০৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরে মালয়েশিয়ার নতুন নজরদারি শক্তি, আকাশে যুক্ত হলো ‘অবিরাম চোখ’ আনকা-এস মালয়েশিয়ায় একক মায়ের সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার ছাড়াল, দারিদ্র্য ও জীবনযুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে চীনের নতুন বার্তা: দেশের টাকা দেশে রাখুন, বিদেশে বিনিয়োগে বাড়ছে কড়াকড়ি মালয়েশিয়ায় ডিজেলে বাড়ছে পাম অয়েলের ব্যবহার, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, লেবাননে যুদ্ধবিরতির দাবিতে জি-৭ নেতারা সিঙ্গাপুরের নেতৃত্বে আসিয়ানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন যুগ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও তথ্যপ্রবাহে জোর ভারতে  টমেটো-পেঁয়াজ-আলুর দামে আগুন, কৃষকের হাতে নেই ন্যায্য মূল্য পশ্চিমবঙ্গে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রাজপথে মমতা, হকারদের পক্ষে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন কোটা থেকে রাহুলের শিক্ষা বার্তা: ‘স্বপ্ন গড়ার বদলে শিক্ষাব্যবস্থা চাপ ও খরচ বাড়াচ্ছে’ টেলিগ্রামে প্রশ্নফাঁস আতঙ্ক, সতর্কবার্তার পরই ভারতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

সিঙ্গাপুরের নেতৃত্বে আসিয়ানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন যুগ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও তথ্যপ্রবাহে জোর

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর। ২০২৭ সালে আসিয়ানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কর্মী এবং সরকারগুলোর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে। পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়ে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাপনার নীতিগত সমন্বয় গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়ে সিঙ্গাপুরের ডিজিটাল উন্নয়ন ও তথ্যবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, বর্তমান আসিয়ান নেতৃত্বের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় তারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও সক্ষম করে তুলতে কাজ করবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি

মন্ত্রী বলেন, অনেক দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতার কথা বললেও বাস্তবে পুরো প্রযুক্তি ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরের মালিকানা অর্জন অধিকাংশ দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। বরং দেশগুলোর উচিত নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং শক্তিশালী স্থানীয় প্রযুক্তি পরিবেশ গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেওয়া।

তিনি জানান, সিঙ্গাপুর আঞ্চলিকভাবে ভাষাভিত্তিক প্রযুক্তি, নীতিগত সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে আরও বিনিয়োগ করবে, যাতে পুরো অঞ্চলের দেশগুলো সমানভাবে উপকৃত হতে পারে।

ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত বিস্তার

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল ডিজিটাল বাজারগুলোর একটি। ই-কমার্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের ফলে অঞ্চলটির ডিজিটাল অর্থনীতির আকার দ্রুত বাড়ছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে অঞ্চলের তথ্যকেন্দ্রের সক্ষমতা তিন গুণেরও বেশি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে সমুদ্রতলদেশীয় যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। তবে শুধু অবকাঠামো নয়, কার্যকর সফটওয়্যার এবং নীতিমালাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভাষাভিত্তিক প্রযুক্তির সাফল্য

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন ভাষাকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি উন্মুক্ত ভাষা মডেলের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান এটি ব্যবহার করে নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা ও পণ্য উন্নয়ন করছে।

তথ্যপ্রবাহে বাধা কমানোর আহ্বান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশে তথ্যকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি তৈরির জন্য মানসম্মত তথ্যের প্রয়োজন। বিশেষ করে একাধিক দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সীমান্ত পেরিয়ে তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Singapore to advance AI agenda as 2027 Asean chair by investing in shared  digital public goods, rallying smaller firms - The Business Times

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত তথ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কিছু নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হলেও অতিরিক্ত কঠোর বিধিনিষেধ নতুন উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এতে বিশেষ করে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়ে।

আসিয়ানে অভিন্ন ডিজিটাল কাঠামোর উদ্যোগ

আসিয়ানের প্রস্তাবিত ডিজিটাল অর্থনীতি কাঠামো চুক্তি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে ব্যবসা পরিচালনা, বিনিয়োগ এবং তথ্য আদান-প্রদান অনেক সহজ হবে।

