দক্ষিণ চীন সাগরে নজরদারি আরও জোরদার করতে অত্যাধুনিক মানববিহীন আকাশযান আনকা-এস পরিচালনা শুরু করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, এই ব্যবস্থা হবে এমন এক ‘চোখ’, যা কখনও পলক ফেলে না। ফলে বিশ্বের অন্যতম স্পর্শকাতর সামুদ্রিক অঞ্চলে বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা আরও সহজ হবে।
মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দাতুক সেরি মোহামেদ খালেদ নোরদিন জানান, রয়্যাল মালয়েশিয়ান এয়ার ফোর্সের ১১ নম্বর স্কোয়াড্রনের মাধ্যমে আনকা-এস পরিচালনা শুরু হওয়া দেশের প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নজরদারি সক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি।
নজরদারিতে নতুন সক্ষমতা
প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর মতে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন এলাকাগুলোতেও কার্যকর নজরদারি সম্ভব হবে, যেখানে আগে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ করা কঠিন ছিল। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমা ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অঞ্চলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সামুদ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করবে।

দীর্ঘ সময় আকাশে থাকার ক্ষমতা
মালয়েশিয়া মোট তিনটি আনকা-এস ইউনিট, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং জনবল প্রশিক্ষণসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ সংগ্রহ করেছে। পুরো চুক্তির মূল্য প্রায় ৪২৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন রিঙ্গিত।
আনকা-এস একটানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে অবস্থান করতে পারে এবং প্রায় ৩০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। লাবুয়ান ঘাঁটি থেকে পরিচালিত এই ড্রোন দক্ষিণ চীন সাগরজুড়ে নজরদারি চালাবে।
চোরাচালান ও অবৈধ মাছ শিকারে নজর
কর্তৃপক্ষের মতে, এই আকাশযান চোরাচালান, অবৈধ মাছ শিকার এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী অন্যান্য কার্যক্রম শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আনকা-এস বিভিন্ন আবহাওয়ায় কাজ করতে সক্ষম। ফলে কঠিন পরিবেশেও দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
খরচ কমাবে, সিদ্ধান্ত হবে দ্রুত

নতুন ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হলো এটি সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজের গতিবিধি ও পরিচয় শনাক্ত করতে পারে। এর ফলে সন্দেহজনক অনুপ্রবেশ বা কার্যক্রম দেখা দিলে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
আগে এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিমান বা বড় সামুদ্রিক টহল জাহাজ মোতায়েন করতে হতো, যা ছিল ব্যয়বহুল। আনকা-এস ব্যবহারে সেই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। একই সঙ্গে কোনো জাহাজ প্রকৃত হুমকি কি না, তা আগে যাচাই করে পরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।
আরও ড্রোন কেনার পরিকল্পনা
সরকার ভবিষ্যতে আরও তিনটি আনকা-এস সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করছে। বর্তমানে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ দুটি ইউনিট একসঙ্গে পরিচালনা করা যাবে। অতিরিক্ত ইউনিট যুক্ত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নজরদারির পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দক্ষিণ চীন সাগরে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে আনকা-এস মালয়েশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















