পশ্চিমবঙ্গে হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চলমান উচ্ছেদ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি রাজপথে নেমেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের বড় উপস্থিতি দেখা যায়।
বুধবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার এসপ্ল্যানেড এলাকায় পৌঁছে দলীয় নেতাদের সঙ্গে মিছিল শুরু করেন। প্রায় এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মিছিলটি সুবোধ মল্লিক স্কয়ার পর্যন্ত যায়। তার উপস্থিতিকে ঘিরে এলাকায় বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে এবং কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনাও তীব্র হয়ে ওঠে।
উচ্ছেদ নিয়ে তৃণমূলের অবস্থান
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, রাজ্যজুড়ে পরিচালিত হকার উচ্ছেদ অভিযান অন্যায়, অমানবিক এবং আইনসম্মত নয়। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবিকা ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে তারা আপস করবে না।

দলের নেতারা মনে করছেন, বহু বছর ধরে ব্যবসা করে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা হলে তাদের জীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে। তাই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানানো হচ্ছে।
নীরব থাকলেন মমতা
প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তার উপস্থিতিকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, হকার ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে থাকার বার্তাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি
রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাজার, রেলস্টেশন এবং বিভিন্ন সরকারি জমিতে অবৈধ দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু হয়েছে। এই অভিযানে ইতোমধ্যে হাজারো হকার ও বসতি স্থাপনকারী উচ্ছেদের মুখে পড়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

বিরোধী দলগুলোও এ নিয়ে সরব হয়েছে। তাদের বক্তব্য, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো মানবিক নয়। বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও দেখা গেছে।
সরকারের যুক্তি কী
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান দখলমুক্ত রাখা জরুরি। নগরজীবনে যানজট ও জনভোগান্তি কমাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, কলকাতার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত দখল পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছিল।
সরকারের মতে, এটি শুধু জীবিকার বিষয় নয়, বরং নগর ব্যবস্থাপনা ও জনস্বার্থের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তবে বিরোধীরা মনে করছে, মানুষের জীবিকার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে সমাধান খুঁজতে হবে।
হকার উচ্ছেদ ইস্যুতে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সামনে এই বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















