মালয়েশিয়ায় একক মায়ের সংখ্যা গত দুই দশকে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। নতুন পরিসংখ্যান বলছে, ২০০০ সালে যেখানে একক মায়ের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার, সেখানে ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪১ হাজার ৭৮৪ জনে। এই প্রবণতা দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একক মায়েদের বড় একটি অংশ নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য হওয়ায় তারা দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তার ঘাটতির মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। এর প্রভাব শুধু মায়েদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তাদের সন্তানদের শিক্ষা, পুষ্টি ও ভবিষ্যৎ জীবনমানেও পড়ছে।
উদ্বেগজনক বাস্তবতা
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সেলাঙ্গর, জোহর ও পেরাক অঞ্চলে একক মায়েদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অনেকেই অনিশ্চিত চাকরি, কম আয় এবং বিভিন্ন কর্মসুবিধা থেকে বঞ্চিত অবস্থায় জীবনযাপন করছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, নারী-প্রধান পরিবারের বেকারত্বের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। অনেক পরিবারের মাসিক আয় ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর মতোও নয়। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে তাদের দীর্ঘ সময় কাজ করতে হচ্ছে, সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, এমনকি আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধারও করতে হচ্ছে।
দারিদ্র্যের চক্রে আটকে পরিবার
গবেষকদের মতে, ২০২১ সালে নারী-প্রধান পরিবারের প্রতি ১০টির মধ্যে প্রায় ৬টি দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছিল। পরবর্তী পর্যবেক্ষণেও এই অবস্থার খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।
একক মায়েদের পরিবারের শিশুদের একটি বড় অংশ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক মা জানিয়েছেন, তাদের সন্তানরা দিনে তিন বেলার কম খাবার খায়। এর ফলে শিশুদের পুষ্টি, শিক্ষাগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
চাকরি ও শিশু পরিচর্যা সবচেয়ে বড় চাহিদা
মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ একক মা শুধু আর্থিক সহায়তা চান না; তারা চান স্থায়ী ও ভালো আয়ের চাকরি। পাশাপাশি সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যা সুবিধার অভাবও তাদের কর্মজীবনে অংশগ্রহণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আয় সহায়তা বৃদ্ধি, মানসম্মত শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে এই পরিবারগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সরকারের সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মালয়েশিয়া সরকার একক মায়েদের জন্য বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম চালু রেখেছে। মাসিক ভাতা, পরিবারভিত্তিক সহায়তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করার চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া আইনি সচেতনতা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু সহায়তা দেওয়া নয়, বরং একক মায়েদের দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তোলা। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















