বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে ডিজেলে পাম অয়েলের মিশ্রণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটি ধীরে ধীরে ডিজেলে পাম অয়েলের অংশ ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করছে, যা জ্বালানি সাশ্রয় এবং স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারের এই পদক্ষেপ এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহ সংকটের কারণে অনেক দেশ বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। মালয়েশিয়ার কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের ডিজেল মজুত সংরক্ষণ করাই প্রধান লক্ষ্য।
জ্বালানি সাশ্রয়ে বড় সুবিধা

নতুন নীতির আওতায় ডিজেলে পাম অয়েলভিত্তিক বায়োডিজেলের পরিমাণ বাড়ানো হলে প্রতি মাসে অন্তত ২ কোটি ৩০ লাখ লিটার ডিজেল সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, ডিজেলে পাম অয়েলের অনুপাত প্রতি ১ শতাংশ বাড়লে সমপরিমাণ ডিজেলের ব্যবহার কমে যায়।
দেশটিতে ২০২৪ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ৪৬ কোটি ৫০ লাখ লিটার ডিজেল ব্যবহার হয়েছে। সেই বিবেচনায় নতুন মিশ্রণ পদ্ধতি জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় আনতে পারে।
নিজস্ব উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা
তেল উৎপাদনকারী দেশ হলেও মালয়েশিয়া এখনো জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ পূরণে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। দেশটির দৈনিক প্রায় ৭ লাখ ব্যারেল জ্বালানির চাহিদার মাত্র অর্ধেক নিজস্ব উৎপাদন থেকে আসে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে অভ্যন্তরীণ বাজারেও চাপ তৈরি হয়।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পাম অয়েলকে জ্বালানি খাতে আরও বেশি ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে আমদানি নির্ভরতা কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার চাপও কিছুটা হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাম অয়েল শিল্পে নতুন গতি

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পাম অয়েল রপ্তানিকারক দেশ মালয়েশিয়া। নতুন নীতির ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে বছরে অতিরিক্ত ৩ লাখ টন পাম অয়েলের চাহিদা তৈরি হবে। তবে সরকার জানিয়েছে, এর কারণে রপ্তানিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
দেশটির বায়োডিজেল খাত বর্তমানে শত শত পাম অয়েল মিল, ডজনখানেক পরিশোধনাগার, বায়োডিজেল কারখানা এবং মিশ্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সারা দেশে হাজার হাজার জ্বালানি স্টেশনে এই জ্বালানি সরবরাহ করা হয়।
পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকে অগ্রযাত্রা
সরকার বলছে, ডিজেলে পাম অয়েলের ব্যবহার বাড়ানো শুধু জ্বালানি নিরাপত্তাই জোরদার করবে না, একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহারও বাড়াবে। ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি অঞ্চলে আরও উচ্চমাত্রার বায়োডিজেল ব্যবহার শুরু হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদে ২০৩০ সালের মধ্যে ডিজেলে পাম অয়েলের অংশ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য বায়োডিজেল উৎপাদন ও মিশ্রণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগও বাড়ানো হচ্ছে।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থির থাকলে বায়োডিজেল পরিবহন ও সরবরাহ খাতের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক বিকল্প হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















