সফরের ইচ্ছার কথাও জানান।
সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র
বৈঠকের পর মোদি জানান, দুই নেতা বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, পশ্চিম এশিয়ার শান্তি এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয়ই বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল। দুই দেশের নেতৃত্বের ইতিবাচক বার্তা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















