০৩:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরে মালয়েশিয়ার নতুন নজরদারি শক্তি, আকাশে যুক্ত হলো ‘অবিরাম চোখ’ আনকা-এস মালয়েশিয়ায় একক মায়ের সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার ছাড়াল, দারিদ্র্য ও জীবনযুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে চীনের নতুন বার্তা: দেশের টাকা দেশে রাখুন, বিদেশে বিনিয়োগে বাড়ছে কড়াকড়ি মালয়েশিয়ায় ডিজেলে বাড়ছে পাম অয়েলের ব্যবহার, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, লেবাননে যুদ্ধবিরতির দাবিতে জি-৭ নেতারা সিঙ্গাপুরের নেতৃত্বে আসিয়ানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন যুগ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও তথ্যপ্রবাহে জোর ভারতে  টমেটো-পেঁয়াজ-আলুর দামে আগুন, কৃষকের হাতে নেই ন্যায্য মূল্য পশ্চিমবঙ্গে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রাজপথে মমতা, হকারদের পক্ষে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন কোটা থেকে রাহুলের শিক্ষা বার্তা: ‘স্বপ্ন গড়ার বদলে শিক্ষাব্যবস্থা চাপ ও খরচ বাড়াচ্ছে’ টেলিগ্রামে প্রশ্নফাঁস আতঙ্ক, সতর্কবার্তার পরই ভারতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

টেলিগ্রামে প্রশ্নফাঁস আতঙ্ক, সতর্কবার্তার পরই ভারতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির অভিযোগে জনপ্রিয় বার্তাবিনিময় প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারত সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যাপটির কিছু বৈশিষ্ট্য অপব্যবহারের বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আসায় শেষ পর্যন্ত সাময়িকভাবে দেশজুড়ে টেলিগ্রামের প্রবেশাধিকার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কেন নেওয়া হলো এই পদক্ষেপ

কর্তৃপক্ষের মতে, আসন্ন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার পুনঃপরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ভুয়া প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কিছু অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছিল।

এ অবস্থায় ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধ এবং পরীক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সরকার হস্তক্ষেপ করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল গুজব ও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি হওয়া অস্থিরতা থামানো।

Telegram ban in India Centre to tell Delhi High Court of failures | India  News - News18

কীভাবে অপব্যবহার হচ্ছিল প্ল্যাটফর্ম

তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু চক্র টেলিগ্রামের গ্রুপ ও চ্যানেলের নির্দিষ্ট সুবিধা ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের মিথ্যা প্রমাণ তৈরি করছিল। পরীক্ষার কয়েক দিন আগে একটি সাধারণ নথি আপলোড করে সেটিকে প্রশ্নফাঁসের ইঙ্গিতপূর্ণ নামে প্রকাশ করা হতো।

পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেই নথি পরিবর্তন করে প্রকৃত প্রশ্নপত্র যুক্ত করা হতো। ফলে বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো প্রশ্নপত্রটি পরীক্ষার আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল। এই কৌশল ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল।

সতর্কবার্তার পরও পরিবর্তন হয়নি

কর্তৃপক্ষের দাবি, টেলিগ্রামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য সংশোধনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে সম্পাদিত বার্তার তথ্য আরও স্পষ্টভাবে দেখানো এবং বিভ্রান্তিকর গ্রুপ নাম তৈরির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয় ছিল।

Centre Blocks Telegram in India Till June 22 Ahead of NEET UG 2026 Re  Examination

তবে দীর্ঘ সময়েও কার্যকর পরিবর্তন না আসায় উদ্বেগ আরও বাড়ে। পরে প্ল্যাটফর্মটি কিছু পরিবর্তনের আশ্বাস দিলেও ব্যবহারকারীদের কাছে তা দৃশ্যমান হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি

পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, শুধু প্রশ্নফাঁস নয়, প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাও বড় ধরনের অপরাধ। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। অন্যথায় প্রযুক্তির সুযোগ ব্যবহার করে অসাধু গোষ্ঠীগুলো শিক্ষাব্যবস্থা ও জনমনে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ চীন সাগরে মালয়েশিয়ার নতুন নজরদারি শক্তি, আকাশে যুক্ত হলো ‘অবিরাম চোখ’ আনকা-এস

টেলিগ্রামে প্রশ্নফাঁস আতঙ্ক, সতর্কবার্তার পরই ভারতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

০২:০১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির অভিযোগে জনপ্রিয় বার্তাবিনিময় প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারত সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যাপটির কিছু বৈশিষ্ট্য অপব্যবহারের বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আসায় শেষ পর্যন্ত সাময়িকভাবে দেশজুড়ে টেলিগ্রামের প্রবেশাধিকার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কেন নেওয়া হলো এই পদক্ষেপ

কর্তৃপক্ষের মতে, আসন্ন মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার পুনঃপরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ভুয়া প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কিছু অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছিল।

এ অবস্থায় ভুয়া তথ্যের বিস্তার রোধ এবং পরীক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সরকার হস্তক্ষেপ করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল গুজব ও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি হওয়া অস্থিরতা থামানো।

Telegram ban in India Centre to tell Delhi High Court of failures | India  News - News18

কীভাবে অপব্যবহার হচ্ছিল প্ল্যাটফর্ম

তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু চক্র টেলিগ্রামের গ্রুপ ও চ্যানেলের নির্দিষ্ট সুবিধা ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের মিথ্যা প্রমাণ তৈরি করছিল। পরীক্ষার কয়েক দিন আগে একটি সাধারণ নথি আপলোড করে সেটিকে প্রশ্নফাঁসের ইঙ্গিতপূর্ণ নামে প্রকাশ করা হতো।

পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেই নথি পরিবর্তন করে প্রকৃত প্রশ্নপত্র যুক্ত করা হতো। ফলে বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো প্রশ্নপত্রটি পরীক্ষার আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল। এই কৌশল ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল।

সতর্কবার্তার পরও পরিবর্তন হয়নি

কর্তৃপক্ষের দাবি, টেলিগ্রামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য সংশোধনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে সম্পাদিত বার্তার তথ্য আরও স্পষ্টভাবে দেখানো এবং বিভ্রান্তিকর গ্রুপ নাম তৈরির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয় ছিল।

Centre Blocks Telegram in India Till June 22 Ahead of NEET UG 2026 Re  Examination

তবে দীর্ঘ সময়েও কার্যকর পরিবর্তন না আসায় উদ্বেগ আরও বাড়ে। পরে প্ল্যাটফর্মটি কিছু পরিবর্তনের আশ্বাস দিলেও ব্যবহারকারীদের কাছে তা দৃশ্যমান হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি

পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, শুধু প্রশ্নফাঁস নয়, প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাও বড় ধরনের অপরাধ। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। অন্যথায় প্রযুক্তির সুযোগ ব্যবহার করে অসাধু গোষ্ঠীগুলো শিক্ষাব্যবস্থা ও জনমনে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।