০৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরে মালয়েশিয়ার নতুন নজরদারি শক্তি, আকাশে যুক্ত হলো ‘অবিরাম চোখ’ আনকা-এস মালয়েশিয়ায় একক মায়ের সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার ছাড়াল, দারিদ্র্য ও জীবনযুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে চীনের নতুন বার্তা: দেশের টাকা দেশে রাখুন, বিদেশে বিনিয়োগে বাড়ছে কড়াকড়ি মালয়েশিয়ায় ডিজেলে বাড়ছে পাম অয়েলের ব্যবহার, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, লেবাননে যুদ্ধবিরতির দাবিতে জি-৭ নেতারা সিঙ্গাপুরের নেতৃত্বে আসিয়ানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন যুগ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও তথ্যপ্রবাহে জোর ভারতে  টমেটো-পেঁয়াজ-আলুর দামে আগুন, কৃষকের হাতে নেই ন্যায্য মূল্য পশ্চিমবঙ্গে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রাজপথে মমতা, হকারদের পক্ষে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন কোটা থেকে রাহুলের শিক্ষা বার্তা: ‘স্বপ্ন গড়ার বদলে শিক্ষাব্যবস্থা চাপ ও খরচ বাড়াচ্ছে’ টেলিগ্রামে প্রশ্নফাঁস আতঙ্ক, সতর্কবার্তার পরই ভারতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে হরমুজ প্রণালি ও ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা গুরুত্ব পেল

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। বৈঠকে বিশেষভাবে উঠে আসে হরমুজ প্রণালিতে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে লাখো ভারতীয় নাবিক দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে কাজ করা এসব নাবিকের নিরাপত্তা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাম্প্রতিক সমঝোতা বাস্তবায়নের সময় নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান

বৈঠকে মোদি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং বলেন, এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি ও ট্রাম্প উভয়েই একমত হন যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খোলা রাখা জরুরি।

PM flags sailors' safety at G7 in Trump's presence: Several Indians lost  their lives - India Today

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়। ফলে সেখানে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনা নিয়েও কথা হয়। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তিনি মোদিকে কঠিন কিন্তু দক্ষ আলোচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

দুই দেশ চলতি বছরের শুরুতে একটি বাণিজ্য সমঝোতার বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করলেও কিছু নীতিগত ও কারিগরি বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে চূড়ান্ত স্বাক্ষর এখনও বাকি রয়েছে।

সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক নানা আলোচনা ও জল্পনার মধ্যেও ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দেন যে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, তার প্রশাসনের সময়ে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেই থাকবে।

PM Modi raises safety of seafarers with Trump

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে ভারত সফরের ইচ্ছার কথাও জানান।

সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র

বৈঠকের পর মোদি জানান, দুই নেতা বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, পশ্চিম এশিয়ার শান্তি এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয়ই বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল। দুই দেশের নেতৃত্বের ইতিবাচক বার্তা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ চীন সাগরে মালয়েশিয়ার নতুন নজরদারি শক্তি, আকাশে যুক্ত হলো ‘অবিরাম চোখ’ আনকা-এস

মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে হরমুজ প্রণালি ও ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা গুরুত্ব পেল

০১:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। বৈঠকে বিশেষভাবে উঠে আসে হরমুজ প্রণালিতে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে লাখো ভারতীয় নাবিক দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে কাজ করা এসব নাবিকের নিরাপত্তা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাম্প্রতিক সমঝোতা বাস্তবায়নের সময় নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান

বৈঠকে মোদি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং বলেন, এ অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি ও ট্রাম্প উভয়েই একমত হন যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খোলা রাখা জরুরি।

PM flags sailors' safety at G7 in Trump's presence: Several Indians lost  their lives - India Today

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়। ফলে সেখানে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনা নিয়েও কথা হয়। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তিনি মোদিকে কঠিন কিন্তু দক্ষ আলোচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

দুই দেশ চলতি বছরের শুরুতে একটি বাণিজ্য সমঝোতার বিষয়ে অগ্রগতি অর্জন করলেও কিছু নীতিগত ও কারিগরি বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে চূড়ান্ত স্বাক্ষর এখনও বাকি রয়েছে।

সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক নানা আলোচনা ও জল্পনার মধ্যেও ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দেন যে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, তার প্রশাসনের সময়ে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেই থাকবে।

PM Modi raises safety of seafarers with Trump

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে ভারত সফরের ইচ্ছার কথাও জানান।

সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্র

বৈঠকের পর মোদি জানান, দুই নেতা বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, পশ্চিম এশিয়ার শান্তি এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয়ই বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল। দুই দেশের নেতৃত্বের ইতিবাচক বার্তা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।