তার মতে, বিভিন্ন দেশের আইন ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এ বাধা দূর করা গেলে পুরো অঞ্চল একসঙ্গে আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে।

তিনি বলেন, আসিয়ানের শক্তি কখনো একরকম হওয়ার মধ্যে নয়, বরং ভিন্নতা বজায় রেখেও একসঙ্গে কাজ করার মধ্যেই এর প্রকৃত সাফল্য নিহিত।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ চীন সাগরে মালয়েশিয়ার নতুন নজরদারি শক্তি, আকাশে যুক্ত হলো ‘অবিরাম চোখ’ আনকা-এস

সিঙ্গাপুরের নেতৃত্বে আসিয়ানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন যুগ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও তথ্যপ্রবাহে জোর

০২:২২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও বিস্তৃত করতে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর। ২০২৭ সালে আসিয়ানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কর্মী এবং সরকারগুলোর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে। পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়ে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাপনার নীতিগত সমন্বয় গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়ে সিঙ্গাপুরের ডিজিটাল উন্নয়ন ও তথ্যবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, বর্তমান আসিয়ান নেতৃত্বের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় তারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও সক্ষম করে তুলতে কাজ করবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি

মন্ত্রী বলেন, অনেক দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণতার কথা বললেও বাস্তবে পুরো প্রযুক্তি ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরের মালিকানা অর্জন অধিকাংশ দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। বরং দেশগুলোর উচিত নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং শক্তিশালী স্থানীয় প্রযুক্তি পরিবেশ গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেওয়া।

তিনি জানান, সিঙ্গাপুর আঞ্চলিকভাবে ভাষাভিত্তিক প্রযুক্তি, নীতিগত সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে আরও বিনিয়োগ করবে, যাতে পুরো অঞ্চলের দেশগুলো সমানভাবে উপকৃত হতে পারে।

ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত বিস্তার

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল ডিজিটাল বাজারগুলোর একটি। ই-কমার্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের ফলে অঞ্চলটির ডিজিটাল অর্থনীতির আকার দ্রুত বাড়ছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে অঞ্চলের তথ্যকেন্দ্রের সক্ষমতা তিন গুণেরও বেশি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে সমুদ্রতলদেশীয় যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। তবে শুধু অবকাঠামো নয়, কার্যকর সফটওয়্যার এবং নীতিমালাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভাষাভিত্তিক প্রযুক্তির সাফল্য

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন ভাষাকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি উন্মুক্ত ভাষা মডেলের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান এটি ব্যবহার করে নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা ও পণ্য উন্নয়ন করছে।

তথ্যপ্রবাহে বাধা কমানোর আহ্বান

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশে তথ্যকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি তৈরির জন্য মানসম্মত তথ্যের প্রয়োজন। বিশেষ করে একাধিক দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সীমান্ত পেরিয়ে তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Singapore to advance AI agenda as 2027 Asean chair by investing in shared  digital public goods, rallying smaller firms - The Business Times

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত তথ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কিছু নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হলেও অতিরিক্ত কঠোর বিধিনিষেধ নতুন উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এতে বিশেষ করে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে পড়ে।

আসিয়ানে অভিন্ন ডিজিটাল কাঠামোর উদ্যোগ

আসিয়ানের প্রস্তাবিত ডিজিটাল অর্থনীতি কাঠামো চুক্তি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হবে। ফলে ব্যবসা পরিচালনা, বিনিয়োগ এবং তথ্য আদান-প্রদান অনেক সহজ হবে।

তার মতে, বিভিন্ন দেশের আইন ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এ বাধা দূর করা গেলে পুরো অঞ্চল একসঙ্গে আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে।

তিনি বলেন, আসিয়ানের শক্তি কখনো একরকম হওয়ার মধ্যে নয়, বরং ভিন্নতা বজায় রেখেও একসঙ্গে কাজ করার মধ্যেই এর প্রকৃত সাফল্য নিহিত।